অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে কোষ্ঠকাঠিন্যতে ভুগে থাকেন। এর থেকে রক্ষা পেতে ওষুধ খেয়ে থাকেন, তবে সবসময় ওষুধ খাওয়া সম্ভব হয়না। কিন্তু ওষুধ ছাড়াও ঘরোয়া কিছু উপায়ে কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করা যায়। এর জন্য পাল্টাতে হবে খাবার অভ্যাস। খাবারে কিছু নিয়ম মেনে চললে কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। চলুন তবে জেনে নেয়া যাক সেই খাবারগুলো সম্পর্কে-

আঁশযুক্ত খাবার বেশি খাওয়া:
ফাইবার বা আঁশ আমাদের হজমশক্তিকে ঠিকঠাক রাখে। আর তাই পেটের যেকোনো সমস্যায় আশযুক্ত খাবার, এই যেমন- শাক, সবজি ইত্যাদি খাওয়া উচিত। তাই এই খাবারগুলো নিজের খাদ্যতালিকায় নিয়ে আসুন।

খাদ্যতালিকায় পরিবর্তন না আনা: 
অনেকসময় এক রকমের খাবার গ্রহন করায় আমাদের শরীর অভ্যস্ত হয়ে যায়। তাই নতুন করে কোন খাবার খেলে বা খাদ্যতালিকায় কোনো পরিবর্তন আনলে এতে করে শরীর বিদ্রোহ করে নানা ভাবে। আর এই উপায়গুলোর একটি হল কোষ্ঠকাঠিন্য।

পর্যাপ্ত পানি পান করা: 
অনেকসময় পর্যাপ্ত পানি পান না করার কারণে আমাদের শরীরের ভেতরে খাবার ভালোভাবে হজম করতে পারে না, পরিপাকে সমস্যা হয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়। তাই নিয়মিত প্রচুর পানি পান করুন।

ওজন কমে যাওয়া বা বেড়ে যাওয়া:
যতটা ওজন আপনার শরীরের জন্য ঠিকঠাক তার চাইতে বেশি ওজন হলে বা কম ওজন হলে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। আর এই সমস্যাগুলো সমাধান করার পরেও যদি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর না হয় তাহলে নীচের পানীয়গুলো গ্রহন করার চেষ্টা করুন। এতে করে দূর হয়ে যাবে আপনার কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা।

  • মধুর সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে পান করলে এর থেকে রেহাই পাওয়া যায়। এছাড়া শুধুমাত্র লেবুর রসও কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা রোধ করতে খুব সহায়তা করে থাকে। এজন্য হালকা কুসুম গরম পানিতে লেবু চিপে নিন। চাইলে এতে সামান্য লবণ ও মধু মিশিয়ে খেতে পারেন। সকালে একদমই খালি পেটে লেবু পানি পান করুন। সন্ধ্যার দিকে আরেক গ্লাস পান করুন। সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
  • প্রতিদিন একটু করে মধু খেতে ভুলবেন না। খুব সাধারণ অথচ কষ্টকর এই সমস্যায় মধু খুব উপকারি। প্রতিদিন মনে করে ২ থেকে ৩ বার এক চামচ করে মধু খান। এছাড়া আরো ভালো ফলের জন্যে কুসুম গরম পানির সঙ্গে লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে পান করুন। তাতে করে খুব দ্রুত কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর হবে তাড়াতাড়ি।
  • কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা রোধ করার অন্যতম সহজ উপায় হল ক্যাস্টর অয়েল। সকালে খালি পেটে ২ চামচ ক্যাস্টর অয়েল পান করুন। দেখবেন খুব দ্রুতই আপনার পেটের সমস্যা রোধ হয়ে যাবে। তবে কেবল ক্যাস্টর অয়েল নয়, চাইলে কোনো ফলের জুসের সঙ্গে ক্যাস্টর অয়েল মিশিয়ে পান করতে পারেন।
  • কেবল কোষ্ঠকাঠিন্য নয়, পেটকে সুস্থ রাখতে এবং হজমশক্তি বৃদ্ধি করতে পালং শাক এর উপকারিতা অনেক বেশি। আর তাই কোষ্ঠ কাঠিন্য সমস্যা যদি সমাধান করতে চান তাহলে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় পালং শাক রাখুন। চাইলে এটি সালাদের মতো করে খেতে পারেন কিংবা রান্না করেও খেতে পারেন। আর যদি আপনার কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা খুব বেশি জটিল আকার ধারণ করে থাকে তাহলে, পালং শাক জুস বানিয়ে অর্ধেক পানির সঙ্গে মিশিয়ে প্রতিদিন দুইবেলা নিয়ম করে পান করুন। কেবল এই একটি সমস্যাতেই নয়, পালং শাক আপনার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার সঙ্গে সঙ্গে চোখের স্বাস্থ্যকেও ঠিক রাখবে।
  • এ্যালকোহল, অতিরিক্ত ক্যালসিয়ামের ট্যাবলেট, শুষ্ক খাবার ইত্যাদি। খাবার তালিকা থেকে সরিয়ে ফেলুন। এই খাবারগুলো কোষ্ঠকাঠিন্য তৈরিতে সাহায্য করে। আর তার বদলে নিয়ে আসুন-স্ট্রবেরী, শীমের কালো বিচি, ব্রোকোলি, সিরিয়াল, ওটমিল ইত্যাদি খাবারের মতন খাবার। এগুলো খুব সহজেই আপনার শরীরকে অনেক বেশি খাদ্য পরিপাকে সক্ষম করে তুলবে আর কমিয়ে দেবে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাকে একেবারের মতন!