কুমিল্লার লালমাইয়ে এনজিও কর্মী নিখোঁজ

Img

কুমিল্লার লালমাই উপজেলার পেরুল দক্ষিণ ইউনিয়নের ভাটরা গ্রামের রেজাউল করিমের স্ত্রী ও ব্র্যাক-এর মনোহরগঞ্জের আশিরপাড় শাখার কর্মসূচি সংগঠক (পিও) ফাতেমা আক্তারকে (২৫) গত দুইদিন ধরে পাওয়া যাচ্ছে না। 

রোববার থেকে তিনি নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজের ঘটনায় সোমবার ব্র্যাক আশিরপাড় শাখার ব্যবস্থাপক (দাবি) মো. নুরুজ্জামান কুমিল্লার লালমাই থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

জিডির বিবরনে জানা যায়, রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ওই কর্মসূচি সংগঠক অফিসে এসে হাজিরা খাতায় দস্তখত করেন এবং শাখা ব্যবস্থাপককে বলে চিকিৎসকের কাছে যাবেন বলে বেরিয়ে পডেন। পরে তিনি লালমাই উপজেলার ভূশ্চিতে অবস্থিত ব্র্যাকের অপর একটি শাখায় তার এফডিআর টাকা উত্তোলণের জন্য সেখানে যান। সেখান থেকে এফডিআরের টাকা উত্তোলণ করতে না পারায় সহকারী ব্যবস্থাপকের সহায়তা চেয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগও করেন। কিন্তু সেখান থেকে বের হওয়ার পর তার মুঠোফোনটিতে কোনো কল প্রবেশ করা যায়নি। অনেক চেষ্টা করেও আর যোগাযোগ করা যায়নি। এটি বন্ধ হয়ে যায়।

ব্রাকের আশিরপাড় শাখা ব্যবস্থাপক (দাবি) মো. নুরুজ্জামান জানান, ওই নারি কর্মী ব্র্যাকের মনোহরগঞ্জের আশিরপাড় শাখা কার্যালয়ে আগে ওই প্রতিষ্ঠানের ভূশ্চি শাখায় কর্মরত ছিলেন। ওই সময় সেখানে তিনি একটি এফডিআর হিসাব খোলেন। ওইদিন তিনি চিকিৎসক দেখানোর কথা বলে বের হলেও মূলত এফডিআর এর টাকা উত্তোলনের জন্যই ভূশ্চিতি গেছেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের নিয়ম-কানুনের কারণে টাকা উত্তোলণ করতে পারেনি। হঠাৎ তিনি এভাবে নিখোঁজ হবেন। বিষয়টি ভাবতেই অবাক লাগছে। তার ধারণা হয়তো কোনো দুর্বৃত্তের দল তাকে অপহরণ করছে।

এদিকে নিখোঁজ ফাতেমার স্বামীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তার স্বামী একজন বাক প্রতিবন্ধী। তাদের দাম্পত্য জীবন অত্যন্ত সুখের এবং মধুর। তাদের বিয়ের বয়স ৬/৭ বছর। তাদের একটি সন্তানও রয়েছ।

ফাতেমার দেবর মো. হারুন অর রশিদ সৈকত বলেন, একই উপজেলার বাগমারার বেতাগাঁও গ্রামের দিনমুজর মো. শাহ আলমের মেয়ে ফাতেমার সঙ্গে ২০১১ সালের ২৭ অক্টোবর তার ভাই বাক প্রতিবন্ধী মো. রেজাউল করিম রাসেলের বিয়ে হয়। তাদের ৬ বছর বয়সী একটি কণ্যা সন্তান রয়েছে। ভাই বাঁক প্রতিবন্ধী হলেও কখনো তাদের সংসার জীবনে একটু ঝগড়া-বিবাদও হয়নি।

অপরদিকে মেয়ের সন্ধান না পেয়ে ডুঁকরে ডুঁকেরে কাঁদছে ফাতেমার দিনমুজুর বাবা শাহ আলম। মেয়ের শোকে বার বার মু্র্ছা যাচ্ছেন হতভাগী মা।

এই ব্যাপারে লালমাই থানার ওসি মোহাম্মদ আইয়ুব ব্র্যাকের ওই নারি কর্মীর নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ভূক্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তার সন্ধানের ব্যাপারে জোর চেষ্টা চলছে।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার