কোন দল কতবার জিতেছে বিশ্বকাপ

বিষয়: কাতার ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২২
Img
কোন দল কতবার জিতেছে বিশ্বকাপ

রোববার (২০ নভেম্বর) পর্দা উঠছে বিশ্বকাপ ফুটবলের ২২তম আসরের। এই আসরের আয়োজক দেশ কাতার। মরুভূমির গরমের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনা। আর দলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উড়ছেন ভক্তরাও। কাতারের পাঁচ শহরের ৮ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের সর্বমোট ৬৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। ২০ নভেম্বর থেকে শুরু হয়ে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে বিশ্বকাপের এই উন্মাদনা। 

১৯৩০ সালে প্রথম বিশ্বকাপ আয়োজিত হয় উরুগুয়েতে। সেবার আর্জেন্টিনাকে ৪-২ গোলে হারিয়ে ট্রফি জিতে নিজেদের ঘরেই রেখে দেয় স্বাগতিকরা। সারা বিশ্বের ফুটবল প্রেমীরা অধির আগ্রহে অপেক্ষায় থাকে চার বছর পর পর এই বিশ্ব আসর উপভোগ করার জন্য। অবশেষে চার বছরের প্রতীক্ষার পর্ব শেষ করে আগামী ২০ নভেম্বর থেকে কাতারে পর্দা উঠছে ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ খ্যাত ফুটবল বিশ্বকাপের ২২ তম আসর। 

বিশ্ব শ্রেষ্ঠত্বের এই মহারণে সোনার ট্রফি ঘরে তুলতে ইতোমধ্যেই প্রস্তুত ৩২ টি দেশ। রোববার (২০ নভেম্বর) বাংলাদেশ সময় ওইদিন রাত ৮টায় বেজে উঠবে সেই দামামা। অনুষ্ঠান চলবে টানা ৪৫ মিনিট। পরে রাত ১০টায় উদ্বোধনী ম্যাচে ইকুয়েডরের বিপক্ষে মাঠে নামবে স্বাগতিক কাতার। তবে কার ঘরে যাবে এবারের বিশ্বকাপ তা হয়তো পরিস্থিতিই বলে দিবে।

১৯৩০ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত শেষ হওয়া বিশ্বকাপেট ট্রফি কোন দেশ কতবার ঘরে তুলেছে অনেকেরই তার জানা নেই। তবে প্রবাসীর দিগন্ত পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো কোন দেশে কতবার গেল সোনার এই ট্রফি।

ব্রাজিল-৫ 
বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল দল এখন পর্যন্ত ব্রাজিল। এর আগে ২১টি ফাইনালের ৭টিতেই খেলেছে তারা। জিতেছে ৫টি শিরোপা। তারাই একমাত্র দল যারা সবগুলো আসরেই অংশ নিয়েছে। ১৯৫৮ সালের সুইডেন বিশ্বকাপে প্রথম শিরোপার স্বাদ পায় সেলেসাওরা। এরপর ১৯৬২ সালে আবারও শিরোপা জয় করে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। ৩য় বারের মত আবারও ১৯৭০ সালে বিশ্বকাপ নিজেদের ঘরে তুলে নেন তারা। এরপর টানা ২৪ বছর শিরোপার স্বাদ না পেলেও ১৯৯৪ সালে কিংবদন্তি রোমারিও জাদুতে ফের সেই স্বাদ পায় তারা। ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে জিদানের ফ্রান্সের কাছে হেরে শিরোপা স্বপ্ন ধূলিসাৎ হলেও ২০০২ সালে নিজেদের পঞ্চম বারের মতো বিশ্বকাপ ঘরে তোলে রোনালদো, রিভালদো, রোনালদিনহো, বেবেতো, রবার্তো কার্লোস, কাফু সমৃদ্ধ ব্রাজিল। 

জার্মানি-৪ 
সবচেয়ে বেশি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলা দল জার্মানি। এখন পর্যন্ত ৮বার ফাইনাল খেলেছে দলটি। ১৯৫৪ সালের সুইজারল্যান্ড বিশ্বকাপে প্রথম শিরোপার স্বাদ পায় জার্মানরা। এরপর ২০ বছর পর ১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপে জার্মানদের হাতে উঠে শিরোপা। ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ ঘরে তোলে জার্মানরা। সর্বশেষ ২০১৪ সালে ২৪ বছর পর নিজেদের চতুর্থ বিশ্বকাপ শিরোপা জয় করে তারা।

ইতালি-৪ 
ছয়বার বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলে ৪ বার শিরোপা জয় করে ব্রাজিল-জার্মানির পাশাপাশি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সেরা সফল দলের তালিকায় ইতালি। ১৯৩৪ ও ১৯৩৮ সালে টানা দুই বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলে নিজের ঘরে কাপ তুলে নেন তারা। এরপর তৃতীয় শিরোপা জিততে ৪৪ বছর অপেক্ষায় থাকতে হয় ইতালিকে। ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে তারা পশ্চিম জার্মানিকে হারিয়ে তৃতীয় শিরোপা জিতে নেয়। এরপর আরও ২৪ বছর পর ২০০৬ সালে চতুর্থ শিরোপা ঘরে তোলে ইতালি। 

আর্জেন্টিনা-২
বিশ্বকাপের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র দুটিতে জিতে শিরোপা জয় করে আর্জেন্টিনা। ১৯৭৮ সালের ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ের গোলে ৩-১ ব্যবধানে নেদারল্যান্ডসকে হারায় তারা। এরপর মাত্র ৮ বছর পর ১৯৮৬ সালের আসরে দিয়েগো ম্যারাডোনার নেতৃত্বে নিজেদের দ্বিতীয় ও এখন পর্যন্ত শেষ শিরোপা জিতেছে আর্জেন্টাইনরা। 

উরুগুয়ে-২
বিশ্বকাপের ফাইনালে দুইবার পা রেখে দুইবারই শিরোপা জেতার স্বাদ পায় উরুগুয়ে। ১৯৩০ সালে প্রথম বিশ্বকাপ আসরে ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ৪-২ গোলে হারিয়ে ট্রফি জিতে যায় স্বাগতিক উরুগুয়ে।  ১৯৫০ সালের ওই আসরে তারা দ্বিতীয়বারের মতো জুলে রিমে ট্রফি জয়ে করে। 

ইংল্যান্ড-১ 
নিজেদের আধুনিক বিশ্বকাপের আবিষ্কারক হিসেবে দাবি করলেও তারা তাদের একমাত্র শিরোপাটি অর্জন করে ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপে। 

ফ্রান্স-৩ 
১৯৯৮ সালে নিজেদের মাটিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে প্রথম শিরোপাটি জিতে ফ্রান্স। এরপর ২০১৮  সালে ফ্রান্স ৪-২ গোলে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে ২য় এবং সর্বশেষ অনুষ্ঠিত ২০১৮ সালের ট্রফিও নিজেদের ঘরে তুলে নেন তারা।

স্পেন-১ 
স্পেন দল ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে নিজেদের একমাত্র শিরোপাটি জয় করে। ফাইনালে তারা নেদারল্যান্ডসকে ১-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো শিরোপা ঘরে তোলে। 

অবশেষে প্রতীক্ষা ২২ তম আসরের ট্রফি যাবে কার ঘরে। আগামী ২০ নভেম্বর থেকে শুরু হয়ে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে বিশ্বকাপের এই আসর। এবার ৮টি গ্রুপে মোট ৩২টি দল অংশ নিবে লড়াইয়ের প্রথম পর্বে। এখান থেকে প্রতি গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন আর রানার আপ মিলিয়ে ১৬ দল খেলবে দ্বিতীয় পর্বে। তারপরে কোয়ার্টার ফাইনালে ৮, সেমিফাইনালে ৪ এবং সবশেষে ফাইনাল খেলবে ২ দল।


প্রবাসীরদিগন্ত/ইমি

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার