ওমানে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বৃহত্তম বৈশাখী মেলা

Img

বৈশাখী মেলা বাঙালির প্রাণের উৎসব আর প্রবাসে এই উৎসব এর অপেক্ষায় থাকেন ওমান প্রবাসী বাঙালিরা সারাটা বছর। প্রবাসের একগুঁয়েমি কর্মব্যস্ততা আর একাকিত্ব এবং বিনোদন বঞ্চিত সবাই চায় একটু আনন্দ একটু উচ্ছাস তাই ওমানস্থ বাংলাদেশ সোশ্যাল ক্লাব আয়োজন করতে যাচ্ছে বাঙালির প্রাণের উৎসব বৈশাখী মেলা।

অনুষ্ঠিত হচ্ছে 27/04/2018 বউশার ক্লাবের তিনটি মাঠ জুড়ে। ওমানে সর্ব বৃহত্তম বাংলাদেশ কমিউনিটির আগ্রহ দেখে এই বিশাল জায়গা যাচাই বাছাই করে ক্লাব কতৃপক্ষ পরিদর্শনের পর পছন্দ করে চুড়ান্ত করেন।

স্টল বরাদ্দের সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত হয়েছে তাই স্টল নিতে ইচ্ছুক ব্যক্তিরা যোগাযোগ করুন আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম যুগ্ম আহ্বায়ক সিরাজুল হক আজেবা নুরুল আমিন সীব সহ সভাপতি রেজাউল করিম ও আজিমুল হক বাবুল।

পূর্ববর্তী সংবাদ

পর্যটকদের স্বর্গস্থান কক্সবাজার

"টেকনাফ থেকে কক্সবাজার; এত বড় সৈকত এই বিশ্বে আছে আর কার!" রুপকথার রাজ্য কক্সবাজার।

ভালবাসা কিংবা ভাললাগার অপর নাম কক্সবাজার। এক দিকে পাহাড় অন্যদিকে নীল জলরাশি। ঢেউয়ের পরে ঢেউ তীরে আসতে নিয়ে আসে সুখের প্রবাহ,চলে যেতে নিয়ে যায় দুঃখ বিরহ। কক্সবাজারের পূর্ব নাম ছিলো "প্যানওয়া" মানে হলুদ ফুল।আরেক নাম ছিলো "পালংকী"। পরে ইংরেজ ক্যাপ্টেন হিরাম কক্সের নামানুসারে "কক্সবাজার" নামকরন করা হয়।

কক্সবাজার জেলার আয়তন ২৪৯১.৮৫ বর্গকিলোমিটার। কক্সবাজারে রয়েছে মোট ৮টি উপজেলা। এইগুলো হলো- কক্সবাজার সদর, মহেশখালী, চকরিয়া,রামু, পেকুয়া,উখিয়া এবং টেকনাফ। কক্সবাজারের উল্লেখযোগ্য পর্যটন স্পট: রামু: বাঁকখালী নদীর তীরে অবস্থিত রামু। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের তীর্থ স্থান।

এইখানে রয়েছে অসংখ্য বৌদ্ধ বিহার। সম্রাট অশোক নির্মিত ২ হাজার বছরের প্রাচীন বৌদ্ধ মুর্তি। রামুতে আরো রয়েছে, নারিকেল বাগান, রাবার বাগান, বোটানিক্যাল গার্ডেন ইত্যাদি।

মহেশখালি: কক্সবাজার থেকে উত্তর পশ্চিমে পাহাড় অরণ্য ঘেরা মহেশখালী দ্বীপ।মহেশখালী মিষ্টি পান ও সুপারির জন্য বিখ্যাত। মহেশখালীর প্রধান আকর্ষণ "আদিনাথ মন্দির"। সমতল ভূমি থেকে ৬৯টি সিঁড়ি অতিক্রম করে আদিনাথ মন্দিরে উঠতে হয়। কয়েকশো বছর আগে এই মন্দির প্রতিষ্টিত হয়েছিলো ।এটিকে শিবমন্দিরও বলা হয়। প্রতিবছর শিবরাত্রির আগে-পরে আদিনাথ মন্দিরকে কেন্দ্র করে মেলা বসে।এই মেলা ৭-৮দিন ধরে চলে।

হিমছড়ি: কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত থেকে ১২কিমি দক্ষিনে অবস্থিত হিমছড়ি। একপাশে নীল জলরাশি, অন্যপাশে পাহাড়ের সারি। হিমছড়িতেই রয়েছে শীতল পানির ঝর্না। সিড়ি বেয়ে উঁচু পাহাড়ে উঠে খুব সহজেই সাগর পাহাড় ও কক্সবাজারের নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। বনভোজন এবং অভিনয় কলাকুশলী দের জন্য হিমছড়ি চমকপ্রদ স্থান।

ইনানী: কক্সবাজার সদর থেকে মেরিন ড্রাইভ সড়ক হয়ে ইনানী যেতে হয়। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত থেকে ২৫কিলোমিটার এবং হিমছড়ি থেকে ১৭কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ইনানী। কক্সবাজারের অন্যতম আকর্ষণীয় প্রবালগঠিত সমুদ্রসৈকত। পশ্চিমে সমুদ্র, পূর্বে পাহাড় দুয়ে মিলে অনন্য অসাধারণ দৃশ্য। মায়াবী যাদুর স্বর্গরাজ্য ইনানী।

টেকনাফ: কক্সবাজার থেকে ৮০কিলোমিটার দক্ষিণে নাফ নদীর তীরে অবস্থিত টেকনাফ। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত শেষ হয়েছে টেকনাফে এসে। টেকনাফের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ অসমাপ্ত প্রেমের এক অমর নিদর্শন " "মাথিনের কূপ"। মগ রাজকন্যা মাথিন এবং পুলিশ অফিসার ধীরাজ ভট্রাচার্য্য এর অমর প্রেমকাহিনীর স্মৃতি বিজড়িত এই মাথিনের কূপ। যুগে যুগে আজো অস্তিত্বশীল উজ্জ্বল।

সেন্টমার্টিন: বাংলাদেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন। টেকনাফ থেকে ৩০কিমি দক্ষিণে উত্তাল সাগরের বুকে সেন্টমার্টিন দ্বীপ। জনৈক ইংরেজ মিষ্টার মার্টিন এর নামানুসারে এ দ্বীপের নামকরণ করা হয় সেন্টমার্টিন। স্থানীয় নাম নারিকেল জিনজিরা। প্রচুর নারিকেল গাছ রয়েছে সেন্টমার্টিনে। নয়নাভিরাম সৌন্দর্যময় অনুপম অবকাশ কেন্দ্র সেন্টমার্টিন। আকাশনীল সমুদ্রনীল যেখানে মিশে একাকার।

সোনাদিয়া দ্বীপ: কক্সবাজার থেকে ৭কিমি উত্তর পশ্চিমে, বঙ্গোপসাগরের বুকে অবস্থিত ছোট দ্বীপ সোনাদিয়া। এটি শীতকালীন অতিথি পাখিদের আবাস স্থল। রয়েছে প্রচুর ঝিনুক শামুক। শুটকি তৈরীর কাজেও দ্বীপটি ব্যবহার করা হয়।

কুতুবদিয়া: কুতুব আউলিউয়ার নামানুসারে এই দ্বীপের নামকরণ করা হয় "কুতুবদিয়া"। নির্জন সমুদ্র সৈকত, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্র, লবণ চাষ, বাতিঘর, কুতুব আউলিউয়ার মাজার সহ রয়েছে দেখার মত অনেক কিছু। সূর্যাস্তের দৃশ্য দেখার জন্য কুতুবদিয়া আদর্শ জায়গা। এই দ্বীপের যে দিকেই চোখ যায়, কেবলই চোখ ধাঁধানো সৌন্দর্য।

এছাড়াও কক্সবাজারে রয়েছে আরো অসংখ্য দর্শনীয় স্থান। হাজার হাজার পর্যটক প্রতিনিয়ত ভীড় জমায় এইসব দর্শনীয় স্থানসমূহে। নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি কক্সবাজার। পর্যটকদের স্বর্গস্থান কক্সবাজার।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার