কপিলমুনি কাশিমনগর-তালা সীমান্তবর্তী এলাকা রাতে অরক্ষিত!

Img
কপিলমুনির ক্রাইমজন নামে খ্যাত কাশিমনগর-তালা সীমান্তবর্তী এলাকা রাতে অরক্ষিত থাকায় সেখানে দুর্বৃত্তদের আনাগোনা অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। বহিরাগত ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে দীর্ঘ কয়েক যুগ ধরে এ দু’ই উপজেলার সীমান্তবর্তী ও তালা উপজেলার আরো কয়েকটি এলাকায় চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ মিশন ঘটে চলেছে অহরহ। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে উভয় উপজেলার প্রশাসন কার্যকরী কোন পদক্ষেপ বা রাতে টহল ব্যবস্থা জোরদার করেনি। ফলে সীমান্তবর্তী এলাকায় সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কথিত সন্ত্রাসীদের আনাগোনা বেড়ে চলেছে। এলাকাবাসী, জুরুরী ভিত্তিতে পাইকগাছা-তালা উপজেলা প্রশাসনকে সীমান্তবর্তী এলাকায় পুলিশ টহল জোরদার করার জোর দাবী জানিয়েছেন। পাশাপাশি উভয় সীমান্তে পুলিশ বক্স বসিয়ে সার্বক্ষণিক পুলিশি পাহারা প্রদানের জন্য খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপারের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। সূত্রমতে জানাযায়, খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার পাইকগাছা-তালা উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা দীর্ঘ কয়েক যুগের অধিক সময় ধরে অরক্ষিত রয়েছে। প্রধান সড়ক লাগুয়া তালার কয়েক স্পট ও সীমান্তবর্তী ফাকা জায়গা গুলি সন্ত্রাসীদের নিরাপদ রুট হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সে সময় কাল হতে দক্ষিণ অঞ্চলের সর্বপ্রথম খুলনা জেলার কপিলমুনিতে রায় সাহেব বিনোদ বিহারী সাধু বাজার প্রতিষ্ঠার সুবাদে ও কপোতাক্ষ নদের পূর্ণ যৌবনের প্রেক্ষিতে উভয় উপজেলার মানুষ এমনকি বাইরে থেকে পায়ে হেঁটে, নৌকায় করে বাইসাইকেল যোগে জীবন জীবিকার তাগিদে কপিলমুনি বাজারে আসতেন সব রকমের ব্যবসায়ী। ৯০ দশকের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়ে ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজী ও দু’পক্ষের মধ্যে গুলা-গুলির ঘটনা ঘটেছে সীমান্তবর্তী এলাকায়। আর সেখান থেকে আজ পর্যন্ত অরক্ষিত এ সব এলাকায় প্রতিনিয়ত ছোট-খাটো বিভিন্ন অপরাধ মূলক কর্মকান্ড ঘটে চলেছে। কপিলমুনি বাজারে আগত ব্যবসায়ী ও যানবাহন চালকদের মধ্যে অনেকে বলেন, সন্ধ্যার পর কাশিমনগর বাজার পার হলে পথচারী, বাইসাইকেল ও মটর সাইকেল আরোহীরাসহ ইজিবাইক চালকরা অজানা আতঙ্কে ভুগে থাকেন। আবার মধ্যে রাতে বাইরে থেকে কপিলমুনি বাজারে আসা মাছ ও পান ব্যবসায়ীরা প্রায় সময় ওৎ পেতে থাকা দুর্বৃত্ত ও সন্ত্রাসীদের কবলে পড়ে সর্বস্ব হারিয়ে বাড়ি ফিরছেন। দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকায় অহরহ এমন ঘটনা ঘটে চললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে আজ অবধি স্থায়ী কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। যার কারণে অত্র এলাকায় কথিত সন্ত্রাসীদের অভায়রণ্যে গড়ে উঠেছে। নামপ্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী বলেন, দক্ষিণ অঞ্চলের ক্রাইমজন নামে খ্যাত কাশিমনগর-তালা গংগারামপুর সীমান্তবর্তী এলাকায় রাতের আধারে এমন কোন অপরাধমূলক কর্মকান্ড নাই যে এ অরক্ষিত অঞ্চলে ঘটছেনা। ডাকাতি ও ছিনতাই যেন নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার। মাছ ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর জানান, গত ৮ ডিসেম্বর ও এর পুর্বে তারা ডাকাতদের কবলে পড়ে অল্পের জন্য রক্ষা পান। তিনি বলেন একটি প্রাইভেট কার নিয়ে ৭/৮ জন রাত ২ টার সময় তালার তেঁতুলিয়ার আগথেকে ধাওয়া করার পর তালার তেল পাম্পে পৌঁছালে আরো দুটি মটর সাইকেল যুক্ত হয়ে আমার মাছের গাড়িটি ধাওয়া করে। আমরা বুঝতে পেরে তাদের কে সাইড না দিয়ে দ্রুত গাড়ী টেনে চলে আসি। প্রসংগত, এলাকার স্থানীয় কিছু যুবক মিলে বেশ কিছুদিন পূর্বে পাইকগাছা সীমান্তে একটি পুলিশ বক্স তৈরি শুরু করলেও সেটি পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় অসমাপ্ত পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, এমপি ও প্রশাসনের সহযোগীতায় এটি পরিসমাপ্ত করে এখানে সার্বক্ষণিক পুলিশি নজরদারী, টহল জোরদারসহ চেক পোষ্ট বসালে এলাকার আইনশৃঙ্খলার উন্নিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তারা। এ ব্যাপারে পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বিপ্লব বলেন, পাইকগাছা-তলা সীমান্তবর্তী এলাকা কাশিমনগর শাপলা চত্ত্বর নামক স্থানে একটি পুলিশ বক্স নির্মাণ করা অতিব জরুরী। বিষয়টি আমি আমার উদ্ধর্তন পুলিশ কর্মকর্তার সাথে আলাপ করবো। তবে থানা পুলিশের একটি বিশেষ টিম প্রতি রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকাসহ সীমান্তবর্তী এলাকায় টহল দিয়ে থাকে। পাশাপাশি কপিলমুনি ফাঁড়ি পুলিশ একই স্থানে নাইটে ডিউটি করে থাকেন। অপর সীমান্তবর্তী এলাকা তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মেহেদী রাসেল এ প্রতিনিধিকে বলেন, উল্লেখিত বিষয়টি আমি অতিদ্রুত জেলা পুলিশ সুপারের সাথে আলোচনা করব। তালা-পাইকগাছা সীমান্তবর্তী এলাকার আইনশৃঙ্খলা আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। প্রতিরাতে সেখানে পুলিশি টহল জোরদার রয়েছে। এমনকি খলিলনগর ফাঁড়ি পুলিশও রাতে দু’উপজেলার সীমান্তে টহল দিয়ে থাকে।
পূর্ববর্তী সংবাদ

কেশবপুরে ইসমাত আরা’র পক্ষে সদর ইউনিয়নের নেতাকর্মীদেরকে নৌকা বিতরণ

সোমবার (১০ ই ডিসেম্বর) কেশবপুর ৬ নং সদর ইউনিয়নের অন্তরগত মূলগ্রাম মধ্যম পাড়া বালিকা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে রাত ৮.০০ ঘটিকার সময় আগামী ৩০ শে ডিসেম্বর একাদশ জাতিয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের যশোর–৬ সংসদীয় এলাকার প্রার্থী ইসমাত আরা সাদেকের বিজয় সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে কেশবপুর ৬ নং সদর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ কতৃক বিশেষ বর্ধিত সভার আয়োজন করা হয়। বর্ধিত সভার এই আয়োজনে যশোর–৬ (কেশবপুর) আসনের নৌকা প্রতীকের মনোনীত প্রার্থী ইসমাত আরা সাদেককে প্রধান অতিথিতি করা হয়। সভাটিতে কেশবপুর উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক ও কেশবপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সদস্য শাহাদাৎ হোসেনের সঞ্চালনা করেন এবং সভার সভাপতিত্ব করেন কেশবপুর ৬ নং সদর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সদর ইউনিয়ন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সভাপতি আফসার উদ্দিন গাজী এবং সার্বিক তত্ত্বাবধায়নের দায়িত্বে ছিলেন সদর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক এম এম কবির হোসেন রানা। উক্ত এই বর্ধিত সভায় নেতাকর্মীরা তাদের বক্তব্যের মাধ্যমে শেখ হাসিনার সরকারের সকল উন্নয়ন কর্মকাণ্ড গুলি উপস্থিথ জনতার মাঝে তুলে ধরেন এবং উন্নয়নের ধারা অব্যহত রাখতে পুনরায় নৌকা মার্কাকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। সকল নেতাকর্মীদের বক্তব্য শেষে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের যশোর–৬ সংসদীয় এলাকার প্রার্থী ইসমাত আরা সাদেকের পক্ষ থেকে কেশবপুর ৬ নং সদর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীবৃন্দরা কেশবপুর ৬ নং সদর ইউনিয়নের সকল ওয়ার্ডের নেতাকর্মীদের হাতে ওয়ার্ড প্রতি একটি করে নৌকা তুলে দেন। বিশেষ এই বর্ধিত সভা ও নৌকা বিতরণের সময় নেতাকর্মীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেনঃ কেশবপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গৌতম রয়, কোষাদাক্ষ্য স্বপন কুমার মুখার্জী, কেশবপুর উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সদস্য শাহাদাৎ হোসেন, কেশবপুর ৬ নং সদর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সদর ইউনিয়ন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সভাপতি আফসার উদ্দিন গাজী, সদর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক এম এম কবির হোসেন রানা, সদর ইউনিয়ন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মনির, আতিয়ার রাহমান, আব্দুর রহিম, সদস্য সচিব কামরুজ্জামান কামাল, উপজেলা যুব মহিলা লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও কেশবপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান–৩ রেহেনা ফিরোজ, সদর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ডাঃ মনি মোহন, আব্দুর রাজ্জাক, সদর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি ওলিয়ার মেম্বার, সাধারণ সম্পাদক লিটন, অন্যান্য সকল ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে ছিলেন শেখর রঞ্জন দাস, কামরুল ইসলাম, প্রকাশ মণ্ডল, নিমাই বাবু, মৃণাল, সদর ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক তোহিদুর রহমান, যুগ্ম- আহ্বায়ক গফুর গাজী, মেহেদি হাসান শিমুল, নুর ইসলাম কেনা, জয়ন্ত নন্দি, সদস্যদের মধ্যে ছিলেন এম এম কাওাছার হোসেন রুবেল, পলাশ সরদার, শাহিন, মোস্তাক, ইব্রাহিম হোসেন বাবু, হাফিজুর রহমান, সাবেক সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে ছিলেন বিশ্বজিৎ মণ্ডল, মনির হোসেন, ইমরান হোসেন, হাবিবুর রহমান ও সদর ইউনিয়ন শ্রমিকলীগ নেতা আসাদুল সহ ইউনিয়ন পর্যায়ের অন্যান্য নেতাকর্মীরা।
প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার