কৃষি অফিসের তালিকা সরবরাহের আগেই খাদ্যগুদামে ১’শ মেট্রিক টন ধান ক্রয়!

Img

সাতক্ষীরার কলারোয়া খাদ্য গুদামে প্রান্তিক কৃষকের নিকট থেকে ১’শ মেট্রিক টন ধান ক্রয় করা হয়েছে এবং প্রান্তিক কৃষকরা খাদ্য গুদামে লাইন দিয়ে গত ১৮/১৯ দিন ধরে সরাসরি সরকার নির্ধারিত মূল্যে বোরো ধান বিক্রি করছে এমন সংবাদ দেখে ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছে উপজেলার ধান চাষীরা। 

বুধবার (১৫ মে) দৈনিক গ্রামের কাগজসহ কয়েকটি আঞ্চলিক পত্রিকায় উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তার (ওসিএলএসডি) বরাত দিয়ে প্রতিবেদটি প্রকাশিত হয়। কৃষকদের অভিযোগ, উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কার্ডধারী কৃষকদের তালিকা সরবরাহের আগেই কিভাবে খাদ্য গুদামে ধান ক্রয় করা হচ্ছে। বিষয়টি অবিলম্বে  সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ও জেলা খাদ্য কর্মকর্তার হস্থক্ষেপ ও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানান।

যদিও উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তার (ওসিএলএসডি) আমিন উদ্দীন মোড়ল প্রকাশিত সংবাদে ধান ক্রয়ের তথ্য মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করলেও গত দুই দিনেও প্রতিবেদনটির প্রতিবাদ করেনি। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলার কয়েকজন কৃষক জানান,  চলতি বছর বাজারে বোরো ধানের অস্বাভাবিক দরপতনের কারনে বিপাকে পড়েছে প্রান্তিক কৃষকরা। সরকার নির্ধারিত দামে গুদামে ধান ক্রয়ের আগে এ ধরনের সংবাদ দেখে তারা আতংকিত হয়ে পড়েছেন। তারা বলেন,  সংবাদে উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা আমিন উদ্দীন মোড়লের বরাত দিয়ে আরো উল্লেখ করা হয়েছে  গত ২৫ এপ্রিল থেকে ধান-চাল ক্রয় শুরু করা হয়েছে যা আগামী ৩০ আগষ্ট পর্যন্ত চলবে। 

তবে, গত ১২ মে থেকে সরাসরি কৃষকদের নিকট থেকে ধান ক্রয় অভিযান শুরু হয়েছে। এমনকি কলারোয়া উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কার্ডধারী কৃষকদের নামের তালিকা খাদ্যগুদামে সরবরাহ করা না হলেও খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা প্রতিবেদনে জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে কোন প্রকার ভোগান্তি ছাড়াই ১’শ মেট্রিক টন ধান ও ২’শ মেট্রিক টন চাল কৃষকরা সরাসরি সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রয় করেছেন। এসব কৃষকরা ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, কৃষি অফিসের তালিকা না পেয়েও খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা  কিভাবে ১’শ মেট্রিক টন ধান ক্রয় করলেন?  তারা, সরকারের উন্নয়নকে প্রশ্নবিদ্ধকারী দোষী ব্যাক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনে অবিলম্বে সংশ্লিষ্ঠ মন্ত্রনালয়ের উর্ধতন কতৃপক্ষ, সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তার হস্থক্ষেপ কামনা করেন।

কৃষকদের সরবরাহকৃত প্রকাশিত সংবাদটিতে দেখাগেছে, উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা আমিন উদ্দীন মোড়ল জানিয়েছেন, চলতি বছর কলারোয়ার একটি পৌরসভা ও ১২টি ইউনিয়নের কৃষকদের নিকট থেকে ২৬ টাকা দরে ৩৮৩ মেট্রিক টন ধান ও মিলারদের নিকট থেকে ৩৬ টাকা কেজি দরে  ১১৮৬ মেট্রিক টন চাল ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিবেদনটিতে উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে কোন প্রকার ভোগান্তি ছাড়াই ১’শ মেট্রিক টন ধান ও ২’শ মেট্রিক টন চাল কৃষকরা সরাসরি সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রয় করেছেন। এছাড়া কৃষকরা প্রতিদিন তাদের উৎপাদিত ধান ও চাল খাদ্য গুদামে নিয়ে আসছেন এবং নায্যমূল্যে বিক্রি করে হাসি মুখে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। তিনি আরো জানিয়েছেন, উপজেলা কৃষি অফিস যে সব কৃষকের কৃষি কার্ড প্রদান করেছেন কেবল মাত্র সে সব কার্ডধারী কৃষকের নিকট থেকেই ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং স্বচ্ছতাার সাথে কলারোয়া উপজেলা এ বছর ধান ও চাল সংগ্রহ অভিযান চলছে। তবে, সরজমিনে খাদ্য গুদাম ঘুরে ধান ক্রয় বা কোন কৃষকের দেখা মেলেনি।

এবিষয়ে জানতে কলারোয়া উপজেলা খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) আমিন উদ্দীন মোড়ল প্রকাশিত সংবাদে ১’শ মেট্রিক টন ধান ক্রয়ের তথ্যটি মিথ্যা দাবি করে জানান, উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের তালিকা পাওয়ার পর কৃষকদের নিকট থেকে সরাসরি ধান ক্রয় শুরু হবে।

কলারোয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: মহাসীন আলী জানান, উপজেলার কার্ডধারী প্রান্তিক কৃষকদের তালিকা সম্পন্ন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী ১/২ দিনের মধ্যে এ তালিকা খাদ্যগুদামে পাঠানো হবে।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার