দেওয়ান রাসেল শুধু একটি নাম নয়।তাঁর পরিব্যাপ্ত অনেক। পরিচিতির ব্যাপারে কতটুকু বিস্তৃতি সুধী সমাজই বলবেন।
পাঁচবিবির সাহিত্য-সংস্কৃতি অঙ্গন বলবেন। একজন
মানুষকে কখনোই দুর থেকে চেনা বা জানা যায় না।তাঁর
কাছে যেতে হয়।বুঝতে হয়।মিশতে হয়।দিনের পর দিন
মেশামিশির সম্পর্ক সরলে বোঝা যায় মানুষটি কেমন।

দেওয়ান রাসেলের সঙ্গে প্রথম পরিচয় আমার ১৯৯৮সালে পাঁচবিবি সোসাইটি মার্কেটে।তাঁর সঙ্গে কিছু তরুন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।কবি কাউছার হোসেন সুইট,সাংবাদিক উল্লাস কুমার হাজরা,কবি নুর জারুহিরুল ইসলাম এবং নাট্যব্যাকিত্ব হাসানুজ্জামান তুহিন। কয়েকজন বন্ধু মিলে ওনারা একটি সাহিত্যে সংগঠন করেছেন।নাম'সুপার ঈগল সাহিত্যে সংগঠন।নিয়মিত একটি ত্রৈমাসিক পত্রিকাও প্রকাশ করছেন।সেই প্রসঙ্গে ওনারা কথা বলছিলেন।উপস্থিত আমাকেও সদস্য হতে বললেন।আমি এমন সংগঠনে সে বারই প্রথম।
সেই থেকে দেওয়ান রাসেলের সঙ্গে আমার পরিচয়।

১৯৯৯ সাল।
সে বার সুপার ঈগল সাহিত্য সংগঠনের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে আমি অবাক হয়েছিলাম।যে বয়সে ছেলেরা
বাবার হোটেলে খেয়ে বাহল্য কাজকর্ম করে ফিরে।সেই
বয়সের ছেলেদের তিনদিন ব্যাপি প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে রক্তদান কর্মসূচি, শীত বস্ত বিতরণের মতো মহৎ কাজের পাশাপাশি সংগীত প্রতিযোগিতাএবং কবি-সাহিত্যের মিলন আয়োজন। সেই মহা আয়োজনে
আমার মতো ক্ষুদ্র একজনকে পুরস্কৃত হয়।
সেখানে নাট্যব্যাকিত্ব শামীম আহাম্মেদ মোহনের নির্দেশনায় কবি গুরুর 'খ্যাতির বিড়ম্বনা 'নাটকটি মঞ্চত্ব হয়।যেখানে দেওয়ান রাসেলের উৎসাহে দুকুড়ি দত্তের
ভৃত্যের চরিত্রে অভিনয়ের আমার সুযোগ হয়।মুল চরিত্রে ছিলেন,হাসানুজ্জামান তুহিন।

২০০০ সাল।
দেওয়ান রাসেল একদিন আমাকে ডেকে পাঠালেন।
পরেদিন দেখা করতে গেলাম।আমাকে দেখে আনন্দে
জড়িয়ে  বললেন,ভাই, বালিঘাটা সমবায় সমিতি লিমিটেড প্রাঙ্গণে ৮দিন ব্যাপি বইমেলা করছি সুপার ঈগলের সৌজন্য । আর এদিকে আপনার খবর নাই।
আমি কী বলব আনন্দে ভেবে পাচ্ছিলাম না।তারপর চা খেতে ডেকে নিয়ে গেলেন।অনেক গল্প আলোচনা শেষে
চলে এলাম।

২০০০সালের বই মেলা শেষ হতে না হতে।দেওয়ান রাসের,নুর জাহিরুল,কাউছার হোসেন সুইট,হাসানুজ্জামান তুহিনের মনে আরো একটা বইমেলার স্বপ্ন ডানা বেঁধে উঠল।

সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়নে ২০০১ সালে ১১দিন ব্যাপি পাঁচবিবি ষ্টেডিয়ামে বই মেলার আয়োজন করলেন।এবার ঢাকা থেকে প্রকাশনী
এলো। এতো বড় আয়োজন।আর কয়েকজন  যুবকের
উদ্যোগ নিশ্চয় বড় রকমের ঝুকি।কিন্তু যুবকের হাত মানে সাফল্যের হাত।জেলা প্রশাসন বিভাগ থেকে উপজেলা প্রশাসন বিভাগ সর্বস্তরের সহযোগীতা পেলেন।কিন্তুু প্রকৃতির বৈরীতা বড় কষ্টের।ঝড়-বৃষ্টিতে
মেলার মাঝামাঝি  সময় তবুও হাল ছাড়লেন না।খুব সুশৃংখলও দক্ষতার সাথে মেলা সম্পূর্ণ হলো।

এখানেই থেমে থাকেন নি দেওয়ান রাসেলের দল।তথা,
কাউছার আহাম্মেদ সুইট,নুর জাহিরুল, হাসানুজ্জামান তুহিন প্রমুখ।  অর্থাৎ সুপার ঈগল সাহিত্য সংগঠন।
একটি সংগীত বিদ্যালয়ও প্রতিষ্ঠা করেন।

এ ছাড়া অনেক নাটক মঞ্চস্থ করেন।যেমন,খ্যাতির বিড়ম্বনা তো আছেই।তাছাড়া মরহুম শহিদুল স্যারের
নির্দেশনায়,'আক্কল আলীর আদালত,বাঁচার সংগ্রাম
আরো অনেক।

তারপর,২০০৩ সাল।
পাঁচবিবি ষ্টেডিয়ামে বই মেলার আয়োজন করলেন।বই মেলা শুভ উদ্ধোধনে আসলেন,বিশিষ্ট শিশু সাহিত্যিক, বাংলাদেশ টেলিভিনশন পরিচালক জনাব আলী ইমাম,দৈনিক জনকন্ঠ পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদক কবি নাসির আহমেদ ও বিশিষ্ট কবি ও ছড়াকার রহিম শাহ্।
ঢাকা থেকে প্রকাশনী এলো।আজো স্মৃতিতে ভেসে ওঠে
সেইদিন গুলি।

আজ আর সেই সোসাইটি  মার্কেটে আড্ডা নেই।
আজ আর সুপার ঈগল সাহিত্য সংগঠন নেই।
নেই সংগীত বিদ্যালয়টি।
নেই পাঁচবিবিতে এগারো বা সাতদিন ব্যাপি বই মেলা।

কিন্তু সেই যুবকগুলো আজো আছেন।কেউ ঢাকায়,কেউ
কর্মে ব্যস্ত। এখনো শুধু দুজনকে দেখি সাহিত্যে ,সংস্কৃতির মঞ্চে পদচালনা সক্রিয় ।যাঁর মধ্যে দেওয়ান রাসেল,পিতা-দেওয়ান আব্দুর রশিদ,বালিঘাটা,তিনমাথা  
বাজার,পাঁচবিবি।আর একজন কবি নুর জাহিরুল।আমার দেখা সাংস্কতিক ব্যক্তিত্বের এক উজ্জ্বল মোহর।