এমসি কলেজে গণধর্ষণ: আসামি মাহফুজ গ্রেফতার

Img

সিলেটের এমসি কলেজের হোস্টেলে গৃহবধূকে গণধর্ষণ মামলার আরেক আসামি মাহফুজুর রহমানকে (২৫) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সে কানাইঘাটের দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউপির লামা দলইকান্দি গ্রামের বাসিন্দা সালিক আহমদ ছেলে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১ টার দিকে জৈন্তাপুরের হরিপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। 

প্রবাসীর দিগন্তকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অভিযানে নেতৃত্বধানকারী সিলেট জেলা পুলিশের সহকারী মিডিয়া অফিসার ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)-এর উত্তরের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল আলম।

তিনি বলেন, আমাদের এসপি স্যার (মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন পিপিএম) এর নির্দেশে আমরা অভিযান পরিচালনা করে ধর্ষণ মামলার অন্যতম আসামি মাহফুজকে গ্রেফতার করি। তাকে সকালে মহানগর পুলিশের শাহপরান থানায় হস্তান্তর করা হবে।

পুলিশ জানায়, গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় জেলা পুলিশ মাহফুজের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে জৈন্তাপুরের হরিপুর এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সিলেট জেলা পুলিশের সহকারী মিডিয়া অফিসার ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)-এর উত্তরের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল আলম ও কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুদ্দোহা পিপিএম।

এ ঘটনায় এ পর্যন্ত ৭ জনকে গ্রেফতার ও আটক করেছে পুলিশ ও র‍্যাব।

এদিকে, এ মামলার গ্রেফতারকৃত প্রধান আসামি সাইফুর রহমান, অর্জুন লস্কর ও রবিউল ইসলাম ৫ দিনের করে রিমান্ডে আছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সিলেট মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট-২ আদালতের বিচারক সাইফুর রহমান তাদের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

এ দিন বেলা ১২ টায় প্রথমে সাইফুর রহমান ও অর্জুন লস্করকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের প্রত্যেকের ৫ দিনের করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে বেলা ৩ টায় মামলার অপর আসামি রবিউল ইসলামকে আদালতে হাজির করা হয়। এসময়ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহপরাণ থানার ওসি (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৭ টার দিকে সিলেট এমসি কলেজের হোস্টেলে এক গৃহবধূকে গণধর্ষণ করেছে মহানগর ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী। অভিযুক্ত সবাইও ছাত্রলীগ কর্মী।

এদিকে গৃহবধূকে গণধর্ষণের ঘটনায় ৬ জনকে আসামি করে এসএমপির শাহপরাণ থানায় মামলা দায়ের করেন নির্যাতিত ওই গৃহবধূর স্বামী মাইদুল ইসলাম।

মামলার আসামিরা হলেন- সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার উমেদনগরের রফিকুল ইসলামের ছেলে তারেকুল ইসলাম তারেক (২৮), হবিগঞ্জ সদরের বাগুনীপাড়ার মো. জাহাঙ্গীর মিয়ার ছেলে শাহ মো. মাহবুবুর রহমান রনি (২৫), জকিগঞ্জের আটগ্রামের কানু লস্করের ছেলে অর্জুন লস্কর (২৫), দিরাই উপজেলার বড়নগদীপুর (জগদল) গ্রামের রবিউল ইসলাম (২৫) ও কানাইঘাটের গাছবাড়ি গ্রামের মাহফুজুর রহমান মাসুম (২৫)। এছাড়া আরও ৩ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।

ইতিমধ্যে সাইফুর, অর্জুন, রবিউল, রনি ও রাজনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনায় অভিযুক্তকে সহযোগিতা করায় আইনুল নামের আরও ১জনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

অন্যদিকে রোববার দুপুরে সিলেট মহানগর হাকিম ৩য় আদালতের হাকিম শারমিন খানম নিলার কাছে সেই রাতের ঘটনার জবানবন্দি দেন নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ। এসময় তিনি ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন। আর আদালত গৃহবধূ জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার