পাঠক, ভয়ঙ্কর কিছু তথ্য দিয়ে পরিবেশন করছি মুসলিমদের পিছিয়ে পড়ার কারণ নিয়ে গবেষণাধর্মী এ লেখাটি।

সমাজ-রাষ্ট্র ও বিশ্ব যখন বিজ্ঞানের চোখ ধাঁধানো আবিষ্কারে বুদ। তখন একদল নিয়ন্ত্রকদের হাতের ক্রীড়ানক হচ্ছে আমাদের পৃথিবী। আপনি বিশ্বাস করুন আর নাই করুন; যারাই বিশ্বে মানবতাকে বার বার ভুলুন্ঠিত করছে তারাই আবার বার বার আসছে টাইমলাইনে। এ যেনো সত্যের বিপরীতে চলা মিথ্যার মাকাল বেসাতি।

বিশ্বে ইয়াহুদী সম্প্রদায় মাইনোরিটি হলেও তাদের হাতেই মার খাচ্ছে বিশ্বের তাবৎ মুসলমান। হয়তোবা নিজেরা সরাসরি মারছে অথবা অন্য কাউকে দিয়ে মারছে অথবা মুসলমানদের দ্বারা মুসলমানদের মারছে। এটাই বাস্তব চিত্র।

একটু খেয়াল করুন, পৃথিবীতে ইহুদীদের মোট সংখ্যা দেড় কোটির মত। আর একটি মাত্র ইহুদী রাষ্ট্র-ইসরাইল। ইসরাইলে তবুও ইহুদীর সংখ্যা ৫৪ লাখ। অবশিষ্ট প্রায় এক কোটি ইহুদী সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অত্যান্ত হালকাভাবে। এর মধ্যে আমেরিকাতে ৭০ লাখ, কানাডাতে ৪ লাখ আর ব্রিটেনে মাত্র ৩ লাখ ইহুদী থাকে।

ইহুদীরা মার্কিন জনসংখ্যার মাত্র ২%, আর পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার মাত্র ০.২%। অর্থাৎ পৃথিবীর প্রতি ৫০০ জনে একজন ইহুদী! কিন্তু জনসংখ্যার দিক দিয়ে ঢাকা শহরের কাছাকাছি হলেও বিশ্বে ইহুদি সম্প্রদায় থেকে যুগে যুগে বেরিয়ে এসেছে অসংখ্য প্রতিভাবান ব্যক্তি।

প্রধান ধর্মগুলোর পর পৃথিবীতে যে মতবাদটি সবচেয়ে বেশী প্রভাব ফেলেছে সেই কমিউনিজমের স্বপ্নদ্রষ্টা কার্ল মার্কস। আর এই কার্ল মার্কসও ইহুদি সম্প্রদায় থেকে এসেছেন। বিশ্বের মানুষকে মুগ্ধ করে রাখা যাদু শিল্পি হুডিনি ও বর্তমানে ডেভিড কপারফিল্ডও এসেছেন একই কমিউনিটি থেকে। এসেছেন আলবার্ট আইনস্টাইনের মত বিজ্ঞানী, যাকে বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী বলা হয়। আর প্রফেসর নোয়াম চমস্কি'র মত শিক্ষাবিদ ও দার্শনিক যার প্রদত্ত ডক্টরেটের সংখ্যা আশিটিরও বেশি।

এর অন্যতম কারণ সাধারণ আমেরিকানরা যেখানে হাইস্কুল পাশকেই যথেষ্ট মনে করে সেখানে আমেরিকান ইহুদীদের ৮৫%ই বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া। আর আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর দৃষ্টান্ত হচ্ছে এমনঃ ওআইসি-র ৫৭টি দেশে বিশ্ববিদ্যালয় আছে পাঁচ হাজারের মত, আর এক আমেরিকাতেই বিশ্ববিদ্যালয় আছে প্রায় ছয় হাজার এর কাছাকাছি।

ওআইসি ভুক্ত দেশগুলোর একটা বিশ্ববিদ্যালয়ও যেখানে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাংকিং সাইট'র প্রথম ১০০টা বিশ্ববিদ্যালয়েরর মধ্যে স্থান পায়নি, সেখানে প্রথম একশোর মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে আমেরিকার ৪৫টা বিশ্ববিদ্যালয়। (প্রথম দশটার মধ্যে সাতটা) যেখানে প্রথম ২০০ 'র মধ্যে ওআইসি-ভুক্ত ৫৭ টি মুসলিম দেশের একটি মাত্র বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে তুরস্কের বগাজিসি ইউনিভার্সিটি (১৯৯ তম)। সেখানে আমেরিকার বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর ২০% স্টুডেন্ট  ইহুদী সম্প্রদায় থেকে আসা।

আমেরিকান নোবেল বিজয়ীদের মোটামুটি ৪০% ইহুদী অর্থাৎ নোবেল বিজয়ী প্রতি চার থেকে পাঁচ জনের একজন ইহুদী। আর আমেরিকার অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় প্রফেসররাও ইহুদী। আমেরিকার উত্তর পূর্ব উপকূলের ১২ টি বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়কে এক সাথে আইভি লীগ বলা হয়। ২০০৯ সালের ১টি জরিপে দেখা গেছে আইভি লীগ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক'জন ভিসি'ই ইহুদী।

হতে পারে ইহুদীরা আমেরিকার মোট জনসংখ্যার ২ শতাংশ, কিন্তু আমেরিকান রাজনীতিতে তাদের প্রভাব একচেটিয়া। আমেরিকার ১০০ জন সিনেটরের ১৩ জন ইহুদী।

এর চেয়ে ভয়ংকর তথ্য হল ইহুদীদের সমর্থন ব্যতীত কোন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট হতে পারেনা, পারেনা কোন প্রেসিডেন্ট প্রেসিডেন্ট থাকতে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারতের প্রভাব যতখানি। আমেরিকান রাজনীতিতে ইহুদীদের প্রভাব তার চেয়েও অনেক অনেক বেশি। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নির্বাচনী ফাণ্ড বা তহবিল সংগ্রহ একটা বড় ধরণের চ্যালেঞ্জ। বারাক ওবামা বা ক্লিনটন নিজের টাকায় প্রেসিডেন্ট হতে পারতেন না। যতক্ষন না ডোনেশান এবং পার্টির টাকায় তাদের নির্বাচনী ব্যয় মিটানো হয়েছে। আর মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের সবচেয়ে বড় নির্বাচনী ফাণ্ড দাতা প্রতিষ্ঠান হচ্ছে আমেরিকা ইসরাইল পাবলিক অ্যাফেয়ার কমিটি (আইপ্যাক)।

তাছাড়া আমেরিকার এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংকগুলো ইহুদীদের দখলে। ফলে আমেরিকার কেউ চাইলেও এদের কিছু করতে পারে না। বরং জুইশ কমিউনিটি বা ইহুদি সম্প্রদাকে হাতে না-রাখলে ক্ষমতায় টিকতে পারবেনা এমনভাবে তারা নিজেদের তৈরী করেছে। এসব কারণে শুধু জুইশ কমিউনিটির সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে ক্ষমতাসীন মার্কিন প্রেসিডেন্টে প্রশাসনের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে সার্বক্ষণিকভাবে কাজ করে যেতে হয়।

এছাড়া আমেরিকার রাজনৈতিক ও আর্থসামাজিক ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ করে মূলতঃ কর্পোরেট হাউজগুলো। তারা প্রেসিডেন্ট পর্যন্ত বানাতে পারে, এবং প্রেসিডেন্টকে সরাতে পারে। এসব কর্পোরেট হাউজগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায় এদের মালিক কিংবা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কম্পানিগুলোর মূল দায়িত্বে থাকা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা চীফ এক্সজিকিউটিভ অফিসার, সিইও হলেন ইহুদী কমিউনিটির মানুষ।

এ কথা মাইক্রোসফটের ক্ষেত্রে যেমন সত্য তেমনি জাপানিজ কোম্পানি সনির আমেরিকান অফিসের ক্ষেত্রেও সত্য। প্রায় অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ পদে জুইশ আমেরিকানরা কাজ করছেন। জুইশ কমিউনিটির ক্ষমতাধর বিলিয়নেয়াররা মিলিতভাবে যে-কোনো ঘটনা ঘটিয়ে দিতে পারেনযেকোনো সময়।

মিডিয়া জগতের দিকে আপনি যদি তাকান তাহলে দেখবেন; সিএনএন, এওল, এইচবিও, সিএন, নিউলাইন সিনেমা, ওয়ার্নার ব্রসের মত প্রতিষ্ঠানের মালিক জেরাল্ড লেভিন যিনি একজন ইহুদী। তাছাড়া এবিসি, ডিজনি চ্যানেল, ইএসপিএন, টাচ স্টোন পিকচাররের মালিক মিচেল এইসন যিনিও একজন ইহুদী। এবার আসুন, ফক্স নেটওয়ার্ক, ন্যাশনাল জিওগ্রাফি, টুয়েন্টি সেঞ্চুরির মালিকও রুপার্ট মার্ডক। আর মিডিয়া জগতে রুপার্ট মার্ডককে চেনেনা তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা।

তাছাড়া টপ ৪টি পত্রিকা আমেরিকা থেকে প্রকাশিত তাদের এডিটরও ইহুদি মানে ইহুদী মালিক কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত। নিউয়ৰ্ক টাইমস'র আর্থার স্লুজবার্গার, নিউয়ৰ্ক পোষ্টের রুপার্ট মারডক, ওয়াশিংটন পোস্টের কেএম গ্রাহাম ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল'র রবার্ট থমসন। আর আপনার প্রিয় মিডিয়া ফেসবুক প্রতিষ্ঠাতা জুকারবার্গওতো একজন ইহুদী।

আর দেখেন ইরাকের বিরুদ্ধে আমেরিকার আগ্রাসনকে সাধারণ আমেরিকানদের কাছে বৈধ হিসেবে চিত্রায়িত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছিলো ফক্স নিউজ। বিশ্ববিখ্যাত মিডিয়া মুগলরুপার্ট মারডকের নিয়ন্ত্রণাধীন এরকম প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই জুইশদের সমর্থন দিয়ে এসেছে বছর কি বছর। রুপার্ট মারডকের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে সারা বিশ্বের ১৮৫ টি পত্রপত্রিকা ও অসংখ্য টিভি চ্যানেল। বলা হয় পৃথিবীর মোট তথ্য প্রবাহের ৬০% ই কোন না কোনভাবে নিয়ন্ত্রণ করে রুপার্ট মারডকের 'দি নিউজ কর্পোরেশন'।

টিভি চ্যানেলগুলোর মধ্যে এবিসি, স্পোর্টস চ্যানেল, ইএসপিএন, ইতিহাস বিষয়ক হিস্টৃ চ্যানেলসহ আমেরিকার প্রভাবশালী অধিকাংশ টিভি-ই ইহুদিরা নিয়ন্ত্রণ করছে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে।

আমেরিকায় দৈনিক পত্রিকা বিক্রি হয় প্রতিদিন কমপক্ষে ৫৮ মিলিয়ন কপি। জাতীয় ও স্থানীয় মিলিয়ে দেড় হাজার পত্রিকা সেখানে প্রকাশিত হয়। এসব পত্রিকাসহ বিশ্বের অধিকাংশ পত্রিকা যে নিউজ সার্ভিসের সাহায্য নেয় তার নাম দি এসোসিয়েটেড প্রেস বা এপি (AP)। এ প্রতিষ্ঠানটি এখন নিয়ন্ত্রণ করছেন এর ইহুদি ম্যানেজিং এডিটর ও ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইকেল সিলভারম্যান। প্রতিদিনের খবর কী যাবে, না যাবে তা ঠিক করেন তিনি।

আমেরিকার পত্রিকাগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে সবচেয়ে প্রভাব বিস্তারকারী তিনটি পত্রিকা হলো নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়াল স্ট্রিট জার্ণাল এবং ওয়াশিংটন পোষ্ট। এ তিনটি পত্রিকার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ইহুদিদের হাতে।

ওয়াটারগেট কেলেংকারীর জন্য প্রেসিডেন্ট নিক্সনকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করেছিলো ওয়াশিংটন পোষ্ট। এর বর্তমান সিইও ডোনাল্ড গ্রেহাম ইহুদি মালিকানার তৃতীয় প্রজন্ম হিসেবে কাজ করছেন। উগ্রবাদী ইহুদী হিসেবে তিনি পরিচিত। ওয়াশিংটন পোষ্ট আরও অনেক পত্রিকা প্রকাশ করে। এর মধ্যে আর্মিদের জন্যই করে ১১টি পত্রিকা। এই গ্রুপের আরেকটি সাপ্তাহিক পত্রিকা পৃথিবী জুড়ে বিখ্যাত। টাইম এর পরে বিশ্বের দ্বিতীয় প্রভাবশালী এই সাপ্তাহিক পত্রিকাটির নাম নিউজউইক।

আমেরিকার রাজনৈতিক জগতে প্রভাবশালী নিউইয়র্ক টাইমস্-এর প্রকাশক প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ইহুদিরা হয়ে আসছেন। বর্তমান প্রকাশক ও চেয়ারম্যান আর্থার সালজবার্গার প্রসিডেন্ট ও সিইও রাসেল টি লুইস এবং ভাইস চেয়ারম্যান মাইকেল গোল্ডেন সবাই ইহুদি।

বিশ্বের অর্থনীতি যারা নিয়ন্ত্রণ করেন তাদের নিয়ন্ত্রণ করে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। আঠার লাখেরও বেশী কপি চলা এই পত্রিকার ইহুদি প্রকাশক ও চেয়ারম্যান পিটার আর কান তেত্রিশটিরও বেশী পত্রিকা ও প্রকাশনা সংস্থা নিয়ন্ত্রণ করেন।

প্রিয় পাঠক, এবার প্রশ্ন হচ্ছে ফিফা বিশ্বকাপের ৩২টা দেশের ৩২ × ২৩ জন খেলোয়াড়ের কতজন ইহুদী? উত্তর হচ্ছে: একজনও না। অথবা আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপের ১৬টা দেশের ১৬ × ১৫ জন খেলোয়াড়ের কতজন ইহুদী? যদি প্রশ্ন করা হয় পৃথিবীর বেস্ট ১০০ জন ফুটবলারের কতজন ইহুদী? কিংবা পৃথিবীর বেস্ট ১০০ জন ক্রিকেটারের কতজন ইহুদী? উত্তর হচ্ছে: একজন ও না।

কেন? উত্তরটা হচ্ছে, বছরের কিছু সময় টি টুয়েন্টি আর ফ্ল্যাশ মব, কিছু সময় আইপিএল আর চিয়ার্স লিডার, কিছু সময় ফিফা বিশ্বকাপ বা আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ, বাকি সময় ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগ আর স্প্যানিশ প্রিমিয়ার লীগ বা চ্যাম্পিয়ন্স লীগ নিয়ে ব্যস্ত থাকা আমাদের মনের মধ্যে কী কখনো এই প্রশ্ন আসেনা?

ক্যামনে আসবে ভাই, কে কোন মযহাবের, রাসূল (সঃ) নূর না মাটির তৈরী? দাড়ি-টুপি আর জুব্বার নিয়ে আছি না? পয়লা বৈশাখ, পয়লা ফাল্গুন, চৈত্র সংক্রান্তি, থার্টি ফার্স্ট আছেনা? এত এত কাজের ভিড়ে এই ধরণের হাইপোথিটিকাল চিন্তা মাথায় আসবে ক্যামনে?

হ্যাঁ, আসেনা বলেই আমি আপনি বসবাসের জন্য পৃথিবীর সবচেয়ে অযোগ্য শহরের বাসিন্দা, এই প্রশ্নগুলো আমাদের আসেনা বলেই আমরা এমন একটা দেশের এমন একটা জাতির। যে জাতি আজ অন্য জাতীর পায়ের খেলার বল।

একবার ভাবুনতো, একটা ফুটবলের ব্যাস হয়ত ২০-৩০ সে.মি. বা একটা ক্রিকেট বলের ব্যাস আরও কম হয়ত ১০-১২ সে.মি। ইহুদীরা বিশ্ববাসীকে ১০-৩০ সেন্টিমিটারের এই ফুটবল ক্রিকেটের বল নিয়ে ব্যস্ত রেখে ১২৮০০ কিলোমিটার ব্যাসের বেশ বড় একটা ফুটবল নিয়ে খেলছে কি না? ভেবেছেন কি এই বড় ফুটবলটাই হচ্চে আমাদের পৃথিবী!

আর আমরা মুসলিম হয়ে পৃথিবীর এ প্রান্তে তাদের লাঠি খেয়ে ওই প্রান্তে যেয়ে আছড়ে পড়ছি। আবার ও প্রান্তের লাথি খেয়ে এ প্রান্তে এসে তাদের পায়ের কাছে আছড়ে পড়ছি। হায়রে আফসোস!

তাছাড়া আরও একটু ভাবুনতো, ইজরাইলের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা যখন নতুন মৌল আবিস্কার করে, তখন আমরা কি করি? সানি আর মিয়া খলিফাকে নিয়ে জমে ক্ষীর হয়ে থাকি। আমেরিকা যখন নতুন নতুন ফাইটার জেটের নকশা করে, তখন আমরা ইউটিউবে মাইকেল জ্যাকসন, জাস্টিন বিবারের স্টাইল মারার ফলো করি। চীন যখন সিল্ক রোড দিয়ে বিশ্ব নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া আমরা তখন ইরানকে শায়েস্তা করবো কি করে তা নিয়ে আমেরিকার পিছে ছুটি। ভারত যখন বসে বসে সিইও তৈরি করে, তখন আমরা ঘরে বসে বসে তাদেরই বানানো সিরিয়াল দেখি। মায়ানমার যখন আমাদের সীমান্ত থেকে খনিজ সম্পদ আহরণের যন্ত্র আবিষ্কারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তখন আমরা বোটানিক্যল গার্ডেনে বসে প্রেম করছি।

তাহলে আমরা আমাদের পিছিয়ে পড়া থেকে কি সামনে আসতে পারবোনা কোনো দিন? উত্তর টা খুব সোজা: পারবো! কিন্তু এখন আমাদের প্রয়োজন পদার্থিক ক্ষুদ্র একটা কণাকে নিয়ন্ত্রণ করা যা মূলতঃ ওস্তাদের মার শেষ রাত্রের মত হবে আর এটিই হবে ইয়াহুদী বিশ্বকে থামানোর কার্যকরী হাতিয়ার।

কারণ, ১৮৯৭ সালে জে জে থমসনের ইলেকট্রন আবিস্কার, ১৯১৯ সালে রাদারফোর্ডের প্রোটন এবং ১৯৩২ সালে চ্যাডউইকের নিউট্রন আবিস্কারের মাধ্যমে বিশ্ব খুঁজে পায় পরমাণুর এক অবিশ্বাস্য গঠন। যেটি দিয়ে ইয়াহুদী নিয়ন্ত্রিত আমেরিকা বিশ্বকে নিয়ন্ত্রণ নিছে ১৯৪৭ এর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকে আজঅব্দি। আর যেটির ভয়ে তটস্থ গোটা বিশ্ব। তাছাড়া আশ্চর্য্যের বিষয় হলো যেটির থিওরীই ছিলো আইনিস্টাইনের। তাছাড়া আরও মজার বিষয় হচ্ছে এই ইলেকট্রন, প্রোটন এবং নিউট্রনকেই সে সময় সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম কণা মনে করা হতো। কিন্তু বর্তমানে পদার্থবিদরা এই ৩ টি কণার চেয়েও ক্ষুদ্রতম কণার কথা বলছেন আর তা হচ্ছে কোয়ার্ক, লেপ্টোন এবং বোসন কণার কথা। আর এই বোসন কণাকে কেউ কেউ ঈশ্বর কণাও বলছেন।
 
তবে আশার ভবিষৎ বাণী (Future of Hope) হচ্ছে; পৃথিবীতে আরও এমন কিছু কণা আবিষ্কার হবে যার মধ্যে এমন একটি ক্ষুদ্র কণা থাকবে যা দিয়ে সমগ্র পদার্থের শক্তিগুলোকে রিমোটকন্ট্রোল এর মত কন্ট্রোল করা যাবে। আর সেটার জন্য এমন একটা পদার্থিক "সার্চ দ্যা ওয়্যার'র" (Search The War) প্রয়োজন যেমনটি ১৯৪২ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হয়েছিলো জার্মান ও আমেরিকার মধ্যে, যেখানে আমেরিকার পদার্থবিদ ওপেন হাইমার সর্ব প্রথম সফলভাবে ভারী ইউরেনিয়ামের নিউক্লিয়াসকে উচ্চ শক্তিসম্পন্ন নিউট্রন দ্বারা আঘাত করে চেইন রিয়্যাকশন এর মাধ্যমে এমন এক ধ্বংসযজ্ঞ আবিষ্কার করলেন যার ফল হিরোশিমা আর নাগাসাকি হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছিলো।

বিশ্বাস করুন মুসলিম জাতি, সময় এখন পদার্থের ঐ ধ্বংসযজ্ঞকে আটকানোর "সার্চ দ্যা ওয়্যার'র" (Search The War)। আর যদি এ যুদ্ধে আমরা জয়ী হতে পারি তবে মুসলমানদের (মানবতার) হারানো গৌরব ফিরে পাবো ইনশাল্লাহ।

আর এর জন্য প্রয়োজন জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রচার, রাষ্ট্রীয় সাপোর্ট ও সাফল্যের লক্ষ্যে দুর্দমনীয় গবেষণা। সে লক্ষ্যে অবিচল পথ চলা। কারণ, ওরা মিডিয়া, ব্যবসা ও গবেষণায় এগিয়ে থেকে আমাদের চোখে রঙিন ইন্টারনেট ও ১০-৩০ সেন্টিমিটারের ফুটবল-ক্রিকেটের বল দিয়ে ব্যস্ত রেখে ১২৮০০ কিলোমিটার ব্যাসের পুরো পৃথিবী নামক শান্তির এই গ্রহকে নিয়ে একাই খেলছে।