কক্সবাজারে বিএনপির প্রার্থী হাসিনা আহমদের গাড়িতে আওয়ামীলীগের হামলা

Img

কক্সবাজার-১ (চকরিয়া ও পেকুয়া) আসনের বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট হাসিনা আহমদ গণসংযোগকালে তার গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় শনিবার বিকালে কক্সবাজার জেলা বিএনপি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি প্রার্থী হাসিনা আহমেদ দাবি করেন, আওয়ামী লীগের একদল সন্ত্রাসী এই হামলা চালিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে হামলার বর্ণনা তুলে ধরতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন হাসিনা আহমেদ। তিনি বলেন, ‘শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় গণসংযোগে যাওয়ার পথে আমাকে হত্যার উদ্দেশে ডুলাহাজারা ইউনিয়নের কাটাখালী ব্রিজের কাছে হামলা চালায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী জাফর আলমের কর্মী ও সমর্থকরা।

এ সময় ১০-১৫ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী নিয়ে হামলার নেতৃত্ব দেন স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য সাইফুল। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা শুধু হামলা করে ক্লান্ত হয়নি। আমার গাড়িসহ ৭টি গাড়িতে বেপরোয়া ভাঙচুর চালায়। পাশাপাশি ২টি মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় শতাধিক বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থক আহত হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন হাসিনা আহমেদ।

বিএনপি প্রার্থী দাবি করেন, এই হামলা আমাকে মেরে ফেলার জন্য করা হয়েছিল। এলাকাবাসী নিরাপদে সরিয়ে না নিলে ওই স্থানে আমার মৃত্যু হতো। বর্তমানে আমার জীবন নিয়ে খুবই শঙ্কায় রয়েছি। যে কারণে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা, পুলিশ সুপার ও চকরিয়া থানার ওসিকে এই ঘটনার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।

সংবাদ সম্মেলনে হাসিনা আহমেদ আরও বলেন, গত ১৩ ডিসেম্বরও চকরিয়া উপজেলার পৌর এলাকার ৮নং ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জাফর আলমের নেতৃত্বে আমার নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছিল। ওই হামলায় চকরিয়া পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র নুরুল ইসলাম হায়দারসহ অন্তত ৫ জন নেতাকর্মী আহত হন। এ ঘটনায় দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর পুলিশের সহায়তায় আমি বাড়ি ফিরে যাই।

তিনি দাবি করেন, চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ভোটারদের প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দিচ্ছে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর নেতাকর্মীরা।

হাসিনা আহমেদ জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা, পুলিশ সুপারকে উদ্দেশ করে বলেন, এভাবে যদি হামলা, ভাঙচুর, নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি ও মারধর করলে নির্বাচনী মাঠে প্রচারণা চালানো সম্ভব হবে না।

এমতাবস্থায় নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির স্বার্থে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং হামলাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার