এলার্জি, কোল্ড নাকি ফ্লু

Img

কোভিড-১৯, এলার্জি, কমন কোল্ড নাকি ফ্লু? একজন মানুষ আসলে কী রোগে আক্রান্ত- তা জানে না বলেই দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। রোগগুলোর লক্ষণ সম্পর্কে নিম্নে বিস্তারিত আলোচনা করা হল, যাতে সবাই তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে একটি স্বচ্ছ ধারণা পান।

করোনাভাইরাস ডিজিজ বা কোভিড-১৯ একটি সংক্রামক রোগ, যা করোনাভাইরাস দ্বারা হয়ে থাকে। করোনাভাইরাসকে SARS-COV-2 নামেও অভিহিত করা হয়। কোভিড-১৯ আক্রান্ত অধিকাংশ মানুষই হালকা থেকে মাঝারি রেসপিরেটরি বা শ্বাসজনিত অসুস্থতা অনুভব করে থাকেন।

অধিকাংশ মানুষই বিশেষ কোনো চিকিৎসা ছাড়াই ভালো হয়ে যান। অপেক্ষাকৃত বয়স্কদের ক্ষেত্রে মারাত্মক জটিলতা দেখা দিতে পারে, যাদের কো-মরবিডিটি অর্থাৎ যাদের অন্য একটি ঘাতক বা জটিল ব্যাধি যেমন- হার্টের রোগ, কিডনি রোগ, ক্যান্সার, ক্রনিক রেসপিরেটরি ডিজিজ, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস অথবা লিভারের রোগ রয়েছে। কমন কোল্ডও একটি ভাইরাল সংক্রমণ, যা বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস দ্বারা হতে পারে। ভাইরাস সাধারণত নাক এবং গলায় সংক্রমিত হয়ে থাকে।

কমন কোল্ড হলে একজন রোগী স্বল্প থেকে মাঝারি মাত্রায় অসুস্থ হতে পারে। কমন কোল্ড যে কারো হতে পারে যদিও শিশুদের মধ্যে যাদের বয়স ৬ বছরের নিচে তাদের বেশি হয়ে থাকে। এলার্জি হয় তখন যখন রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা কার্যকর হয়ে ওঠে বাইরে থেকে কোনো বস্তু শরীরে প্রবেশ করলে যেমন ধুলোবালু, ফুলের রেণু এবং নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ যা অধিকাংশ মানুষের জন্য ক্ষতিকারক নয়। এলার্জি রিঅ্যাকশনে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা এন্টিবডি নিঃসরণ করে অথবা এন্টিবডি তৈরি হয়।

ফ্লু অথবা ইনফ্লুয়েঞ্জাও একটি সংক্রামক ভাইরাল রোগ, যা ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস দ্বারা হয়ে থাকে। ফ্লু ভাইরাসের কারণে স্বল্প থেকে মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে, যা বিশেষ করে নবজাতক এবং ছোট শিশুদের মাঝে বেশি দেখা যায়। যে কারো ইনফ্লুয়েঞ্জা হতে পারে কিন্তু কিছু মানুষের মারাত্মক ধরনের জটিলতার ঝুঁকি থাকে।

বিশেষ করে নবজাতক, ছোট শিশু, ৬৫ বছর অথবা তার চেয়ে অধিক বয়সী মানুষের ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দিতে পারে। এসব ক্ষেত্রে দেরি না করে দ্রুত ডাক্তারের চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া যাদের লম্বা সময় ধরে ডায়াবেটিস, অ্যাজমা, হার্টের রোগ রয়েছে এবং গর্ভবতীদের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। কোভিড-১৯, এলার্জি, কমন কোল্ড এবং ফ্লুয়ের লক্ষণগুলোর তুলনামূলক চিত্র দেখে নেয়া প্রয়োজন।

প্রথমেই জ্বরের বিষয়ে আলোচনা করি। জ্বর কোভিড-১৯-এর ক্ষেত্রে প্রায়ই দেখা যায়। এলার্জির ক্ষেত্রে জ্বর অনুপস্থিত থাকে। ফ্লুয়ের ক্ষেত্রে কমন অর্থাৎ দেখা যায়। কমন কোল্ডের ক্ষেত্রে সাধারণত জ্বর দেখা যায় না। যদি জ্বর থাকে তাহলে খুব কম মাত্রার জ্বর থাকে। শিশুদের ক্ষেত্রে কমন কোল্ডের লক্ষণ হিসেবে জ্বর বেশি দেখা যায়। অন্যদিকে ফ্লুয়ের ক্ষেত্রে অধিকাংশ রোগীরা ১০০ থেকে ১০২ ডিগ্রি জ্বর অনুভব করে থাকেন। ফ্লু ভাইরাসের লক্ষণ হিসেবে সবার জ্বর দেখা যায় না। ফ্লুয়ের লক্ষণগুলো এক সপ্তাহ থেকে দু’সপ্তাহ থাকতে পারে।

এবার কফের বিষয়ে একটু জেনে নেই। কোভিড-১৯-এর ক্ষেত্রে কফ দেখা যায়। তবে ব্যতিক্রম দেখা যেতে পারে। এলার্জির ক্ষেত্রে কফ বিরল। যেহেতু কমন কোল্ড এবং ফ্লু- উভয়ই ওপরের শ্বাসনালির সংক্রমণ তাই উভয় ক্ষেত্রেই লক্ষণ হিসেবে কফ বা কাশি থাকাটাই স্বাভাবিক। কমন কোল্ডের লক্ষণ হিসেবে প্রথমে কফ বা কাশি প্রডাক্টিভ হবে কিন্তু পরে শুকনো কাশি হয়ে যায়। ফ্লুয়ের ক্ষেত্রে কফ শুকনো হয়ে থাকে এবং বেশি হয়ে থাকে। ফ্লুয়ের জটিলতা হিসেবে নিউমোনিয়া দেখা দিতে পারে, যা রোগীকে অত্যন্ত অসুস্থ করে দেয় এবং মাঝে মাঝে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়।

শ্বাস নিতে সমস্যা কোভিড-১৯-এর ক্ষেত্রে কমন অর্থাৎ দেখা যায়, এলার্জির ক্ষেত্রে বিরল, ঠাণ্ডা বা কোল্ডজাতীয় সমস্যায় দেখা যায় না, ফ্লুয়ের ক্ষেত্রেও কম দেখা যায়। কোভিড-১৯-এর ক্ষেত্রে যদি শ্বাস নিতে সমস্যা হয় তবে সেক্ষেত্রে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে অক্সিজেন দিতে হবে। অক্সিজেন দিতে দেরি হলে রোগীকে আইসিইউতে ভর্তি করানোসহ যে কোনো ধরনের জটিলতার সম্মুখীন হতে হয়। মাংসপেশির ব্যথা কোভিড-১৯-এর ক্ষেত্রে সচরাচর পরিলক্ষিত হয়ে থাকে।

এলার্জির ক্ষেত্রে মাংসপেশির ব্যথা থাকে না। ফ্লুয়ের ক্ষেত্রে মাংসপেশির ব্যথা কমন অর্থাৎ দেখা যায়। কমন কোল্ড বা ঠাণ্ডাজনিত সমস্যায় মাঝে মাঝে মাংসপেশির ব্যথা পরিলক্ষিত হতে পারে। সোর থ্রোট বা গলায় ক্ষত সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। এলার্জির ক্ষেত্রে খুবই কম দেখা যায়। ফ্লুয়ের ক্ষেত্রে মাঝে মাঝে দেখা যায়। কমন কোল্ড বা ঠাণ্ডাজনিত সমস্যায় কমন অর্থাৎ দেখা যায়।

ডায়রিয়া সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। এলার্জির ক্ষেত্রে সাধারণত ডায়রিয়া হয় না। ফ্লুয়ের ক্ষেত্রে মাঝে মাঝে হতে পারে। ঠাণ্ডা বা কোল্ডজনিত সমস্যায় দেখা যায় না। তবে কোভিড-১৯-এর ক্ষেত্রে অর্থাৎ কারও শরীরে করোনাভাইরাস প্রবেশ করলে তার ডায়রিয়া দেখা দিতে পারে।

নাকে গন্ধ না পাওয়া সম্পর্কে জেনে নিতে হবে। কোভিড-১৯-এর ক্ষেত্রে মাঝে মাঝে আপনি নাকে গন্ধ নাও পেতে পারেন। এলার্জি, কমন কোল্ড এবং ফ্লুয়ের ক্ষেত্রেও মাঝে মাঝে নাকে গন্ধ হারিয়ে যেতে পারে। তবে এটির পরিমাণ কম।

সর্দি সম্পর্কে জেনে নেই। কোভিড-১৯-এর ক্ষেত্রে মাঝে মাঝে সর্দি দেখা যেতে পারে বা নাক দিয়ে পানি পড়তে পারে। এলার্জির ক্ষেত্রে কমন। ফ্লুয়ের ক্ষেত্রে মাঝে মাঝে সর্দি হতে পারে এবং কমন কোল্ডের ক্ষেত্রেও সর্দি হতে পারে। কোভিড-১৯-এর ক্ষেত্রে চোখ চুলকানো দেখা যায় না। এলার্জির ক্ষেত্রে এটি কমন। ফ্লু বা ঠাণ্ডাজনিত সমস্যায় চোখ চুলকানো দেখা যায় না। কোভিড-১৯-এর ক্ষেত্রে মাঝে মাঝে হাঁচি দেখা যায়। এলার্জির ক্ষেত্রে কমন।

ফ্লু এবং কমন কোল্ডের ক্ষেত্রে মাঝে মাঝে হাঁচি দেখা যেতে পারে। কোভিড-১৯-এর ক্ষেত্রে মাঝে মাঝে মাথাব্যথা হতে পারে। এলার্জির ক্ষেত্রে বিরল। কমন কোল্ড বা ঠাণ্ডাজনিত সমস্যায় মাঝে মাঝে মাথাব্যথা হতে পারে। ক্রমাগত দুশ্চিন্তা করলে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। তাই কোভিড-১৯সহ কমন কোল্ড, ফ্লু, এলার্জির লক্ষণগুলো সম্পর্কে আমাদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন যাতে করে আমরা কোনো ধরনের জটিল বা মারাত্মক অবস্থার স্বীকার না হই। সচেতনতাই পারে অনেক বিপদ থেকে রক্ষা করতে। তাই করোনাভাইরাসকে ভয় না পেয়ে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন।

পূর্ববর্তী সংবাদ

সংসার খরচ কমিয়ে সঞ্চয় করবেন যেভাবে

প্রতিনিয়ত কাঁচাবাজার থেকে শুরু করে বাসা ভাড়া ও সন্তানের স্কুল সব জায়গাতেই খরচ বাড়ছে। তবে সংসারে খরচ বাড়ার পাশাপাশি সঞ্চয়ও করতে হবে।

যেমন পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে বা বাড়তি কোনো খরচ করতে চাইলে আপনাকে প্রতিমাসে অল্পকিছু টাকা তো জমাতেই হবে। তবে অনেকে সংসারের খরচ চালাতেই হিমশিম খান। তাই সঞ্চয় অনেকের কাছে স্বপ্নই থেকে যায়।

তবে আপনি চাইলে এই কষ্টের মধ্যে সামান্য সঞ্চয় করতে পারেন। আসুন জেনে নেই কীভাবে খরচ কমিয়ে সঞ্চয় করা যায়।

খরচ কমাতে যা করবেন-

১. প্রয়োজনের অতিরিক্ত খরচ করবেন না। শৌখিন জিনিস কেনা থেকে বিরত থাকুন।

২. প্রয়োজনের অতিরিক্ত শপিং করবেন না। সাধ ও সাধ্যের দিকে খেয়াল করুন।

৩. পার্লারে না গিয়ে ঘরেই সৌন্দর্যচর্চা করুন। উৎসবে উপহারের বাজেট কাটছাঁট করুন।

টাকা কীভাবে জমাবেন

আয়ের অন্তত ৫ থেকে ১০ শতাংশ টাকা জমাতে চেষ্টা করুন। সপ্তাহ শেষে বাজেটের সঙ্গে খরচের হিসাব মেলান। বেতন পাওয়ার পর বাড়ি ভাড়া, ইলেকট্রিক বিল, সন্তানের স্কুলের বেতন ইত্যাদি দেওয়ার পর যে টাকা থাকবে তার ১০ শতাংশ সেভিংস অ্যাকাউন্টে জমা রাখুন।

সপ্তাহে একদিন বা দু'দিন বাজারে যান। তালিকা মিলিয়ে জিনিস কিনুন হিসেব করে। অযথা কেনাকাটা না করাই ভালো।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার