কুমিল্লায় ৫০ হাজার টাকার চুক্তিতে বদলী হাজতবাস

Img

কুমিল্লায় একটি মাদক মামলায় আসল আসামি আনোয়ার হোসেনের পরিবর্তে টাকার বিনিময়ে নকল আসামি আবু হানিফের হাজতবাসের ঘটনায় ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।

মঙ্গলবার (১১ আগষ্ট) বিকেলে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফুল ইসলাম সরদারকে আহ্বায়ক করে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর। গত সোমবার জামিন শুনানিকালে বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হলে মামলার জামিন শুনানি মূলতবি করা হয়েছিল।

এর আগে গত বছরের ৩০ জুলাই ভোরে জেলার আদর্শ সদর উপজেলার আড়াইওরা এলাকা থেকে ২ কেজি গাঁজা উদ্ধার ঘটনায় দুইজনকে আসামি করে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই নন্দন চন্দ্র সরকার।

এ মামলায় হেলাল মিয়া নামে এক মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার হলেও পলাতক ছিলেন জেলার ব্রাহ্মণপাড়ার শশীদল ইউনিয়নের গঙ্গানগর গ্রামের মৃত তৈয়ব আলীর ছেলে মো. আনোয়ার হোসেন।

মামলাটির তদন্ত শেষে উভয়কে অভিযুক্ত করে ওই বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. সহিদুল ইসলাম পিপিএম। এ মামলায় চলতি বছরের গত ২৬ জুলাই আনোয়ার হোসেন পরিচয়ে আবু হানিফ আদালতে হাজির হয়ে জামিন চাইলে বিচারক আবেদন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠান।

এদিকে জেলে যাওয়া যে ব্যক্তি আনোয়ার হোসেন পরিচয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন প্রকৃতপক্ষে তিনি জেলার বরুড়া উপজেলার বড় হাঙ্গিনা গ্রামের মৃত মনু মিয়ার ছেলে মো. আবু হানিফ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আবু হানিফ গত বছরের ২২ ডিসেম্বর ২৪ কেজি গাঁজা পাচারকালে বিজিবি’র হাতে গ্রেফতার হন। এ ঘটনায় ৬০ বিজিবি’র অধীন সালদানদী বিওপি’র নায়েক মো. খোরশেদ আলম বাদী হয়ে ব্রাহ্মণপাড়া থানায় মামলা দায়ের করেন।

ওই মামলায় ২৩ ডিসেম্বর কারাগারে যান আবু হানিফ। পরে চলতি বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি জামিনে মুক্ত হন। এ মামলায় আবু হানিফের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মাসুদ রানা।

কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার শাহজাহান আহমেদ জানান, বিষয়টি নজরে আসার পর জানতে পারি দুটি মামলায় একই ব্যক্তি কারাগারে এসেছে। রেজিস্ট্রারে আনোয়ার হোসেনের বয়স ৪২ বছর এবং আবু হানিফের বয়স ২২ বছর রয়েছে। নাম এবং বয়সে পার্থক্য থাকলেও ছবিতে মিল রয়েছে। পরে কারাগারে থাকা আসামির সাথে কথা বলে সত্যতা পাওয়া যায়। বিষয়টি লিখিতভাবে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং সংশ্লিষ্ট আদালতকে অবহিত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আসামি আবু হানিফের সাথে কথা বলে জানতে পেরেছি যে, ৫০ হাজার টাকা চুক্তির মধ্যে তাকে ১০ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে এবং ৪০ হাজার টাকা পরে দেয়া হবে এমন চুক্তিতেই সে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে আনোয়ার হোসেন পরিচয়ে কারাগারে এসেছে।

এ বিষয়ে জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম সেলিম জানান, মূল আসামি হচ্ছে আনোয়ার। কিন্তু তার পরিবর্তে আদালতে স্বেচ্ছায় হাজির হয়েছে আবু হানিফ। এরপর নিয়মানুযায়ী মামলার শুনানি শেষে তার জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে। একজন ব্যক্তিকে প্রলোভন দেখিয়ে বা অন্য কোনোভাবে ম্যানেজ করে আবু হানিফকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। যা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং প্রতারণার শামিল।

জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর জানান, কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার শাহজাহান আহমেদ স্বাক্ষরিত এক পত্রের মাধ্যমে বিষয়টি অবহিত করার পর ঘটনাটি অনুসন্ধানপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফুল ইসলামকে আহ্বায়ক করে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।

আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যেই তাদেরকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কমিটির অপর সদস্যরা হলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মোহাম্মদ শাহরিয়ার মিয়াজী ও কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার শাহজাহান আহমেদ।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার