এনআইডি-পাসপোর্ট পেতে রোহিঙ্গাদের নানা কৌশল

Img

প্রশাসনের কঠোর নজরদারির মধ্যেও বৃহত্তর চট্টগ্রামে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এবং পাসপোর্ট পেতে নানা কৌশল অবলম্বন করছে রোহিঙ্গারা। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম-কক্সবাজারে ভোটার হয়ে পাসপোর্ট করতে গিয়ে ধরা পড়েছে অনেক রোহিঙ্গা তরুণ-তরুণী। এদের বেশির ভাগই নিজের পরিচয় গোপন করে দালালের মাধ্যমে ভোটার হয়েছে। তারা পাসপোর্ট বানিয়ে বিদেশে পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা 

জন্মনিবন্ধন ও নাগরিকত্ব সনদ প্রদান করায় তাদের ভোটার হওয়া এবং পাসপোর্ট পাওয়ার বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

পাসপোর্ট অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, রোহিঙ্গারা টাকার বিনিময়ে বাংলাদেশী কাউকে ভুয়া পিতা, কাউকে ভুয়া ভাই সাজাচ্ছেন। অনেক সময় তারা ধারা পড়ছেন। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে নিত্য নতুন কৌশলে তারা পার পেয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। 

তবে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতর যেসব রোহিঙ্গার ডাটাবেজ তৈরি করেছে তারা পরিচয় গোপন করে পাসপোর্ট করতে এলেও ফিঙ্গার প্রিন্ট যাচাই করার সময় ধরা পড়ছেন। 

কিন্তু যারা ক্যাম্প থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে পালিয়েছিলেন (ডাটাবেজ করা হয়নি) তারা ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে পাসপোর্টের আবেদন করলে যাচাই-বাছাইয়ে ধরা পড়ছেন। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম-কক্সবাজারে অনেককেই আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

এদিকে রোহিঙ্গারা যাতে ভোটার হতে না পারে সেই ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে জানিয়ে চট্টগ্রাম জেলার সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মুনীর হোসাইন খান জানান, বৃহত্তর চট্টগ্রামে রোহিঙ্গা ভোটার হওয়া ঠেকাতে প্রতিটি উপজেলায় নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে বিশেষ কমিটি রয়েছে। এই কমিটিতে গোয়েন্দা সংস্থার লোকজনও আছেন। চট্টগ্রাম-কক্সবাজারে উপজেলা পর্যায়ে নতুন ভোটার হতে গেলে বিশেষ ফরম পূরণ করে ওই কমিটির মুখোমুখি হতে হয়। ফলে এখানে রোহিঙ্গারা ভোটার হওয়ার সুযোগ কম। তবে যারা ভোটার হয়েছেন তারা সরাসরি অফিসে এসে হয়তো মিথ্যা তথ্য দিয়ে ভোটার হয়েছেন। কারণ শহরে রোহিঙ্গা ঠেকাতে বিশেষ কমিটি নেই বলে জানান জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মুনীর হোসাইন খান।

তিনি বলেন, শহরেও যাতে রোহিঙ্গারা ভোটার হতে না পারে সে ব্যাপারে কাউন্সিলরদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। কাউন্সিলররা যাতে কোনো রোহিঙ্গাকে প্রত্যয়নপত্র না দেন সেই ব্যাপারে সিটি মেয়রসহ কাউন্সিলরদের সাথে বৈঠক করেছি।

মনসুরাবাদ বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা কার্যালয়ের পরিচালক মো. আবু সাইদ জানান, রোহিঙ্গারা যাতে পাসপোর্ট করতে না পারেন সেই ব্যাপারে আমাদের কঠোর নজরদারী রয়েছে। তবে এটা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। কারণ বুধবার আমরা যে রোহিঙ্গা যুবককে পাসপোর্ট অফিস থেকে আটক করেছি তার জন্মসনদ ‘অরজিনাল’ ছিল। অন্যান্য কাগজপত্র ভুয়া। জঙ্গল সলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জন্মসনদ নিয়েছে সে। 

সন্দেহজনক ভাবে কাউকে আটক করা হলেও তার কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করতে সারাদিন লেগে যায়। 

এছাড়া বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের ধরলে তাকে ক্যাম্পে ফিরিয়ে দিতে। এগুলো অনেক জটিল ব্যাপার। তবে তথ্য গোপনের অভিযোগে মামলা করা যায় থানায়। এই ধারায় মামলা করে আমরা থানায় হস্তান্তর করি।

উল্লেখ্য, গতকাল বুধবার নগরীর মনসুরাবাদ বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা কার্যালয়ে পাসপোর্ট করতে এসে আটক হয়েছেন সোনা মিয়া নামের এক রোহিঙ্গা যুবক। আটকের পর ডবলমুরিং থানা পুলিশের কাছে তাকে হস্তান্তর করা হয়। আটক সোনা মিয়া সীতাকুণ্ড এনায়েতপুরের মো. ফয়সাল সেজে পাসপোর্ট করতে এসেছিলেন। 

এর আগে গত ২২ আগস্ট মনসুরাবাদ বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা কার্যালয়ে পাসপোর্ট করতে এসে সুমাইয়া আক্তার নামে এক রোহিঙ্গা নারী আটক হয়েছিলেন।

গত ২৭ আগস্ট কক্সবাজারে পাসপোর্ট করতে আসা রশিদা (১৮) নামে এক রোহিঙ্গা তরুণীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সে মিয়ানমারের মংডুর আবদুল আমিনের মেয়ে। বাংলাদেশী পাসপোর্ট পেতে টাকার বিনিময়ে কঙবাজার সদরের পোকখালী ইউনিয়নের নাইক্ষ্যংদিয়া এলাকার বাসিন্দা মনজুর আলমকে সে ভুয়া পিতা সাজিয়েছিল। 

একই পদ্ধতিতে কক্সবাজারে এর আগে গত ১৬ জুলাই একজনকে ভুয়া পিতা সাজিয়ে পাসপোর্ট করতে গেলে দালালসহ এক রোহিঙ্গা তরুণীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা বর্তমানে জেল হাজতে রয়েছেন বলে জানান কক্সবাজার পাসপোর্ট অফিসের এক কর্মকর্তা।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার