কুমিল্লায় অবৈধভাবে ২০০ বছরের পুরোনো পুকুর ভরাট

Img

কুমিল্লায় গত কয়েক বছরে ভরাট হয়ে গেছে বেশিরভাগ পুকুর ও ডোবা। এবার পরিবেশ ও জলাধার সংরক্ষণ আইনের তোয়াক্কা না করেই নগরীতে ভরাট করা হচ্ছে প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো একটি পুকুর। স্থানীয়দের কাছে পুকুরটি কাজীবাড়ির পুকুর বা কাজী পুকুর নামে পরিচিত। এটির অবস্থান নগরীর ২০নং ওয়ার্ডের কাজীপাড়া এলাকার পশ্চিমপাড়ায়। ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ শতকের পুকুরটির অর্ধেক ভরাট হয়ে গেছে।

পুকুরটি ভরাটের কাজ করছেন অন্তত ১০ জন শ্রমিক। পুকুরের দক্ষিণ পাশে রয়েছে সড়ক ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। আর বাকি তিন দিকে মানুষের বসতি। কাজীপাড়া এলাকার কাজীবাড়ির মৃত কাজী আবদুল হাকিমের ছেলে কাজী আবদুল খালেক পুকুরটি ভরাট করছেন। তিনি পাশের সদর দক্ষিণ উপজেলার পিপুলিয়া স্কুলে শিক্ষকতা করেন। পুকুরটির অর্ধেক মালিকানা তাদের। আর বাকি অর্ধেক তার চাচা কাজী আব্বাস আলীর ছেলেদের। বর্তমানে খালেক বিভিন্ন স্থান থেকে ট্রাকে আনা মাটি-বালু ফেলে পুকুরটির প্রায় অর্ধেক ভরাট করে ফেলেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা সত্তরোর্ধ্ব সামছুল হক বলেন, পুকুরটি প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো। পুকুরের জায়গা নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ ছিল। এখন বিরোধ মিটিয়ে এক পক্ষ পুকুরটির অর্ধেক ভরাট করছে।

স্থানীয়রা জানান, আগে এই পুকুরে মাছ চাষ হতো। বর্ষা মৌসুমে পুকুরটি এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে ভূমিকা রাখে। স্থানীয়রা পুকুরটি বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করতেন। এ ছাড়া এলাকায় আগুন লাগলেও এই পুকুরের পানি কাজে লাগত।

এ ব্যাপারে কাজী আবদুল খালেক বলেন, পুকুরটির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চাচাতো ভাইদের সঙ্গে আমাদের বিরোধ ছিল। সম্প্রতি স্থানীয় সালিশদাররা বিষয়টির সমাধান করে দিয়েছেন। আর আমাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য বসতঘরের জায়গা প্রয়োজন। অন্য কোথাও সম্পত্তি না থাকায় পুকুরটির অর্ধেক ভরাট করছি নিজেরা বসবাসের জন্য। আর সামনের অংশে দোকান করব। 

তিনি দাবি করেন, পুকুরটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত। এটি কেউ ব্যবহার করে না এবং মাছ চাষও হয় না। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কুমিল্লা জেলা শাখার সভাপতি ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, পুকুর ভরাট করা সম্পূর্ণ বেআইনি।

পরিবেশ অধিদপ্তর, কুমিল্লার উপপরিচালক শওকত আরা কলি বলেন, পুকুরটি ভরাট করা নিয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। এরপর ভরাটকারীদের ফোন করে বলেছি তা বন্ধ করতে। ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. মনিরুল হক সাক্কু বলেন, এভাবে পুকুর ভরাট করার কোনো সুযোগ নেই, এটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আমি কাউন্সিলরকে বিষয়টি দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দিচ্ছি।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার