উত্তাপ নেই মসলার বাজারে

Img
ফাইল ছবি

প্রতি বছর কোরবানীর ঈদ ঘনিয়ে এলেই সরগরম থাকতো গরম মসলার বাজার। তবে এবার করোনা পরিস্থিতিতে গরম মসলার বাজার অনেকটাই ঠান্ডা। যদিও করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের শুরুর দিকে দাম কিছুটা চড়া ছিল। ধীরে ধীরে বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ায় দামও কমেছে। বিশেষ করে করোনাভাইরাসের সৃষ্ট পরিস্থিতিতে এখনো বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এছাড়া গত এপ্রিল থেকে বড় বড় খাবারের হোটেল-রেস্টুরেন্টগুলো বন্ধ ছিল। তবে কিছু কিছু হোটেল রেস্টুরেন্ট সীমিত আকারে চালু করা হয়েছে। কিন্তু সার্বিক পরিস্থিতিতে গরম মসলার চাহিদা দুই তৃতীয়াংশ কমে যায়।

অপরদিকে কোরবানী ঈদকে কেন্দ্র করে গত এক মাস ধরে বুকিং দেয়া পণ্যও আসতে শুরু করেছে। চাহিদা কমে যাওয়ার বিপরীতে আমদানি বেড়ে যাওয়ায়, এবার গরম মসলার বাজারে উত্তাপ ছড়ায়নি। এছাড়া বর্তমানে প্রত্যেক ব্যবসায়ীর গুদামে পর্যাপ্ত পরিমাণে গরম মসলা মজুদ রয়েছেও বলছেন ব্যবসায়ীরা।

ভোগ্যপণ্যের বৃহৎ পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত এক মাস আগেও প্রতি কেজি এলাচ বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার ২০০ টাকায়। বর্তমানে তা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৪০০ টাকায়। এছাড়া গত এক মাস আগে জিরা বিক্রি হয় ৩৫০ টাকায়। এখন বিক্রি হচ্ছে ২৭০ টাকা। এক মাসের ব্যবধানে ৩০০ টাকার দারচিনি বিক্রি হচ্ছে ২৬০ টাকায়। এছাড়া ৭০০ টাকার লবঙ্গ ৬২০ টাকা এবং এক মাস আগে ৪৫০ টাকায় বিক্রি গোল মরিচ বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৩৬০ টাকায়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলমাজন মহামারি করোনা ভাইরাসের পরিস্থিতিতে বর্তমানে কোথাও বিয়ে, মেজবান ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান হচ্ছে না। মূলত গরম মসলা এসব অনুষ্ঠানের খাবার রান্নায় অত্যাবশকীয় উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বিভিন্ন অনুষ্ঠান ছাড়াও খাবারের হোটেল রেস্টুরেন্ট থাকার কারণে বাজার এখনো পড়তির দিকে রয়েছে।

খাতুনগঞ্জের গরম মসলা আমদানিকারক এবং এম ইউ ব্রাদার্সের স্বত্বাধিকারী উৎপল চৌধুরী মানিক বলেন, করোনা ভাইরাসের পরিস্থিতিতে গরম মসলার বাজার দিন দিন কমছে। গত বছর এই সময়ে খাতুনগঞ্জে গরম মসলার রমরমা বেচাকেনা ছিল। তবে এবার ক্রেতা একদম নেই বললেই চলে। আমাদের দেশে গত এক মাসে এলাচ, জিরা, দারচিনি, লবঙ্গ ও গোলমরিচের দাম কেজিতে কমেছে সর্বোচ্চ ৮০০ টাকা পর্যন্ত। শুধু আমাদের দেশে নয় প্রতিবেশি দেশ ভারতেও গরম মসলার দাম কমেছে। ভারত থেকেও আমরা এলাচ আমদানি করি। এবার আমাদের দেশে এলাচ এত বেশি আমদানি হয়েছে, এমনকি ভারতের চেয়েও আমাদের এলাচের দাম এখন। কারণ হচ্ছে-ভারতের পাশাপাশি গুয়েতামালা থেকেও প্রচুর পরিমাণে এলাচ আমদানি হয়েছে এবার। গুয়েতামালা থেকে এলাচ আসতে ৪ মাস সময় লাগে। ভারত থেকে আসতে সময় লাগে এক মাস। ব্যবসায়ীরা কোরবানির ঈদকে টার্গেট করে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির দিকে সাধারণত আমদানির জন্য ঋণপত্র (এলসি) খুলেন। সেই সব পণ্য ইতোমধ্যে বাজার প্রবেশ করেছ। চাহিদার অতিরিক্ত পণ্য মজুদ থাকায় এখন প্রত্যেক ব্যবসায়ীকে লোকসান দিয়ে পণ্য বিক্রি করতে হচ্ছে। দাম যেহেতু কমছে, সুতরাং সিন্ডিকেটের বিষয়টি তো আর আসছে না। প্রতি বছর দাম বাড়লে ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে দাম বৃদ্ধি করছেন এমন অভিযোগ আমরা শুনে আসছি। যা ছিল সম্পূর্ণ ধারণাপ্রসূত।

চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মো. মাহাবুবুল আলম বলেন, ভোগ্যপণ্যের বাজারের ধর্ম হচ্ছে চাহিদার তুলানায় যদি সরবরাহ বাড়ে তবে দাম কমতে বাধ্য। কোনো ব্যবসায়ী তো পণ্য এনে গুদামজাত করে রাখবে না। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে গরম মসলাসহ প্রত্যেকটি ভোগ্যপণ্যের ক্ষেত্রে একই চিত্র লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ভোগ্যপণ্যের বাজার ব্যবসায়ীদের মর্জির ওপর নির্ভরশীল। ওরা প্রয়োজন মতো দাম ওঠানামা করান। গত বছর পুরোটা সময় গরম মসলার বাজার সরগরম ছিল। গরম মসলা থেকে ইতোমধ্যে ব্যবসায়ীরা যা মুনাফা করার করে ফেলেছেন। আমাদের একটা চাওয়া প্রশাসন যেন ভোগ্যপণ্যের বাজার নিয়মিত মনিটরিং করেন।

প্রতিক্রিয়া (১৪) মন্তব্য (০) শেয়ার (১০)