এন্ড অর দ্য রিডিং ক্যাফে

বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি ইংরেজি বই সংগ্রহ কেন্দ্র

image
image
image

দ্য রিডিং ক্যাফে ঢাকা শহরের ৪ টি পয়েন্টে রয়েছে এদের শাখা, নিউ মার্কেট,  বনানী ও গুনশানে রয়েছে এদের ব্রাঞ্চ সমূহ।  নিউ মার্কেটের পাশে টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের অপজিট সাইটের খান প্লাজার দ্বিতীয় এবং তৃতীয় তলায় রয়েছে দ্য রিডিং ক্যাফের মূল শপটি। প্রায় ৩৬ হাজার বইয়ের সংগ্রহ রয়েছে দ্য রিডিং ক্যাফের। বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি  অরিজিনাল ইংরেজি বইয়ের সংগ্রহের লাইব্রেরি এটি। প্রতিদিন সকাল ১০ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত খোলা রাখা হয় এ গ্রন্থ কেন্দ্রটি। 

ইংরেজি সাহিত্যের ফিকশন, নন ফিকশন, বায়োগ্যাফি, আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রাপ্ত বই, বিখ্যাত লেখকদের সাহিত্য, সফল ব্যাক্তিদের জীবনীগ্রন্থ,  সিরিজ বই, শিশুসাহিত্য, ক্যামিস্টি, ফিজিক্স, বায়োলজি, গণিতসহ বিশ্বের সকল বিষয়ের গুরুত্বপূর্ণ ইংরেজি ভার্সনের বই পাবেন এখানে। বাংলাদেশের ইংরেজি ভার্সনের সকল শিক্ষার্থীদের বই গুলোর অন্যতম সেরা একটি লাইব্রেরি দ্য রিডিং ক্যাফে। বিশ্ব বিখ্যাত চলচ্চিত্রের বইগুলোও পাবেন এ স্থানে।  ঢাকা শহরের সেরা সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ইংরেজি সাহিত্যের চাহিদা পূরনে এখানে আসে নিয়মিত।  

শিশুদের জন্য রয়েছে নানা রঙের রঙিন রঙিন বিষয়ভিত্তিক বইসমূহ তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য  ফল,ফুল,সাধারণ জ্ঞান, রঙ,গল্প, গেম, মহান ব্যাক্তি বিবিধ অরিজিনাল সকল বই। অরিজিনাল ইংরেজি সাহিত্যের অন্যতম সেরা একটি লাইব্রেরি দ্য রিডিং ক্যাফে।

২০১৩ সালে এ প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু করা হয় খান প্লাজায়। আপনার পছন্দের ইংরেজি বইটি যদি এ লাইব্রেরির সংগ্রহে নাও থাকে তাহলে তারা বইটি স্পেশালভাবে অর্ডার দিয়ে পাঠককে এনে দেয়ার ব্যবস্থা করেন। 

পূর্ববর্তী সংবাদ

প্রবাসের সুখ দুঃখের অনুভূতি

তোমার হৃদয়ের সৌন্দর্যে আকৃষ্ট হয়ে মনের বিস্তৃত আঙ্গিনা পেরিয়ে ভালবাসার স্রোতে বির্বতনের ধারায় বিবর্তিত হয়ে তরী ভিড়িয়েছিলাম তোমার কুলে।শূন্য তরী ভড়িয়ে দিয়েছিলে ভালবাসায় কানায় কানায়, কোন কিছু দাবী না করতেই উজাড় করে দিয়েছিলে দু’হাত ভরে।ঋনী হবার সুযোগ না দিয়ে চির জীবনের জন্য ঋনী করে রাখলে হৃদয়ের বন্ধনে মনোমন্দিরে। মোমের আলোয় আলোকিত করে রেখেছো এখনও আমার জীবনের প্রতিটি ক্ষন।

ভালবাসায় বন্ধুত্বে পাশাপাশি অবস্থান করছো অযত্মে অবহেলায়। যতটুকু প্রাপ্য আছে আমার কাছে তাও অপূরন রাখছি দীর্ঘদিন।আবেগ ভরা কন্ঠে প্রায়ই বলো কি পেলাম জীবনে? আর কি পাবার বাকী আছে ? জীবনের কঠিন বাস্তবতায় হয়তো এ প্রশ্নের উত্তর কোনদিন দেয়া হবে না, মনের আবেগ লুকিয়ে কয়েক ফোটা চোখের জল ফেলা ছাড়া।সুখী করার অঙ্গীকার নিয়ে, সত্যিকার ভালবাসায় জীবন আঙ্গীনা ভড়িয়ে দিতে, সুখ স্বপ্নের বাসর সাজাতে বুক ভরা স্বপ্ন নিয়ে মাতৃভূমি ছেড়েছিলাম কয়েক বছর আগে।

মা এবং মাতৃভূমির মায়া ছেড়ে পাড়ি জমিয়েছি প্রবাসে।সৃষ্টিশীল মানুষের কাছে প্রবাস হলো দেয়ালহীন কারাগারসম।স্বপ্নরা প্রতিনিয়ত বাসাবাধেঁ কিন্তু পূরন হবার অবসর পায় না।সমস্ত স্বপ্ন এলোমেলো হয়ে যায়।রাত গভীর হলে আস্তে আস্তে স্বপ্নরা ভির করে মনের জানালায়, কাটে নির্ঘুম রাত অসংখ্য স্মৃতির ভিড়ে।মানুষের মন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বড় রহস্যের মধ্যে একটা রহস্য।

এই রহস্যময় মনের রহস্য ভেদ করা বড়ই কঠিন।প্রবাস জীবনের সমস্ত আদর আর অফুরন্ত ভালবাসা এই রহস্যে প্রতিনিয়তই ঘুরপাক খায়।মাঝে মাঝে মনে হয় ভালবাসার বরফগলা নদীতে আজ বড়ই সঙ্গীহীন, ভালবাসাহীন একা।রাত গভীর হলে আস্তে আস্তে দুশ্চিন্তা বাড়ে।মনের মাঝে দেশের ছোট ছোট স্মৃতি এসে ভিড় করে।জীবনের সমস্ত আদর, অফুরন্ত ভালোবাসার টানে মন ছুটে যায় পদ্মা বিধৌত জল-জোছনার কৈশোর প্রেমের তীর্থস্থান ঢাকার দোহারের পদ্মাতীরবর্তী মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বেষ্টিত গ্রাম কৃষ্ণদেবপুরে আজও আমার মন প্রানকে নাড়া দেয়। ভাবনায়, স্বপ্নে আজও বিচরন করি আখক্ষেতের পাশঘেষা মেঠো পথে।

মা, মাটির টানে গ্রাম্য মেঠো পথ ধরে সোনালী ধান ক্ষেতের পাশে।যেখানে ধানের শীষে খেলা করে ভোরের শিশির বিন্দু।সূর্যের আলো পড়ে এক অরূপ দৃশ্য সৃষ্টি করে।যতক্ষন জন্মভূমির চিন্তা মাথায় থাকে ততক্ষনই ভালবাসার সংস্পর্শে থাকা যায়।দেশের কথা ভাবলেই মনটা ভালো হয়ে যায়।প্রতিটি প্রবাসীই জন্মভূমি ছেড়ে প্রবাসে থাকলেও মনের অজান্তেই দেশকে প্রতিমুহূর্ত অনুভব করে।একজন প্রবাসী সীমাহীন কষ্ট আর না পাওয়ার অতৃপ্তি নিয়ে প্রবাসী হয়।ভালবাসার কষ্টেরা সব সময় চোখের কোনে অশ্রু হয়ে জমাট বাধার আগেই লুকিয়ে ফেলতে হয় দেশে অপেক্ষমান প্রিয়জনদের কথা ভেবে।

তাই প্রবাসীর দুঃখের অশ্রু কেউ দেখে না।রুমালে মোছার আগেই মরুর তপ্তরোদে শুকিয়ে যায়, প্রতিটি রাত্রি ভোর হয় সঙ্গীহীন, ভালবাসাহীন, মমতাহীন, একা।মূলত,দেশের বিভিন্ন উৎসব মানুষের জীবনে নিয়ে আসে পরম আনন্দ আর পেছনে থাকে এর অন্তর্নিহিত তাৎপর্য। তেমনি দেশের ঈদের সীমাহীন আনন্দ উপভোগের সঙ্গে সঙ্গে পরম করুনাময়ের উদ্দেশে নিজেকে নিবেদিত করতে সকলে একত্রিত হয়, আর মানুষে মানুষে ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে ত্যাগের, ভ্রাতৃত্বের, ঐক্যের, সম্প্রীতির এবং সৌহার্দ্য-সহমর্মিতার মহান আদর্শ অনুধাবন করে। জীবনের দীর্ঘযাত্রায় অতীতের উৎসবের স্মৃতি বাংলার মাটি ও মানুষের মতো আমার অস্তিত্বে গভীর নোঙর বেঁধে আছে আজও।

সেদিন আকাশে শ্রাবণের মেঘ ছিল, ছিল নাকো চাঁদ! জীবনের প্রথম প্রবাস গমন, সাময়িক কিছু আনন্দ থাকলেও বেদনার যেন কোনও কমতি ছিল না। তখন শীতকাল। প্রচণ্ড শীত কুয়াশার চাদর দিয়ে ডেকে রেখেছিল গোটা পৃথিবীটাকে। আকাশের সূর্যের সঙ্গে সেদিন পৃথিবীর কোনও মিলন ঘটেনি। ঠিক ওদের মানসিক অবস্থা আর আমার মানসিক অবস্থার মধ্যে কোনও দূরত্ব ছিল না। বিদায় যে বড় কঠিন, বড় নির্মম সেদিন তা অনুভব করেছিলাম হাড়ে হাড়ে। দেশপ্রেম কি, বন্ধুত্ব কি, আত্মার সম্পর্ক কি? ভালবাসা কি? ভালবাসার রূপ, রঙ, গন্ধ, বর্ণ সবকিছু সেদিন মন অনুভব করেছিল একান্ত করে। সেদিন অনেকেই বোবা কান্নায় কেঁদেছিল। সবচেয়ে বড় একা হয়ে গিয়েছিল আমার সন্তান আমার দ্বিতীয় আত্মা। সে আমার কোলে আমার গলা ধরে সবার দিকে ফেলফেল করে তাকিয়ে থেকে মাঝে মাঝে আমার গালে চুমু দিচ্ছিল। আর আমি যেন অনেকটা বোবা পাথর হয়ে গিয়েছিলাম।

সেদিন বিদায়ের বাঁশির সকরুণ সুর আজও আমাকে নীরবে কাঁদায়। আমি হারিয়ে যেতে থাকি ভাবনার অতল গভীরে। আমার স্মৃতিমাখা সে দিনগুলো যেন আজও স্মৃতি হয়ে ভেসে বেড়ায় মনের জানালায়।আমার ঢাকার কর্মব্যস্ত জীবন কেটেছে বেশিটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মহসীন হলে। ঈদের ছুটি কাটাতে যখন গ্রামের বাড়ীতে আসতাম তখন গ্রামের পুরনো বন্ধুদের নিয়ে চলে যেতাম পদ্মার তীরে। সেখানে আড্ডা চলত মাঝ রাত পর্যন্ত। জানি না আজ আর সে আড্ডা জমে কিনা, আমার জানা নেই হয়তোবা জমে নয়তোবা নয়। হয়তোবা বন্ধুরা আমার শূন্যতা অনুভব করে, নয়তো নয়! কিন্তু আমি আজও অতীতের সেই সোনাঝরা দিনগুলো হৃদয়ের ক্যানভাস থেকে কিছুতেই মুছতে পারিনি। সবাই হয়তো ভুলে গেছে, কেননা বড় বড় আনন্দ উৎসবের দিনগুলোতে তারা কেউ একটা এসএমএস দিয়েও মনে করে না। প্রথম প্রথম দেশের বন্ধুদের প্রচুর চিঠি লিখতাম। কিন্তু কখনো উত্তর পায়নি। বিভিন্ন উৎসব আসলে মোবাইল এসএমএসের মাধ্যমে শুভেচ্ছা পাঠাতাম। এখন তাও অনেকটা কমিয়ে দিয়েছি তাদের কাজ থেকে সাড়া না পেয়ে। তারপরও অতীত স্বপ্নকে লালন করি সযতনে বুকের গভীরে।

স্বপ্নই সবাইকে বাঁচিয়ে রাখে প্রবাসের আত্মীয় পরিজনহীন একাকী পরিবেশে। স্বপ্ন! স্বপ্ন সবাই দেখে,কেউ জেগে কেউবা ঘুমিয়ে। ঘুমের মাঝে স্বপ্ন সবার কাছেই আসে।আমার কাছে প্রতি রাতেই আসে। বিচ্ছিন্ন খন্ড খন্ড স্বপ্ন। স্বপ্নতো আর সাজিয়ে গুছিয়ে ধারাবাহিক ভাবে আসে না। যে রাতে আমি স্বপ্ন দেখিনা, সে রাতটা আমি ধরে নেই আমার বিনিদ্র রজনী কেটেছে। ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখিনি সে আমার জীবনে কখনো ঘটেনি। ঘুম বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বপ্নের একটা সময় সীমা আছে সেটা কখনো দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে না।

কিন্তু আমার স্বপ্ন গুলি অনেক দীর্ঘ হয়, অন্তত আমার কাছে সেটা মনে হয়।আমার স্বপ্ন আমার বাস্তব চিত্রের সাথে মিলে মিশে আমাকে কঠিন ভাবে ফিরিয়ে নিয়ে যায় ফেলে আসা অতীতে। দেশের মানুষের কাছাকাছি।কর্মব্যস্ততার এই প্রবাসে মানুষের জীবনে অবসরের বড় অভাব। তবুও প্রতিদিন জীবনের এই পথ চলতে গিয়ে ২৪ ঘন্টার মধ্যে কোনো না কোনো সময় মন ছুটে যায় কোনো স্মৃতির পাতায়_ যা সীমাবদ্ধ থাকে না কোনো একটি মধুর বা বেদনাবিধুর স্মৃতিতে। ঈদ এলে সেটা আরো ভারাক্রান্ত করে এ হৃদয়কে। আসলে আমাদের জীবনে এমন পূর্ণ অবসর নেই তাই চিন্তাধারাগুলো এখন আর একটি জায়গায় সীমাবদ্ধ থাকে না। এক বর্ষণমুখর দিনে সোনার হরিনের আশায় দেশ ত্যাগ করি।

এই প্রবাসে ঈদে যখন অবসরের স্বাদ নিতে চাই তখনই ফেলে আসা অতীতের কিছু মুখ ভেসে ওঠে স্মৃতির আয়নায়। একদিন যার কথা শুনতে চাইনি, আজ ঈদ অবসরে তার মধুর স্মৃতি বেশী মনে পড়ে। এখনও ঈদের অবসরে পড়ন্ত বিকেলে যখন আরব সাগরের তীরে গিয়ে দাঁড়াই, রাতের আঁধারে যখন ছোটখাটো অবসরগুলো কাটে তখন সেই সুখস্মৃতিগুলোই যেন স্থান করে নেয় সমস্ত মনজুড়ে। মনেপড়ে, সেই অগোছালো জীবনে ছিলো না কোন স্থিরতা।

পরিচিত হলো দুটো মন সময়ের পথ ধরে এগিয়ে চললো তারই ধারাবাহিকতা। ওই মধুর স্মৃতি, সে আসবে বলে কত স্বপ্ন এঁকেছি জীবনের বাঁকে বাঁকে। এখনও যেন সেই স্বপ্নের রাজ্যে আছি। মাঝে মাঝে ভিড় করে স্কুল কলেজের ফেলে আসা সেই দিনগুলো এবং আরও কতস্মৃতি। কিন্তু সব স্মৃতিকে ভাসিয়ে সামনে চলে আসে স্বদেশে ঈদ আনন্দের স্মৃতি, মায়ের সেমাই, বাড়ীর পাশের ঈদগাহে নামাজ শেষে দীর্ঘক্ষন হাততুলে মোনাজাতের স্মৃতি। প্রবাস জীবনের কর্মব্যস্তার মাঝে শুরু হল নতুন এক পথচলা। এখনও যেন স্বাপ্নিক চোখে ভেসে আসে নানা রঙের রাঙ্গায়িত স্বপ্নের সেই দিনগুলো_যা ঈদ আসলে দিয়ে যায় মৃদু আনন্দের ছোঁয়া। অবসরের মুহূর্তে ভেসে চলি ফেলে আসা সেই দিনগুলোতে।

প্রবাস জীবনের অনেকগুলো বছর পেরিয়ে যখন দেখি পেছনের দিনগুলো ধূসর ধূসর, আর সেই ধূসরতার শরীর থেকে হঠাৎ হঠাৎ কোনও ভুলে যাওয়া অতীত স্বপ্ন আচমকা সামনে এসে দাঁড়ায় বা কোনও স্মৃতি টুপ করে ঢুকে পড়ে আমার প্রবাসী একাকী নির্জন ঘরে, আমাকে কাঁপায়, আমাকে কাঁদায়। যে স্বপ্নগুলো অনেককাল মৃত, যে স্বপ্নগুলোকে এখন আর স্বপ্ন বলে চেনা যায় না, মাকড়শার জাল সরিয়ে ধুলোর আস্তর ভেঙ্গে কি লাভ সেগুলোকে নরম আঙুলে তুলে এনে। জানি সব, তবুও আমার প্রবাসের জীবন আমাকে বারবার পেছনে ফিরিয়ে নিয়ে যায়, আমি আমার অতীত জুড়ে মোহগ্রস্থের মতো এখনো হাঁটি।

দুঃস্বপ্নের রাতের মতো এক একটি রাত আমাকে ঘোর বিষাদে আচ্ছন্ন করে রাখে এখনও। সন্ধ্যা রাতের তারা হয়তো আর আলো জ্বালবে না হৃদয় নিকুঞ্জে। পাল তোলা নৌকা আর বয়ে চলবে না জীবন গঙ্গায়। যান্ত্রিকতার মাঝেও ঈদ প্রবাসীদের জীবনে আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে।প্রবাসে ঈদের আমেজ খুজে পাওয়া যায় ঈদের নামাজের আসরে গিয়ে। সকালে ঈদের নামাজ, তারপর নতুন বাহারী পোষাক আর ঘরোয়া পরিবেশে রকমারী সুস্বাদু খাবার খেয়েই ঈদের আনন্দ শুরু হয়। প্রবাসের ভিন্ন পরিবেশে তাই ঈদের বাহ্যিক আবরণটি ঘরের বাহিরে তেমন ভাবে দেখা যায় না।তাই প্রবাসের মুলধারার জীবন দর্পনে ঈদ তেমন প্রভাব ফেলে না। তবুও বাংগালী মুসলমানদের অন্তরে ঈদ লালিত হয় আবেগ অনুভূতি আর ভালবাসার অফুরন্ত উচ্ছাস নিয়ে। তারপরও ঈদের ছুটির অবসরে প্রীতিময় সামাজিকতার আঙ্গিকে ভরে উঠে প্রবাসীদের মন।

একজন মানুষের শৈশব, কৈশোর, যৌবন, কর্মজীবন, এবং থাকে অবসর জীবনের বৃদ্ধকাল, জীবনের এই সময় গুলি যেন কোন সৃষ্টিশীল মানুষের প্রবাসে না কাটে, সময় গুলি কাটে যেন মায়ের কাছাকাছি, মাটির কাছাকাছি, জন্মভূমির কোলে। একসময় ভাবতাম চলচ্চিত্র জীবনেরই প্রতিচ্ছবি, জীবনের চলমান, ঘটমান ঘটনা প্রবাহই এর মূখ্য উপজিব্য।প্রবাসী হয়ে বুঝলাম জীবনটা একটা একশন থৃলার মুভি। প্রতিমূহুর্তে নতুন নতুন দৃশ্যে হাজির হচ্ছি।স্বা্ভাবিক জীবনযাপন, স্বাভাবিক মৃত্যু ভাবাই যায় না।প্রতিমুহুর্তে বিবেকহীন, মনুষ্যত্বহীন মানুষের কর্মকান্ড চোখের সামনে ভেসে উঠে।ভাবি কিভাবে আমার সোনার দেশের সোনার মানুষ গুলি রাজনৈতিক কল্যানের কথা মুখে বলে কাজ করে সম্পূর্ন উল্টো।প্রবাসীরা  শ্র্রমে ঘামে পরিশ্রমের রেমিটেন্স দেশে পাঠিয়ে দেশের উন্নয়নের চাকা সচল রাখছে আর একশ্রেনীর সরকারী  আমলা ও রাজনৈতিক নেতা বিদেশে পাচার  করছে।

অতি সহজেই দেশের সাধারন মানুষের বিশ্বাস, সরলতা, নিয়ে ছিনিমিনি খেলে? ভাবি কিভাবে বিবেকবান মানুষ গুলি মনুষত্ব, মূল্যবোধ, বিবেকবুদ্ধিহীন হয়ে যায় নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারের জন্য।স্বশিক্ষায় শিক্ষিত মানুষের কল্যানে, মানুষের বিপদে পাশে থাকার ব্রত নিয়ে চিকিৎসা পেশায় নিয়োজিত থেকে অমানবিক নির্যাতন চালায় বাসার কাজের মেয়ের উপর, উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা যার কাছে জাতি অনেক কিছু আশা করে সে কিনা বাসার কাজের মেয়ের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলে, সেটা ধামাচাপা দিতে হাতে খুনের রক্তে রঞ্জিত করতে হয়।মা-বাবার অবহেলা আর অসচেতনার জন্য আজ তরুন প্রজন্ম বিপদগামী।স্বামী শারীরিক, মানষিকভাবে স্ত্রীর উপর নির্যাতন চালায়, সামান্য স্বার্থের লোভে বন্ধু খুন করে বন্ধুকে, সম্পদের লোভে ছেলে খুন করে জন্মদাতা, জন্মধাত্রী মা-বাবাকে।সাংবাদিক দম্পতি খুন হয় ১০ দিনেও খুনের রহস্য উৎঘাটন হয় না, খুনি ধরা পড়ে না।

আমরা কোন সমাজে, কোন রাষ্ট্রে বাস করছি ? সারাবিশ্বে প্রবাসী বাংলাদেশীদের একটা আলাদা সন্মান ছিল, মেধায়,কাজে, দক্ষতায় কোন দিক দিয়ে প্রবাসী বাঙ্গালীরা পিছিয়ে নেই, কিন্তু প্রাপ্য সন্মান আমরা পাচ্ছি না কিছু দুষ্ট প্রকৃতির লোকদের কারনে।এটা একজন প্রবাসী হিসাবে, একজন বাংলাদেশী হিসাবে বড়ই কষ্টের, দুঃখের আর অনুশোচনার। মানুষ ভেদে আমাদের মধ্যে যে মূল্যবোধের অবক্ষয় দেখা দিয়েছে তা কমাতে হবে আমাদের সততা, সুশিক্ষা, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, সৎকর্ম, সৎ আদর্শ আর সৌভ্রাতৃত্বের বন্ধনের মাধ্যমে।দুর্জন বিদ্বান কোন জাতিই আশা করে না, কারোই কাম্য নয়। অত্যাচারী ছিলাম বলে অত্যাচারী হবো এটা কোন ভাবেই কাম্য হতে পারে না। এ নীতি সকলকে পরিত্যাগ করতে হবে। কারণ….

জীবনে আজও যাহা রয়েছে পিছে,
জানি হে, জানি তাও হয়নি মিছে

একজন প্রবাসীর শ্রমে ঘামের অর্থে অনেক পরিবার চলে। এমন অনেক প্রবাসী আছে একমাস দেশে টাকা না পাঠালে সেই পরিবারের অনেক কিছুই বন্ধ থাকে। আজ প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল কিন্তু দেশের মানুষ কখনোই প্রবাসীদের দুঃখ কষ্টের কথা ভাবে না। মাস শেষে অর্থের অপেক্ষায় থাকে। আমার মাঝে মাঝে মনে হয় যারা প্রবাসী হয় তারা এক সময় টাকা কামানোর মেশিনে পরিনত হয়, তাদের আবেগ,অনুভূতি ধীরে ধীরে লোভ পেতে থাকে, দুঃখ কষ্টকে আর দুঃখ কষ্ট বলে মনে হয় না।বিবেক, দয়া-মায়া, আবেগ একসময় ফুরিয়ে যায়।আমার দেখা অনেক প্রবাসী শ্রমিকের জীবন রোগ-শোক থাকে কিন্তু সময়ের অভাবে কাউকে বলতে পারে না।অনেক প্রবাসী মারা গেলে লাশটি দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা হয় না। বাংলাদেশ দুতাবাস কোন খবর রাখে না।এদেশে কবর দেবার পর সারা জীবনের জন্য সেই প্রবাসী টাকা কামানোর মেশিন তার আপনজন,নিকট আত্মীয় পরিজনের জীবন থেকে হারিয়ে যায়। দেশের কেউ কখনো ভুলেও ভাবে না এই খেটে খাওয়া রক্ত পানি করা প্রবাসী ব্যক্তিটি হচ্ছে আমাদের দেশের অর্থনীতির সচল চাকার একটি ক্ষুদ্র অংশ, দেশের সন্তান, যার সকাল সন্ধ্যা পরিশ্রম করা রক্ত পানি করা অর্থের যোগান দাতা।

আমার যাপিত প্রবাস জীবনের সঞ্চিত অভিজ্ঞতার আলোকে বিভিন্ন সময় প্রবাসকে নিয়ে আমার আবেগ অনুভূতি প্রকাশ করার চেষ্টা করেছি। প্রবাস নিয়ে আমার অধিকাংশ লেখায় দুঃখবোধ, না পাওয়ার হতাশা, ব্যর্থতা অনুশোচনাই প্রাধান্য পেয়েছে তাই বলে আমি দুঃখ বিলাসী নই।প্রবাসীদের দুঃখ বিলাসী হবার কোন অবকাশ নেই কারন আমরা তো একটু সুখের আশায় পাড়ি দিয়েছি অজানার দেশে, আমাদের দুটি চোখ এক চিলতে সুখ দেখার জন্য অপলক চেয়ে থাকতে হয় দিনের পর দিন মাসের পর মাস বছরের পর বছর। দুঃখ নিয়ে বিলাসীতা করার সুযোগ প্রবাসীদের নেই। দুঃখ নিবারন করার ইচ্ছা নিয়ে মা মাটি ছেড়ে অজানা অচেনা এক দেশের মাটিতে আমরা আশার ঘর বেঁধেছি, আমরা দুঃখ বিলাসী নই, আমরা সুখের কাঙ্গাল। বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় সুখ খুঁজে বেড়াই। নিজেদের দুঃখের ভিতর দিয়ে অন্যের জন্য সুখ খুজি।দুঃখ বিলাসী ওরাই হয় যাদের জীবনে সুখের ছোঁয়া লাগে, যাদের জীবনে সুখ শান্তির নেই কোন অন্ত নেই কোন অভাব। আমি একজন প্রবাসী সুখ সন্ধানী একজন খেটে খাওয়া মানুষ আমার জীবনে সুখের ছোঁয়া লাগে নি, প্রবাসী নিঃসঙ্গ জীবনে সুখ আছে বলে আমি বিশ্বাস করি না।

সুখ খুঁজতে গিয়ে অবশিষ্ট সুখটুকু আমি হারিয়ে ফেলেছি।প্রতিদিন জীবনের সাথে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকার লড়াই করে, যারা সুখের তরে সুখ হারায় ওদের কথা জেনে রাখা খুবই জরুরী কারন ওদের ত্যাগ তিতিক্ষার ফসল হল দেশবাসী আপনজনের মুখের নির্মল হাসি।সত্যি কথা বলতে কি, প্রবাসীর কষ্ট প্রবাসী ছাড়া আর কেউ বুঝে না। অনুমান করে সব কষ্ট বুঝা যায় না। প্রবাসী জীবনের সুখ দুঃখের কথা লিখতে গেলেই মনটা কষ্টে ভরে উঠে, কলম যেন থেমে যেতে চায়।বুকের মধ্যখানে অজানা এক শূন্যতা আসন করে বসে, পুরনো স্মৃতির খাতার প্রতিটি পাতা নতুন করে চোখের সামনে ভেসে উঠে নিজের অজান্তে চোখের কোন বেয়ে কিছু জল গড়িয়ে পড়ে। মাঝে মাঝে নিজেকে বড় একা মনে হয়, পাওয়া আর না পাওয়ার হিসেব মিলাতে পারি না।অবহেলা আর অনাদরের এই প্রবাসী জ়ীবনের ইতিবৃত্ত জানি না কোথা থেকে শুরু করবো। স্বপ্নের প্রবাস বাস্তবে বিশাল আকারের এক দানব। প্রতি মূহুর্তে এ দানব নামক প্রবাস প্রতিটি প্রবাসীকে কুরে কুরে খায় গুন পোকার মতো।স্বপ্নের সাজানো প্রবাস আর বাস্তবের এই প্রবাসের মধ্যে আকাশ পাতাল ব্যবধান। যারা প্রবাসী তাদের জীবনের সাথে জড়িয়ে আছে হাজারো অজানা কাহিনী যা আমাদের আপনজন দেশবাসী জানেন না, ইচ্ছা করেই অনেক সময় জানানো হয় না।আপন জনের সুখের স্বপ্ন ভেঙ্গে যাবে বলে।প্রবাসের কষ্টের কথা গুলো লিখতে গেলে কষ্ট শুধু জীবনের খাতায় না কমে বরং যোগ হয়। আপন মানুষকে অন্তরে অন্তরে কাঁদাবে তাতে কোন সন্দেহ নেই।

পৃথিবীর ওজন থেকে আরো বেশি ওজনের কষ্ট বুকে নিয়ে অধিকাংশ প্রবাসী রাত্রি ভোর করে।বাস্তবতার ডানায় ভর করে কল্পনায় সাজানো প্রবাসের স্বপ্ন বাসর মরুভূমির আকার ধারন করতে এতটুকু সময় লাগে না। কল্পনায় যে কোন কিছুতে রঙ দেয়া যত সহজ বাস্তবে তা কিন্তু অনেক সময় হয়ে উঠে না।একজন মানুষ যখন এই পৃথিবী থেকে চিরদিনের মত হারিয়ে যায়, আমরা কিছুদিন কান্না কাটি করে এক সময় শান্ত হয়ে যাই। হারিয়ে যাওয়া সেই স্বজন বা পরিচিত মুখের কথা কোন এক সময় আমরা ভূ্লে যেতে পারি। চিরতরে হারিয়ে যাওয়া মানুষের কথা ভূ্লে যেতে যতেষ্ট সময় লাগে না। যারা এই পৃথিবী থেকে চলে যায় তাদেরকে ভূ্লে যাবার জন্য হৃদয় মন এক ধরনের প্রস্তুত হয়েই থাকে বলা যায়। ঠিক একই ভাবে আমরা যারা প্রবাসী আছি তাদের কথা দেশের মানুষ ভূ্লে যায়, প্রযোজন ছাড়া আমাদের সুখ দুঃখের কথা কেউ জানতে চায় না।

একজন প্রবাসী যখন অকেজো হয়ে যায় তখনই পরিবার পরিজনের আসল রূপ প্রকাশ হয়, এর আগে নয়। দু’হাত ভরে যতদিন দেবার সামর্থ থাকবে ঠিক ততদিন পরিবারের সবার কাছে প্রিয়। আমাদেরকে সুখের মাইল ফলক হিশাবে দেখা হয়। একাকীত্বে্র বেদনায় আমাদের নয়নে যখন জল ঝরে কেউ আদর করে কাছে ডেকে এই জল মুছে দেয় না। নয়নের জল নয়নেই শুকায়। প্রবাসী যান্ত্রিক জীবনের সাথে যুদ্ধ করে আমরা প্রানে বেঁচে থাকি তবে এই বাঁচাকে বেঁচে থাকা বলা যায় না। আমাদের এই যান্ত্রিক জীবনের এক একটি মূহুর্ত অসম্ভব বেদনাদায়ক।

স্বপ্ন দেখা অন্যা্য নয়, প্রতিটি মানুষের জীবনে সুন্দর কিছু স্বপ্ন থাকে এবং এই স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দেয়ার সহজ উপায় হল প্রবাস গমন। জীবনকে নানা রঙ্গে সাজাতে হলে স্বপ্ন দেখা খুবই জরুরী, স্বপ্ন ছাড়া এই জীবন তো আর সাজানো যায় না, তাই স্বপ্নকে সম্বল করেই আমাদেরকে এগুতে হয়।স্বপ্নকে যত সুন্দর করে সহজে সাজানো যায় বাস্তবকে এত সহজে হাতে নাতে ধরে কাছে বসানো যায় না। স্বপ্নের সাথে বাস্তবের এই বিবাদ আজীবন থেকেই চলে আসছে যা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। যাহা লাগালের বাহিরে তাহা নাগালের মধ্যে নিয়ে আসার একান্ত চেষ্টা আর এরই নাম হল স্বপ্ন।মানুষ যখন কাংখীত জীবনের স্বপ্ন দেখে তখন বেহিসেবী স্বপ্ন সাজাতে এতোটকু কার্পন্য করে না।স্বপ্নের পর স্বপ্ন সাজিয়েছি, বাড়ী হবে গাড়ী হবে জায়গা জমি কাঁচা টাকা সহ পরিপুর্ন সুখী হবার জন্য যতকিছু প্রয়োজন সব। ভূ্ল করেও মা মাটির বিরহের কথা মনে আসে নি। জীবনে যাহা বাস্তব হয় নি অনুমান করে তা বুঝে নেয়া সহজ বিষয় ছিল না।

আমরা শুধু সুখটাকে হিসেব করেছি দুঃখটাকে হিসেব করি নি কারন অজানা ভূবনের সাথে আমাদের কোন পরিচয় ছিল না।প্রবাসের মাটিতে পা দিতেই শুরু হয়ে যায় মা মাটির বিরহ, স্বজনের বিরহ যা স্বপ্নেও ভাবতে পারি নি। মনে হতো প্রবাসে যাবো আর দুহাত ভরে টাকা রোজগার করবো, অবস্থার পরিবর্তন হবে জীবনে আর কোন স্বপ্ন আশা আকাঙ্ক্ষা অপুরন থাকবে না। মাত্র কিছু দিনের ব্যবধানে চোখের জল শুন্য হতে শুরু করলো অন্তরের চারপাশে নতুন যন্ত্রনার জন্ম হলো। শত সুখ শত স্বপ্নের বাস্তব রূপ দেখেও আমাদের অশান্ত মন শান্ত হয় না। মায়ের হাসি কান্না সন্তানের বাবা ডাক শুনার জন্য প্রান হু হু করে বেলায় অবেলায় কেঁদে কেঁদে মরে। এই বিরহের কান্না থেকে প্রবাসীদের এক মূহুর্তের জন্য মুক্তি নেই। প্রবাসীর বুকে এই কষ্ট সব চেয়ে বেশী জায়গা দখল করে বসে আছে।অথচ আমাদের বুকের এই যন্ত্রনাকে দেশের মানুষ বড় করে দেখে না এমনকি কেউ জানতেও চায় না। বাস্তব সব সময় একটু তেতো হয়ে থাকে,তবুও আমাদের এই ভাগ্য অন্নেষনের দৌড় ঝাঁপ চলতেই আছে এবং চলবে।তারপরও নির্জন প্রবাসে মনকে স্মৃতিকাতর করে তুলে মাঝে মাঝে…….

“মাঝে মাঝে হৃদয় জগতে উত্থান-পতন শুরু হয়
না পাওয়ার বেদনার হাহাকারে।
সাধ জাগে ভালোবেসে আবার নতুন করে জীবনাটাকে ভরিয়ে তোলার।
কৈশোরের সেই অনুভূতি আবার জাগিয়ে তোলে অবেলায়।
হৃদয় আপ্লুত হয় নতুন ভালবাসার আহ্ববানে;
তারপরও নিঃসঙ্গ জীবনের গ্লানিকে সঙ্গী করে থাকে আত্মগোপনে।
সময়ের মর্মমূলে বিরূপতা যে রক্তাক্ত ছাপ ফেলেছে
তা আজও অন্তর্গত বেদনাকে ধারণ করে আছে হৃদয়ের গভীরে।
তার ষ্পর্শ, শৈশব স্মৃতির ঘ্রাণ আজও স্মৃতিকাতর করে তুলে নির্জন প্রবাসে।
স্মৃতিলোকে বার বার ফিরে আসে তার মায়াবী চোখের করুন চাহনী।
প্রথম যৌবনের প্রণয়িনী জ্যোতি এখনও ভাসে তার চোখের তারায়।
যে কিনা আমার সব উপেক্ষা অগ্রাহ্য করেও সর্বস্ব দিয়েছিল।
স্মৃতির বীনায় আজও সুর তোলে ঝঙ্কারের অপেক্ষায়।
নস্টালজিক অনুভূতির অপরিহার্য মানবিক মূল্যবোধের খোজে ।
ভোতা অনুভূতিগুলোর পুনঃ পুনঃ রোমন্থন করার প্রয়োজনে”।

লেখক: সৌদি-কাতার প্রবাসী সাংবাদিক ও লেখক।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার