কেন ‘আত্মহত্যা’ করলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী পায়েল?

Img

বুধবার সকালে ভারতের শিলিগুড়ির এয়ারভিউ মোড়ের চার্চ রোডের কাছের একটি হোটেলের ঘরের দরজা ভেঙে মিলল অভিনেত্রী পায়েল চক্রবর্তীর দেহ। এই মৃত্যু ঘিরে রহস্য দানা বেঁধেছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন পায়েল। কিন্তু কী এমন ঘটল যে পায়েলকে আত্মহত্যা করতে হল, তা নিয়ে গুঞ্জন উঠেছে টালিপাড়ায়।

আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়, টালিউডে কাজ করার কারণে সংসারে বেশি সময় দিতে পারছিলেন না পায়েল। এই অভিযোগেই ২০০৬-এ পায়েলের বিরুদ্ধে বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা রুজু করেন তার স্বামী। তাদের ন’ বছরের একটি ছেলে আছে, সে পায়েলের স্বামীর সঙ্গে টালিগঞ্জে থাকে। পায়েলের পরিবারের তরফে দাবি, ছেলেকে কাছে না পাওয়ায় তীব্র মানসিক অবসাদে ভুগতেন এই অভিনেত্রী।

জন্মসূত্রে নৈহাটির মেয়ে পায়েল বর্তমানে নিউ গড়িয়া এলাকার একটি ফ্ল্যাটে একাই থাকতেন। সম্প্রতি দিন ছয়েকের জন্য দেশটির শিমুরালিতে শুটিং শেষ করে আসেন পায়েল। বুধবার ‘সাত ভাই চম্পা’ সিরিয়ালে শুটিংয়ের জন্য রাঁচী যাওয়ার কথা ছিল। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাতটায় শিলিগুড়ির ওই হোটেলে ১৩ নম্বর ঘরে চেক ইন করেন পায়েল। সোমবার রাতে পরিবারের সঙ্গে শেষ কথা হয় পায়েলের।

এ দিকে মঙ্গলবার সকাল থেকেই তার ফোন সুইচড অফ পান পরিবারের লোক। মেয়ের কোনও খবর না পেয়ে মঙ্গলবারই পঞ্চসায়র থানায় একটি মিসিং ডায়েরি করেন পায়েলের মা। বুধবার বেলা ১২ টায় তার চেক আউটের কথা ছিল। সেই মতো হোটেল কর্মীদের ডেকে দিতেও বলেন পায়েল। নির্দিষ্ট সময়ে তাকে ডাকতে গিয়ে বারবার দরজা ধাক্কা দেওয়ার পরও কোনও সাড়া না মেলায় খবর দেওয়া হয় শিলিগুড়ি থানায়। এরপর শিলিগুড়ি থানার পুলিশ এসে তার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করেন।

মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়েই শিলিগুড়ি পৌঁছেছেন পায়েলের বাবা। জামাইয়ের বিরুদ্ধে তার কোনও অভিযোগ না থাকলেও মেয়ের মৃত্যুর জন্য ছেলেকে কাছে না পাওয়ার মানসিক টানাপড়েনকেই দায়ী করেছেন তিনি।

আসন্ন মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘কেলো’-তে অন্যতম মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন পায়েল। ২০১৫ সাল থেকেই টালিউডে কাজ শুরু করেন এই অভিনেত্রী। অভিনয় করেছেন নানা সিরিয়াল ও ওয়েব সিরিজেও। দেব অভিনীত ‘ককপিট’ ছবিতেও একটি পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করতে দেখা গিয়েছিল পায়েলকে।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার