​কুয়ালালামপুর থেকে ঢাকা, বিভিন্ন বিমানের ভাড়া ছিলো ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা। সেই ভাড়া লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে এখন ২০ থেকে ২৬ হাজার টাকা। তাও আবার শেষ। কারন মালয়েশিয়া সরকারের দেওয়া সুযোগ বি'ফোর গুড এর সুযোগ নিয়ে অবৈধ অভিবাসীরা দেশে ফিরে যাচ্ছে।

অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, টিকিট যেনো সোনার হরিণ। বিভিন্ন এয়ার লাইন্স'র  ওয়েবসাইটে দেখা গেছে কুয়ালালামপুর টু ঢাকা টিকিটের এই অগ্নি মূল্য। মালয়েশিয়া সরকারের দেওয়া সুযোগ শেষ হবে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ । অনেক বাংলাদেশিরা টিকিট আগে ভাগে ক্রয় করছে। আবার অনেকেই যাবার সময় টিকিট ক্রয় করবে বলে দেরী করলে বিপত্তি ঘটে দামে।

আগামী ৫ ডিসেম্বর দেশে যাওয়ার জন্য টিকিট ক্রয় করতে যেয়ে হানিফ দেখেন, শুধু মাত্র কুয়ালালামপুর টু ঢাকা টিকিটের দাম ২৬ হাজার টাকা। যশোরের হানিফ বলেন, যে টিকিট ৬ হাজার টাকা দিয়ে কিনেছি,সেই টিকিট আজ ২৬ হাজার টাকা। তিনি আরো বলেন, অবৈধ ভাবে অবস্থান করার কারণে মালিক ঠিক মত বেতন দেয় না। আবার যদি বলি দেশে যাবো, তাহলে আর বেতন পাবো না। এত দামি টিকিট কিনে কিভাবে দেশে যাব।এখন  কাঁদা ছাড়া আর গতি নেই।

মালয়েশিয়া সরকারের দেওয়া  বি'ফোর গুড এর সুযোগ নিয়ে ইতিমধ্যেই রেজিস্ট্রেশন করেছে ৩২ হাজার বাংলাদেশী। চলতি নভেম্বর এবং ডিসেম্বরের এই সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে বলে জানান ইমিগ্ৰেশন প্রধান।

চলতি বছরের ১লা আগস্ট অবৈধ অভিবাসীদের জন্য সাধারণ ক্ষমার সুযোগ দেয় মালয়েশিয়া। ১৪ হাজার টাকা জরিমানা দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করে ৭ দিনের মধ্যে মালয়েশিয়া ত্যাগের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন এয়ারের অগ্নি মুল্যের কারনে দিশেহারা বাংলাদেশিরা।

 উল্লেখ্য  ২৩ জুলাই স্থানীয় সময় বিকেল ৩টায় মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ হাইকমিশনের হলরুমে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিফোরজি প্রোগ্রামের আওতায় দেশে ফেরত আসা বাংলাদেশিদের জন্য হাইকমিশনার বিমানের টিকিটের মূল্য হ্রাসের প্রস্তাব রাখলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন উপস্থিত বিভিন্ন এয়ার লাইন্সের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। 

বৈঠকে সংশ্লিষ্ট সকলের উদ্দেশ্যে হাইকমিশনার বলেন, এ প্রোগ্রামের আওতায় কালোবাজারিদের দ্বারা যাতে সাধারণ কোনো কর্মী ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকে সবার দৃষ্টি রাখতে হবে। কিন্তু টিকিটের দাম আর কমেনি, বরং বেড়েছে চার গুণ। এমতাবস্থায় অসহায় প্রবাসী বাংলাদেশীরা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।