কটন বাড ব্যবহার করে হারাতে পারেন শ্রবণশক্তি

Img

কান চুলকোলে বা কানের ময়লা পরিষ্কার করতে কটন বাড ব্যবহার করেন অনেকে। অনেকে আবার কোনও কারণ ছাড়াই শুধু স্বভাবের দোষে প্রায়ই কানে কটন বাড ব্যবহার করেন। কানের ভিতর কটন বাডের নড়াচড়ায় আরাম হয় ঠিকই, কিন্তু আপনি জানেন কটন বাডস ব্যবহার করে আপনি নিজেই নিজের বিপদ ডেকে আনছেন!

কটন বাড ব্যবহারে ক্ষতি

ক) চিকিৎসকেরা বলছেন, কটন বাড ব্যবহার করলে কানের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। কানে যন্ত্রণা, কান ফুলে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। এমনকী শোনার ক্ষমতাও কমে যেতে পারে।

খ) কটন বাড ব্যবহারের ফলে কানের ভিতরের ময়লা আরও বেশি ভিতরে ঢুকে যায়। কানের পর্দার আরও কাছে পৌঁছে যায় ময়লা! কানের মধ্যে থেকে ময়লা বেরোনোর পরিবর্তে ভিতরেই থেকে যায় বেশি।

গ) কটন বাড প্রতিনিয়ত ব্যবহার করলে কানের গহ্বরে ধাক্কা লাগে। বারবার ধাক্কা লেগে রক্ত বের হতে পারে।

ঘ) কানের মধ্যে অনেক সূক্ষ্ম শিরা ও অস্থি থাকে। কটন বাডের আঘাতে সেগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ফলে শোনার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলতে পারেন কেউ।

ঙ) অনেক সময় বাডের তুলো কানের ভিতরে থেকে যায়। সেই তুলো থেকে কানে ইনফেকশন হতে পারে, শুনতে সমস্যা হতে পারে আপনার।

চ) কটন বাড ব্যবহার করলে কানে ব্যাকটেরিয়া ঢুকতে পারে, ধীরে ধীরে ব্যাকটেরিয়া থেকে ইনফেকশন দেখা দেবে কানে। তাই কটন বাডের ব্যবহার সাময়িক আরাম দিতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির সম্ভাবনাই প্রবল!

২০১৭ সালে একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, কানের সমস্যার ৭৩ শতাংশের পিছনে রয়েছে কটন বাড। বাচ্চাদের কানের সমস্যার বেশিরভাগই হয় কটন বাড দিয়ে কান পরিষ্কারের ফলে। এদিকে চিকিৎসকেরা বলছেন, কান পরিষ্কার করার দরকার হয় না, নিজে থেকেই পরিষ্কার হয়ে যায়।

কীভাবে বুঝবেন কানের ক্ষতি হচ্ছে

কানে যন্ত্রণা

কান বন্ধ মনে হলে

জ্বর

শোনার সমস্যা

মাথা ঘোরা

কানে যন্ত্রণা হলে কী করবেন

ক) কটন বাড ব্যবহারের পর যদি কানে ব্যথা শুরু হয় তাহলে প্রথমে যন্ত্রণা কমানোর কোনও ওষুধ খেতে পারেন আপনি। সেটা চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে খাওয়া ভালো।

খ) কটন বাড ব্যবহারের পর যদি খুব বেশি ব্যথা অনুভব করেন, কানের ভিতরে আওয়াজ হচ্ছে বা শোনার সমস্যা হচ্ছে তাহলে সময় নষ্ট না করে চিকিৎসকের কাছে যান। এই ধরণের সমস্যা হওয়া মানে কানে আঘাত লেগেছে আপনার।

কটন বাডস ব্যবহার না করে কীভাবে কান পরিষ্কার করবেন

১) কানের বাইরের অংশ পরিষ্কার রাখুন। কেবলমাত্র আপনার কানের বাইরের অংশের জন্য কটন বাড ব্যবহার করতে পারেন, তবে আরও ভাল যদি আপনি পরিষ্কার ভেজা কাপড় দিয়ে কানের বাইরের দিকটি মুছতে পারেন।

২) কানের ভিতর পরিষ্কার করতে হলে প্রথমে কয়েক ফোঁটা বেবি অয়েল বা গ্লিসারিন বা কানের ড্রপ দিন। এটা কানে থাকা ময়লা নরম করে দেবে। কয়েকদিন পর কয়েক ফোঁটা গরম জল কানে ঢালবেন। তারপর যেদিকের কানে জল দিয়েছেন সেদিকে মাথা ঝুঁকিয়ে জলটা বের করে দিন। জল বেরিয়ে গেলে কানের বাইরের অংশটা টাওয়েল দিয়ে পুছে নিন। কোনওভাবেই কটন বাড বা অন্য কিছু কানের ভিতরে ঢোকাবেন না।

৩) মাথা একদিকে কাত করে ওপর দিকে থাকা কানে কয়েক ফোঁটা হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড দিন। ১০-১৫ মিনিট ওইভাবে থাকুন। তারপর মাথাটা উল্টো করলে দেখবেন কানের ভিতরে থাকা সলিউশন বেরিয়ে আসবে।

- সূত্র: বোল্ডস্কাই
প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার