একটি ভোরের অপেক্ষায়

লেখক: সাংবাদিক, যুগ্ম বার্তা সম্পাদক, প্রবাসীর দিগন্ত।

Img
ইমরান মিয়া - ফাইল ছবি

-একটা ছবি দাও না
-তোমার কাছে আমার ছবি নেই??
-হুম আছে তো!
-তাহলে ছবি চাইছো কেনো?
-কেনো আছে বলে কি দেওয়া যাবে না?
-যাবে!
-তাহলে দাও।
-আজ না বাবু আমি কাল সকালে তোমাকে পাঠিয়ে দিবো।
-আচ্ছা দিও
-শুভ রাত্রি।

ইমু ও সামি খুব ভালো বন্ধু। ফেসবুকে তাদের পরিচয়। সব সময় ফেসবুকের মেসেজে তাদের মনের আবেগ আদান-প্রদান হয়। ইমু সামিকে আদর করে পাগল, বোকা, গাল ফুলানি অনেক সময় ঘুমের রাজকন্যা বলে ডাকে।

যাই হোক আসল ঘটনায় আসি। সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে সামি তার ফোন চেক করলো। অনেকটা অবাগ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো ফোনের দিকে। কিছু বুঝে উঠার আগেই ঘড়িতে সময় কত তাকালো। দেখতে পেলো বেলা প্রায় ১১টা। অথচ ইমুর একটা মেসেও আসেনি? খানিকটা চিন্তা নিয়ে ফেসবুকের মেসেন্জারে ডুকে দেখতে পেলে সকাল থেকে এখন  পর্যন্ত ইমু অনলাইনে আসেনি। কিন্তু এমনতো হওয়ার কথা না। অনলাইনে না পেয়ে কিছুটা দুচিন্তায় পড়লো সামি। সবসময় মেসেজেই কথা হয়। ব্যক্তিগত নাম্বারও নেই! তাছাড়া ইমুর পরিচিত আর কারো নাম্বারই নেই। তাদের মনের ভাব মেসেজের মধ্যে আদান প্রদান হতো। যদিও একবার তারা ফেসবুকের সুবাদে ভিডিও ফোনে কথা বলেছিলো। কিন্তু ফোন নাম্বার নেওয়া হয়নি কারো। ভাবতে ভাবতে বেলা বেজে ১২ টা। সামি বার বার ফোন হাতে নিচ্ছে আর চেক করছে মেসেজ আসলো কিনা। কিন্তু কই কেনো মেসেজ তো আসছে না।

চিন্তায় সামির অবস্থা আম সত্তর মতো হয়ে যাচ্ছে। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতে চললো ইমুর কোনো খোঁজ নেই। হুট করে একটা মানুষ উধাও হয়ে যাবে এটা কিভাবে সম্ভব? ইমুর কোনো সমস্যা হলো নাতো? এমন আরও হাজারও প্রশ্ন সামির মনে ঘুরপাক খাচ্ছিল। 

বিকেল গড়িয়ে সন্ধা হতে চললো। এমনতো কখনও হয়নি। ইমুতো কখন এতটা দেড়ি করেনি। আর আমাকে শুভ সকাল না জানিয়ে দিনের কার্যক্রম শুরু করেনি। তাহলে কি হলো ইমুর..?

সারাঘর পাইচারি করছে সামি। কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছে না ইমুর সাথে যোগোযোগ করার। এমন সময় ফেসবুক মেজেঞ্জারে কল আসলো। সামি খুব আগ্রাহ নিয়ে ফোন রিসিভ করলো।

-হ্যালো
-সামি, আমি ইমু বলছি....

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার