বান্দরবানে করোনা আক্রান্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছাড়িয়েছে তিনশ’। লকডাউনেও রেড জোন বান্দরবানে স্বাস্থ্যবিধি মানছে না পজিটিভ শনাক্ত রোগীরাও। আক্রান্ত শনাক্ত এবং নমুনা নেওয়া ব্যক্তিদের প্রাতিষ্ঠানিক বা হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত না করায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে সুস্থ মানুষের শরীরে।

বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মানবাধিকার কর্মী মো. কামরুজ্জামান বলেন, “নমুনা পরীক্ষায় ফলাফলে পজিটিভ শনাক্ত আক্রান্ত করোনারোগী লামা পৌরসভার নয়া পাড়া বাসিন্দার রুবি বড়ুয়া, পৌরসভার কাউন্সিলর মো. হোসেন বাদশা দু’জনকে গতকাল রবিবার লামা বাজারে চলাফেরা করতে দেখা গেছে। শনাক্ত রোগীর অনেক আত্মীয়-স্বজনকেও ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে হাট-বাজারে। স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা না গেলে লকডাউন, রেড জোন ঘোষণার কোনো যৌক্তিকতা নেই।”

এদিকে বান্দরবান পৌরসভার নয় নম্বর, এক নম্বর, আট নম্বর ওয়ার্ডেও পজিটিভ শনাক্ত কয়েকজন করোনারোগীকেও স্ব স্ব এলাকায় ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। প্রশ্ন তুলছেন স্বাস্থ্য বিভাগ, প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিদের হাল ছেড়ে দেওয়া দায়িত্বহীন ভূমিকা নিয়েও।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য মতে, গোটা জেলায় করোনা আক্রান্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা তিনশ’ ছাড়িয়েছে। রবিবার পর্যন্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৩১২ জন। তাদের মধ্যে সদরে ২১৩ জন এবং লামায় ৪৪ জন। নাইক্ষ্যংছড়ি ৩০ জন এবং আলীকদম ১৯ জন।

জেলায় প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছিল নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুমের তাবলীগ ফেরত আবু সিদ্দিক।
তারপর চলতি মাসের ১৫ জুন পর্যন্ত দু’মাসে বান্দরবান জেলায় করোনাভাইরাস শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছিল ৮২ জন কিন্তু পরবর্তী ছয় দিনে সংখ্যাটা একশ জন বেড়ে দাঁড়ায় ১৮২ জনে।

পরবর্তী সপ্তাহে সংখ্যাটা লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে গতকাল রবিবার (২৮ জুন) গিয়ে পৌছায় ৩১২ জনে।
এদিকে করোনা সংক্রমণ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের মাঝে ছড়ালেও শনাক্তের পরিসংখ্যানে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মী, জনপ্রতিনিধি, ব্যাংকার, শিক্ষকের সংখ্যাটাই বেশি।

ইতিমধ্যে জেলায় আক্রান্তদের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সহ জনপ্রতিনিধি ৭ জন, জেলা প্রশাসক সহ প্রশাসনের ১১ জন, সদর থানার ওসি সহ পুলিশের ৪৫ জন, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সহ স্বাস্থ্যকর্মী ১৭ জন, ম্যানেজার সহ ব্যাংকার ১৬ জন, শিক্ষক ৪ জন রয়েছেন।

এছাড়াও সেনাবাহিনী, বিজিবি সদস্যের সংখ্যাও কম নয় আক্রান্তের তালিকায়।

ইতিমধ্যে করোনা জয় করে সুস্থ হয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি, জেলা প্রশাসক মো. দাউদুল ইসলাম, লামা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদুল হক, সদর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম সহ ৬৫ জন।

বান্দরবানের সিভিল সার্জন ডা. অংসুই মারমা জানান, লকডাউনেও রেড জোনে স্বাস্থ্যবিধি মানছে না সাধারণ মানুষ।

শনাক্ত রোগী এবং নমুনা সংগ্রহ করা ব্যক্তিদের প্রাতিষ্ঠানিক বা হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করা কারও একার পক্ষে সম্ভব নয়। প্রশাসন, স্বাস্থ্যবিভাগ, জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং অসুস্থ ব্যক্তি সহ পরিবারের সদস্যদেরও সচেতন হতে হবে। আন্তরিকতা ও সর্বাত্মক সেবার মানসিকতা থাকার পরও রোগীদের চাপে সেবা দিতে হিমসীম খাচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

বান্দরবানের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. শামীম হোসেন বলেন, “শনাক্ত রোগীরা এবং নমুনা দেওয়া ব্যক্তিরা জনসম্মুখে ঘুরে বেড়ানোর ঘটনাটি দুঃখজনক। মানুষ যদি সচেতন না হয় তাহলে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে তাদের কতক্ষণ আটকে রাখা যাবে। অসুস্থ হওয়াটা স্বাভাবিক। কিন্তু স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। অসুস্থ ব্যক্তিদের অবাধে চলাফেরা করা সংক্রমণ রোধ আইনে অপরাধ কিন্তু প্রশাসন অসুস্থদের বিষয়ে সহনশীল এবং সর্বাত্মক সহযোগিতার মনোভাবে কাজ করছে। তারপরও নিয়ম না মানলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”