বাংলাদেশিদের জন্য শ্রমবাজার আবার খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মালয়েশিয়া। দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রী কুলাসেগারান জানিয়েছেন, এক থেকে দুই মাসের মধ্যে প্রক্রিয়া শুরু হবে। তার এই ঘোষণার পর নতুন কী পদ্ধতিতে দেশটি লোক নেবে, সেটি আলোচনায় এসেছে। কারণ তারা ২০১৮ সালে ফরেইন ওয়ার্কার অ্যাপ্লিকেশন সিস্টেম (এসএসপিএ) বন্ধ করে দেওয়ার পর নতুন কোনো নিয়মের কথা এখনো জানায়নি।

গত সোমবার নবম প্লান্টারাস সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে কুলাসেগারান বলেন, ‘আশা করছি এক থেকে দুই মাসের মধ্যে স্থগিতাদেশ শেষ হবে। এটা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে আনা হয়েছে, যাতে বাংলাদেশ থেকে আবার শ্রমিক আসতে পারে।’

মালয়েশিয়ার প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘দ্য স্টার’ তাদের অনলাইন সংস্করণে জানিয়েছে, বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেওয়া বন্ধ করায় দেশটির কয়েকটি প্রধান শিল্পখাত বিপাকে পড়েছে। বিশেষ করে প্লানটেশন এবং কনস্ট্রাকশন খাত বেশি সমস্যায় আছে।

আগের এসপিপিএ সিস্টেমে ১০টি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নিয়োগ করা হত। তখন ওয়ার্ক পারমিট এবং আনুষঙ্গিক খরচ বাবদ একটি এজেন্সিকে একজন শ্রমিককে প্রায় চার লাখ ১০ হাজার টাকার মতো দিতে হতো। অথচ খরচ হওয়ার কথা ৪০ হাজার টাকার মতো! এজেন্সিগুলোর এমন দুর্নীতির কারণে তখন শ্রমিক নেওয়া বন্ধ করে মালয়েশিয়ান সরকার।

মালয়েশিয়া এর আগেও বহুবার বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেওয়া বন্ধ করেছে। আবার চালুও করেছে। গত ২৬ বছর ধরে এমন চলছে।

দ্য মালয়েশিয়ান অবজারভার জানিয়েছে, নতুন পদ্ধতিতে পরিমিত খরচে যেন শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হয়, সেটি নিশ্চিত করতে চায় তাদের সরকার। সেই পদ্ধতিটা কী হবে, সেটি এখনো জানাতে পারেনি দেশটির কোনো সংবাদমাধ্যম।