ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা অভিমুখী ‘তুর্ণা নিশীথা’র সঙ্গে সিলেট থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী ‘উদয়ন এক্সপ্রেস’ ট্রেনের সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন। 

হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া ট্রেন ‘তুর্ণা নিশীথা’ এক্সপ্রেসের যাত্রী কক্সবাজার শহর ছাত্রলীগের ৪নং ওয়ার্ডের সভাপতি আসিফ সম্পাদক শান্ত নুর।

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘আমার মনে হয় বাংলাদেশে এটাই সবচাইতে বড় ট্রেন দুর্ঘটনা। বেশ খারাপ লাগছে নিহতদের ভয়ঙ্কর দৃশ্য দেখে। আনুমানিক ৩টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ৭৪১ তূর্ণা এক্সপ্রেস ও সিলেট থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী ৭২৪ উদয়ন এক্সপ্রেসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় মন্দবাগ স্টেশন এলাকায়।’

শান্ত নুর বলেন, ‘এমন দুর্ঘটনার খবর আমি আমার জীবনে শুনতে পাইনি এবং দেখিনি। বিশেষ করে মনে হচ্ছে কোনো টিভির হেডলাইন ও পত্র-পত্রিকায়ও দেখিনি। নিথর দেহগুলো পড়ে আছে।’ 

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে শান্ত নুর বলেন, ‘তূর্ণা নিশীথা ট্রেনটি মাত্র কুমিল্লা ছেড়ে কিছু দূর গেল। মধ্যরাতে ট্রেনটা মোটামুটি অনেক গতিতেই চলছিল। ট্রেনটি যে লাইনে চলছিল অপর ট্রেনটির শেষ কয়েকটা বগি তখনও তূর্ণা এক্সপ্রেসের লাইন ক্রস করে পুরোপুরি বিপরীত লাইনে যেতে পারেনি। এ কারণে অনেক বড় ধাক্কার সম্মুখীন হয় এবং সেই ধাক্কায় ট্রেনটি লাইনে ঠিক থাকতে পারলেও উদয়ন এক্সপ্রেস তার লাইনে থাকতে পারেনি এবং ওই ট্রেনের শেষদিকের সবকটি বগি উল্টে যায়। 

বেশ কয়েকজন যাত্রী মুহূর্তের মধ্যে খেয়াল করে দেখলো, এক্সিডেন্ট হওয়া বগির যত যাত্রী ছিলো তাদের গুটি কয়েকজন ছাড়া সবাই মৃতপ্রায়! আবার আরেকটি বগির একজন লোকও বাঁচেনি! প্রথমে একজন মহিলাকে জীবিত দেখলেও ওই মহিলার দুই পা কেটে গেছে। চিৎকার করে শুধু পানি চেয়েছে! 

এছাড়াও পরে জীবিত বাকি আরো কয়েকজনকে দেখলেও কারো হাত নেই কারো পা নেই, এমন লাশ অনেক পড়ে আছে। যারা বেঁচে আছে তারা শুধু চিৎকার করছে আর কাতরাচ্ছে।’