একটি সেতুর জন্য জনদুর্ভোগ চরমে উঠেছে

Img

ঢাকা জেলার দোহার পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের রেকর্ডভুক্ত বটিয়া – নুরপুর রাধানগর সড়কের বটিয়া মসজিদের পশ্চিম পাশের খালের একটি সেতুর জন্য জনদুর্ভোগ চরমে উঠেছে। ভুক্তভোগী লক্ষাধিক গ্রামবাসী জানান, শুষ্ক ও বর্ষা দুই মওসুমেই এই রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী লোকজনকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। জনপ্রতিনিধিসহ নেতারা বার বার প্রতিশ্রুতি দেবার পরও হয়নি সেতু। পূর্বচর, দেবীনগর, উত্তররাধানগর, নুরপুর, বটিযাসহ বিলাশপুর ইউনিয়নের প্রায় ১ লক্ষ মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

বর্ষায় নৌকা, শুষ্ক মৌসুমে বাঁশের সাঁকো আর শুকিয়ে গেলে হেঁটে পার হতে হয় নদী। শুষ্ক মৌশুমে তৈরি করা বাঁশের সাঁকো পারি আর বর্ষা মৌশুমে নৌকায় পারি দিতে যেয়ে অহরহ ঘটছে দুর্ঘটনা।সাঁকো থেকে পড়ে কারও পা ভাঙছে, কারও ভাঙছে হাত। বিশেষ করে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা এ ঘটনার শিকার বেশি হচ্ছে।প্রতি বছর বর্ষায় ছাত্র/ছাত্রীদের নিয়ে পারাপারের নৌকা ডুবে যায় সেই ভয়ে অনেকে স্কুল মাদ্রাসায় যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।সেতু না থাকায় বর্ষকালে রাতের বেলায় নদী পারাপারে পড়তে হয় বিড়ম্বনায়।

রাত হয়ে গেলে দেখা দেয় নৌকা সংকট। তাই দুর-দূরান্ত থেকে বাড়ী ফিরতে দেরী হলে পোহাতে হয় দুর্ভোগ।এলাকাবাসী নিজেরা চাঁদা তুলে বর্ষায় নৌকা ঠিক করে রাখে আর শীতে তৈরি করা হয় বাঁশের সাকো। এভাবেই চলছে যুগ যুগ।বর্ষা মৌসুমে সকাল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত নদীতে নৌকা পাওয়া যায়। রাত ১০টার পরে ওই নদীতে মাঝি থাকেন না। মাঝি না থাকায় চরম দূর্ভোগে পড়তে হয় বাজার করতে আসা, উপজেলা সদর থেকে ফিরে আসা ও অন্যান্য জায়গা থেকে বাড়ি ফেরা মানুষের। দৃশ্যপট প্রথম শ্রেনীর দোহার পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের বটিয়া মসজিদের সামনের নিত্য দিনের চিত্র।

আমার ছেলে সহ সকল ছাত্র/ছাত্রী পেশাজীবীদের প্রতি দিনের দূর্ভোগের চিত্র এই ছবি । গত বছর এই সময় ঢাকা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নিজে এই চিত্র অবলোকন করে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন স্বল্প খরচে বেলী সেতু করে দিবেন। এক বছর গত হয়েছে কিন্তু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কোন লক্ষন অধ্যাবধী পরিলক্ষিত হয়নি। এখনও দোহার থানায় উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন হয় ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হয় কিন্তু কাজ কতটুকু হয় বা হয়েছে এটা দোহারের নেতাসহ সচেতন দোহারবাসির কাছে প্রশ্ন রইল। আমরা আর কত প্রতিশ্রুতির বলি হবো, আর কত উন্নয়ন স্বপ্নের মধ্যে ভাসব ? সারা দেশে শেখ হাসিনা সরকার উন্নয়ন করছে কিন্তু দোহারে ক্ষমতাধর উন্নয়ন যাদুকররা থাকতে কেন আমরা কাঙ্খিত উন্নয়ন হতে দূরে আছি?

সিলেটে একজন মনোনয়ন প্রত্যাশী সরকার দলীয় ব্যারিষ্টার নিজ উদ্যোগে কাঠের সেতু করে দিয়ে জনগনের পাশে আছে।দোহারেরও কয়েক জন নেতা মনোনয়ন দৌড়ে প্রতিযোগীতায় মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। তাদের চোখে এই জনদুর্ভোগের চিত্র পড়ে না ? তারা কেন মনোনয়ন প্রতিযোগীতার পাশাপাশি উন্নয়ন প্রতিযোগীতায অবতীর্ন হচ্ছে না? দোহারের নেতারা কি পারেন না তার পথ অনুারন করতে? আমরা প্রবাসীরাও সাধ্যমত অংশগ্রহন করব তাদের সাথে। উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন হয়, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হয়, স্বপ্ন লালিত হয় কিন্তু স্বপ্ন পূরন হয় না। তবে কেন মিথ্যা স্বপ্ন দেখানো? আমাদের সীমাবদ্ধতা গুলি কি কি জানতে পারি কি?

প্রতিক্রিয়া (১৫৭) মন্তব্য (০) শেয়ার (১২)