একনায়কতন্ত্রে ফেসবুক, ডিলিট করতে বললেন ইলন মাস্ক

Img

জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের নীতির সমালোচনা কম হচ্ছে না। অনেক তারকা খ্যাতিরা মাঝে মধ্যেই ফেসবুকের সমালোচনা করে আলোচনায় আসেন। এই তালিকায় ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকান প্রকৌশলী ও প্রযুক্তি খাতে উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক।

টেসলার ও বেসরকারি মহাকাশ সংস্থা স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইলন মাস্ক এবার ফেসবুক ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্টস ডিলেট করে দিতে আহবান জানিয়েছে। ফেসবুক একটা বাজে জিনিস বলেও মন্তব্য প্রযুক্তিবিদের।

কমেডিয়ান ও অভিনেতা সাশা ব্যারন কোহেন টুইটারে একটি পোস্ট করেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, ‘২৫০ কোটি মানুষের পানি সরবরাহের জন্য আমরা একজনের উপর নির্ভর করবো না। এতোগুলো মানুষের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহের কাজও একজনকে করতে দেবো না। তাহলে কীভাবে এক ব্যক্তিকে ২৫০ কোটি মানুষের তথ্য নিয়ন্ত্রণের সুযোগ দিচ্ছি? সরকারের মাধ্যমে ফেইসবুক নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। এক্ষেত্রে সম্রাটের শাসন চলতে পারে না।’

এই পোস্টে অনেকেই ফেসবুকের সমালোচনা করে কমেন্টস করেন। সেখানে কমেন্টস করেন এই খ্যাতিনামা প্রযুক্তিবিদও। এই পোস্টের নিচে ইলন মাস্ক লেখেন, ‘‘#DeleteFacebook’ এটা বাজে জিনিস।’ কী কারণে এমন মন্তব্য করেছেন তার ব্যাখ্যা দেননি তিনি।

তবে এবারই প্রথম নয়, এর আগেও ফেইসবুক ও মার্ক জাকারবার্গের সমালোচনা করেন ইলন মাস্ক। ফেসবুকের ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা স্ক্যান্ডেলের সময় তিনি টেসলা ও স্পেসএক্সের ফেইসবুক পেজ ডিলিট করেন। এরপর টুইটে লেখেন, ‘ফেসবুক আবার কী?’ ২০১৭ সালে ফেইসবুকের সিইও মার্ক জাকারবার্গের সঙ্গে তার মতবিরোধ দেখা দেয়। সেসময় মাস্ক বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে জাকারবার্গের জ্ঞান অনেক সীমিত।’

পূর্ববর্তী সংবাদ

বসন্ত বার্তায় বর্ণিল সাজে সেজেছে খুলনা নগরী

ঋতুরাজ বসন্তের ছোঁয়ায় নতুন রূপে সেজেছে খুলনা নগরী। কোকিলের কুহুতানের সাথে সাথে বসন্তের শুরুতেই যেনো ফাল্গুনকে বরণ করে নিয়েছে প্রকৃতি। শীতের জীর্ণতা কাটিয়ে স্নিগ্ধ সবুজ প্রকৃতিতে নতুন কচি কচি পাতায় ঝলমলে হয়ে উঠেছে চারপাশের পরিবেশ। চারিদিকে মৌ মৌ গন্ধে ভরপুর। প্রকৃতিতে যেন বসন্তের সাজ সাজ রব বইছে। এমনই সময় মন‌ে বাজে 'আহা আজি এ বসন্তে, এত ফুল ফোটে, এত পাখি গায়'।

খুলনা নগরের প্রায় প্রতিটি এলাকাতে নজর কাড়ছে শিমুল, পলাশ, কনকচাঁপা, নয়নতারা, কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, নাগলিঙ্গম, গাঁদাসহ হরেক রকমের দেশী-বিদেশী ফুল। সবুজ পাতার ফাঁকে স্বর্ণালী আম্র মুকুলের ঘ্রাণ প্রকৃতিতে বসন্ত বার্তা ছড়াচ্ছে।

কুয়াশা কাটিয়ে ভোরের ফুল

খুলনার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নার্সারি, আবাসিক এলাকা, ছাদবাগান ও সড়কের পাশে লাল, নীল, বেগুনী, হলুদ, গোলাপি, সাদা, খয়েরী হরেক রঙের ফুলের সমাহার শোভা পাচ্ছে। ফুলের সুবাসে চারিদিক যেনো মৌ মৌ করছে। এসব নার্সারিতে শোভা পাচ্ছে কয়েকশ প্রজাতির ফুল ও গাছ। কয়েকটি এলাকায় পলাশ শিমুল ফুলও ফুটতে শুরু করেছে। রাতভর পরা হালকা কুয়াশা কাটিয়ে প্রতিদিন ভোরে সূর্যকিরণ যখনি ফুলের উপরে পরে, তখন মনে হয় যেনো ফুল থেকে হীরকদ্যুতি ছড়াচ্ছে।

নার্সারিতে শোভা পাচ্ছে কয়েকশ প্রজাতির ফুল

হলুদ গাঁদা, ডালিয়া, জিনিয়া, লাল গাদা, আকাশি স্নোবল, বিভিন্ন প্রজাতির পাতা বাহার, গোলাপি বর্ণের ফুল, সাদা স্নোবল, সালভিয়া, দোপাটি, ক্যালেন্ডোলা, দায়েনথাঁচ, ফ্লোগর্স, ইন্টালিয়াম, স্নাকড্রাগন, পেনজি, কারিয়াফছি, ভারবিনা, পিটুনিয়া, স্টার গোল্ড, মৌচন্ডা, পানচাটিয়া, অ্যালমন্ডা, তালপাম্প, চন্দ্রমল্লিকা, একঝাড়া, রঙ, বারবিনা, স্টার, ফলিয়ক্স, নয়নতারা, কালেনগোলা, সানবিয়া, ন্যাশটোসিয়াম, পিটুলিয়া, ইসকাস্লোবাল, পানচাটিয়া, ইনকা গাদা, চায়নিজ গাদা, জাম্বুস গাদা, মোরগ ঝুঁটি, কসমস, জুঁই, চামেলি, টগর, বেলি, সাইকাস, ক্রিসমাস, জবা, রঙ্গনসহ আরও নানা রকমের ফুল ফুটেছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, কুয়েট, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, খুলনা বেতার, খুলনা মেডিকেল কলেজ, বিএল কলেজ, শিববাড়ী মোড়সহ আরো অনেক স্থানে। ফুলগাছগুলোতে নেচে নেচে বেড়াচ্ছে নানা রঙের প্রজাপতি।

বসন্তের কোকিল

এছাড়াও খুলনার বেশ কিছু এলাকায় এ সময়টায় জনপ্রিয়তা পেয়েছে ছাদ বাগান। বসন্তের আগমনে ছাদবাগানগুলিও সেজেছে নবরূপে। ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে তোলা এসব ছাদবাগানে ফলজ, বনজ, ঔষধি গাছের সাথে শোভা পাচ্ছে ফুলগাছ। খুলনা যেনো এখন ফুলের শহর।

সৌখিন ছাত্র আহমদ ইসলাম বলেন, এখন শীত আর বসন্তের ফুল একসাথে ফুটছে। তাই চারিদিকে এত রঙ। আমি ঘরের বেলকনিতে দৃষ্টিনন্দন কিছু ফুলের গাছ রেখেছি। প্রতি সকালে ফুলের মিষ্টি ঘ্রাণে আমার ঘর ভরে থাকে।

বসন্তের সাজে সবাই

খুবির চারুকলার শিক্ষার্থী মৌমিতা মৌ বলেন, পুরাতন পাতা ঝড়িয়ে নতুন পত্রপল্লব দিচ্ছে গাছ। সবখানে ফুটেছে ফুল। এ যেনো বসন্তের আবহ। ফুল ফুটেছে, বসন্তও এসেছে।

নার্সারি মালিক যুবায়ের ভূইয়া বলেন, এখন ফুল গাছে ফুল ফুটছে। সবখানে যেনো বসন্ত লেগেছে। ফুল গাছের চাহিদা এখন বেশী।

খুলনা নার্সারি মালিক সমিতির সভাপতি বদরুল আলম রয়েল বলেন, জেলার প্রতিটি নার্সারিতে নানা রকমের ফুল হয়। ফুল প্রেমীরা নার্সারিতে ঘুরের, গাছ কেনেন। অনেকে শখ করে টবসহ চারা কিনছেন। নার্সারি মালিকদের জন্য সরকারি প্রণোদনার দাবি করেন তিনি।

বসন্ত লেগেছে সবার মনে

শীতের জীর্ণতা কাটিয়ে বসন্তকালীন ফুলে ফুলে সজ্জিত হয়ে প্রকৃতি এখন জানান দিয়ে যাচ্ছে বসন্তের আগমনী বার্তার। শীতের রিক্ততা ভুলিয়ে ফাগুন আগুন নিয়ে বাঙালির জীবন রাঙাতে দুয়ারে কড়া নাড়ছে বসন্ত। শীতের খোলস ভেঙ্গে আগুন রঙের খেলায় মেতেছে পরিবেশ। মাঝে মাঝে গ্রামাঞ্চলে কোকিলের কুহুতান শোনা যাচ্ছে।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার