সীমান্ত ইস্যুতে কথা বলা ও কর্মকাণ্ড ঠিক করার ব্যাপারে ভারতকে সতর্ক করেছে চীন। ‘জম্মু-কাশ্মির পুনর্গঠন বিল ২০১৯’ নামে এ বিলের আওতায় জম্মু-কাশ্মির ও লাদাখকে দুভাগ করে দুটি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পরিণত করছে ভারতের বিজেপি সরকার। তার পরিপ্রেক্ষিতে এ সতর্কবার্তা দিয়েছে দেশটি।

মঙ্গলবার বিষয়গুলো নিয়ে দুটি আলাদা বিবৃতি দিয়েছে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সীমান্ত ইস্যুতে কথা বলা ও কর্মকাণ্ড ঠিক করার ব্যাপারে সতর্ক হওয়ার জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি আমরা। দুই পক্ষের মধ্যে এ সংক্রান্ত যে সমঝোতা হয়েছিল তা মেনে চলার জন্য এবং সীমান্ত ইস্যুগুলো আরও জটিল করে তুলবে এমন পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকারও আহ্বান জানাচ্ছি।’

একই সঙ্গে জম্মু-কাশ্মীর প্রশ্নে ভারত সরকারের সিদ্ধান্তকে ‘একতরফা ব্যবস্থা’ বলেও নিন্দা জানায় চীন। লাদাখকে কেন্দ্রীয় শাসিত অঞ্চল হিসেবে পুনর্গঠনের সিদ্ধান্তকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলেও আখ্যা দেয় দেশটি।

লাদাখ নিয়ে চীন-ভারতের বিবাদ বহুদিনের। লাদাখের নিয়ন্ত্রণ বেইজিংয়ের হাতে হলেও ভারত বরাবরই একে নিজেদের এলাকা বলে দাবি করে আসছে। তবে চীনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘চীন-ভারত সীমান্তের পশ্চিম অংশে ভারতের প্রশাসনিক এখতিয়ারের মধ্যে চীনা এলাকার অন্তর্ভুক্তি নিয়ে বরাবরই বিরোধিতা করে আসছে বেইজিং। এ অবস্থানটি দৃঢ়, অবিচল ও কখনও পরিবর্তন হয়নি। সম্প্রতি দেশের অভ্যন্তরীণ আইন সংশোধনের মধ্য দিয়ে ভারতীয় পক্ষ একতরফা চীনের আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করে যাচ্ছে।’

চীনের এসব সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার ভারতও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। চীনের উদ্দেশে দিল্লী বলেছে, লাদাখ চীন ও ভারতের মধ্যকার বিবাদপূর্ণ এলাকা হলেও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করার প্রস্তাবটি ভারতের ‘অভ্যন্তরীণ ব্যাপার’।

ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মধ্য দিয়ে কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার কেড়ে নেওয়ার পর জম্মু-কাশ্মিরের প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে রাজ্য থেকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করতে রাজ্যসভায় বিল পাস করেছে বিজেপি সরকার। জম্মু-কাশ্মির পুনর্গঠন বিল ২০১৯ নামের এ বিলের আওতায় জম্মু-কাশ্মিরকে দুভাগ করে দুটি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পরিণত করার কথা বলা হয়েছে। জম্মু-কাশ্মির ও লাদাখ হবে পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল।