কাতারে হয়রানির আশঙ্কায় বাংলাদেশি শ্রমিকরা

আমির হোসেন | প্রবাসীরদিগন্ত ডেস্ক : সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৮

কাতারে অভিবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষায় শ্রম আইন সংস্কারে উৎফুল্ল হওয়ার কথা বাংলাদেশি শ্রমিক শরীফের। কিন্তু তিনি মনে করছেন, নতুন আইনে তাকে হয়রানির সুযোগ থেকেই যাচ্ছে। পুরো নাম-পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক ২২ বছর বয়সী শরীফ রয়টার্সকে বলেন, মালিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করাটা ঠিক হবে না। কারণ, তাহলে কোম্পানি আমাকে চাকরিচ্যুত করে বাড়ি পাঠিয়ে দিতে পারে।

তিনি বলেন, যদি আমাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়, তাহলে আমার পরিবারকে সাহায্য করার জন্য কেউ টাকা দেবে না। খবর ডয়েচে ভেলের। কাতার ২০২২ ফুটবল বিশ্বকাপের আয়োজক হওয়ার পর থেকেই সে দেশে অভিবাসী শ্রমিকদের হয়রানির বিষয়টি শিরোনামে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে অব্যাহত চাপের মধ্যে গত বছর শ্রমিকদের সুরক্ষায় বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে তেল সমৃদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটি।

এসব উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে সাময়িকভাবে মাসিক ন্যূনতম বেতন ৭৫০ রিয়াল (২০০ ডলার) এবং অভিবাসী শ্রমিকদের সমস্যার সমাধানে একটি কমিটি করা। এছাড়া বিদেশি শ্রমিকদের দেশত্যাগের জন্য চাকরিদাতার অনুমতি নেয়ার বাধ্যবাধকতা তুলে নেয়া। এ প্রসঙ্গে দোহায় নতুন চালু হওয়া আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)-র অফিসের প্রধান হুতান হোমায়ুনপুর বলেন, আমরা সম্পর্কের ধরনে পরিবর্তন আনছি। এটা (দেশ ছাড়ার অনুমতি বাতিল) শ্রমিকদের অসহায়ত্ব লাঘবে বিরাট ভূমিকা রাখবে। তারা এখন মুক্ত, তারা এখন যেকোনো জায়গায় যেতে পারবে। কিন্তু দেশটির প্রায় ২০ লাখ বিদেশি শ্রমিকের অনেকেই মনে করেন, হয়রানি থেকে তাদের রক্ষায় এসব পরিবর্তন যথেষ্ট নয়।

শরীফ জানান, সরাসরি ব্যাংকের মাধ্যমে তার বেতন হলেও প্রায়ই তাকে অতিরিক্ত সময় খাটানো হয়, যা সরকারের পক্ষে জানা সম্ভব নয়। আর তার পাঠানো টাকা দিয়েই পরিবার চলে তাই মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে তিনি কিছু বলতে চান না। তিনি অভিযোগ করে বলেন, তাকে ন্যূনতম বেতনই দেয়া হয়, যার পরিমাণ মাসে ৯০০ রিয়ালের কম। অথচ বাংলাদেশে যাদের মাধ্যমে তিনি কাতারে এসেছিলেন, তারা মাসিক বেতন ৯০০ রিয়াল হবে বলেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। আর ওই কাজের জন্য তার কাছ থেকে ৭০০ ডলার হাতিয়ে নিয়েছিল তারা।

কিন্তু কাতারে কাজে নিয়োগের জন্য রিক্রুটমেন্ট ফি নেয়া অবৈধ। বিশ্বকাপ আয়োজনের পরিকল্পনা ও কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত দেশটির সুপ্রিম কমিটি ফর ডেলিভারি অ্যান্ড লিগাসি বলেছে, এভাবে অর্থ দিয়ে আসা স্টেডিয়াম শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে। এই কমিটি গত বছর একটি অনুসন্ধান চালিয়ে দেখতে পায়, এশিয়ার শত শত শ্রমিক বিশ্বকাপ স্টেডিয়াম নির্মাণ কাজ পেতে তিন হাজার ৮০০ ডলার পর্যন্ত রিক্রুটমেন্ট ফি দিয়েছে।

এ বিষয়ে শ্রম অধিকার বিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইকুইডেম রিসার্চের প্রধান মুস্তফা কাদরি বলেন, অবৈধভাবে ফি দেয়া-নেয়াটা ধরা এবং তা বন্ধ করা খুব কঠিন। যেসব দেশ থেকে শ্রমিক আসছে, শুধু সেখানেই নয়, এখানেও শ্রমিকদের কাছ থেকে এভাবে টাকা নেয়া ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তা বন্ধ করাও সহজ নয়। এদিকে কাতারের শ্রম বিষয়ক মন্ত্রী ঈসা আল-নুয়াইমি বলেছেন, সাধারণত বাইরের দেশগুলোতেই অবৈধ রিক্রুটমেন্ট ফি নেয়া হয়। মানবপাচার বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

তথ্য:

বিভাগ:

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৮

প্রতিবেদক: আমির হোসেন

পড়েছেন: 461 জন

মন্তব্য: 0 টি