কুমিল্লায় কৃষকের ১২ টাকার খিরা বাজারে ৩০ টাকা

Img

আবহাওয়া অনুকূলে ছিলো। তাই এ বছর কুমিল্লায় খিরার বাম্পার ফলন হয়েছে। জমিতে খিরাগাছের যত্নআত্তি ও খিরা সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা।

কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সূত্রমতে এ বছর ১২শ ৩১ হেক্টর জমিতে খিরা চাষ হয়েছে। যার মধ্যে জেলার দাউদকান্দি, হোমনা, মেঘনা, দেবিদ্বার উপজেলায় সবচেয়ে বেশি খিরা চাষ হয়েছে । 

সরেজমিনে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা গিয়ে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ প্রান্তরজুড়ে সবুজ মখমলের মতো বিছিয়ে রয়েছে খিরার গাছ। সবুজ পাতার মাঝে হলুদ ফুলে ভ্রমর মৌমাছির উড়াউড়ি। আর খিরার ডগায় ডগায় রয়েছে সবুজ কচি খিরা। খিরার ভালো ফলনে খুশি কুমিল্লার চাষিরা। জমির পাশে ভিড় করছেন পাইকাররা। জমির পাশ থেকে খিরা ১২ টাকা কেজি দরে কিনে নিচ্ছেন পাইকাররা। তবে কুমিল্লার খুচরা বাজারে খিরা ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

জমিতে মা ও ভাইকে নিয়ে খিরা সংগ্রহ করছেন ফারুক হোসেন। তিনি জানান, এ বছর ৬০ শতক জমিতে খিরা চাষ করেছেন। খরচ হয়েছে বিশ হাজার টাকা। তার জমিতে খিরার ফলন ভালো হয়েছে উল্লেখ করে ফারুক হোসেন বলেন, সবকিছু ঠিক থাকলে অন্তত ১ লাখ টাকার খিরা বিক্রি করতে পারবেন। তার খরচ বাদ দিয়ে মুনাফা হবে ৮০ হাজার টাকা।

এদিকে আলামিন ৬০ শতক ও রুবেল হোসেন ৯০ শতক জমিতে খিরা চাষ করেছেন। তাদের অভিযোগ খিরার পাতায় কুচকানো ও পাতা পচা রোগ শুরু হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের থেকে তারা কোন সহযোগিতা পাচ্ছে না। কৃষক আলামিন ও রুবেল হোসেন বলেন, যথাসময়ে সঠিক পরামর্শ ও সহযোগিতা পেলে খিরার ফলন আরো বাড়ানো যেতো।

বিষয়টি নিয়ে দাউদকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সারোয়ার জামান বলেন, আমাদের কিছু লোকবল সমস্যা রয়েছে। তবে কৃষকের যে কোন সমস্যায় কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে গিয়ে সেবা দিয়ে আসেন। আমি নিজেও মাঠে পড়ে থাকি। কৃষকদের সমস্যার কথা শুনি। যে ক’জন কৃষক অভিযোগ করেছেন তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে সেবা দেয়া হবে।
 

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার