ইতিহাস গড়ে জাতীয় দলে সুনামগঞ্জের নাসুম

Img

নাসুম আহমেদ। হাওরপাড়ের সন্তান। এ এলাকা থেকে কোনো দিন কোনো ক্রিকেটার জাতীয় দলে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাননি। এবার আসন্ন নিউজিল্যান্ড সিরিজের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ দলের ঘোষিত স্কোয়াডে স্থান করে নিয়েছেন নাসুম আহমেদ। এই প্রথম হাওরের রাজধানীখ্যাত সুনামগঞ্জ জেলার প্রথম কোনো ক্রিকেটার জাতীয় ক্রিকেট দলে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়েছেন। সুনামগঞ্জের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ন্যাশনাল টিমের ২০ সদস্যের স্কোয়াডে স্থান করে ইতিহাস গড়েছেন অজ-পাড়াগাঁয়ের নাসুম আহমদ।

নাসুমের জন্মস্থান জেলার দিরাই উপজেলার ভাটিপড়া ইউনিয়নের মধুরাপুর গ্রামে। নাসুম এরআগে সুনামগঞ্জের প্যারামাউন্ট ক্রিকেট ক্লাবের খেলোয়াড় হিসেবে প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লীগ খেলেছেন।

নাসুম দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে পরিচিত নাম। বাঁহাতি এ স্পিনার ঘরোয়া ক্রিকেটে করে যাচ্ছেন নিয়মিত পারফর্ম। দলের প্রয়োজনে ব্যাট হাতেও এগিয়ে আসেন ২৬ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার। নিজেকে বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে পরিচয় দিতেই স্বচ্ছন্দবোধ করেন নাসুম। অনেক পরিশ্রমের পরে জাতীয় দলে সুযোগ পেয়ে নাসুমের মধ্যে শান্তি কাজ করছে বলে জানিয়ে নাসুম বলেন, ‘অবশ্যই শান্তি লাগছে। আমি আশাবাদী। সুযোগ পেলে ভালো তো করতেই হবে। এখানে আসলে টিকে থাকার জন্য এসেছি, বের হয়ে যাওয়ার জন্য না। টিকে থাকার জন্য যতটুকু ভালো করা যায় আমি চেষ্টা করব। আমি তো মূলত বোলিং অলরাউন্ডার, ব্যাটিংটা ভালোই পারি আর কি কিন্তু ওভাবে সুযোগ পাই না। আমি ঘরোয়া ক্রিকেটেও ভালো ব্যাটিং করেছি। ব্যাটিং নিয়ে আরেকটু কাজ করলে হয়তো একজন ভালো অলরাউন্ডার হতে পারব। ব্যাটিং নিয়ে সেভাবে কাজ করা হয় না, নিজে থেকে যেটুকু করি ওটুকুই৷’

প্রথমবার জাতীয় দলে ঢোকার পরেই এই স্কোয়াডে নিজেকে ধরে রাখার এবং জাতীয় দলের নিয়মিত সদস্য হওয়ার লোভ পেয়ে বসেছিল নাসুমকে। এ কথা তিনি অকপটেই স্বীকার করেছেন। নাসুমের ভাষ্যমতে, ‘আমি যখন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ডাক পেয়েছিলাম তখন থেকে আমার লোভ লেগে গিয়েছিল যে আমি জাতীয় দলে খেলবোই খেলব। ওইসময় ৬/৭ দিনের একটা সিরিজ ছিল। তারপর দল থেকে বের হওয়ার পরেই করোনা চলে আসলো। তখন থেকেই আমার এত বেশি লোভ পেয়ে বসেছিল যে কবে জাতীয় দলে যাব। গত সিরিজেও আমি আপ্রাণ চেষ্টা করেছি দলে থাকার জন্য। দুর্ভাগ্যবশত হয়নি তখন। এবার সুযোগটা পেলাম, লাখ লাখ শুকরিয়া। দেখা যাক সামনে কি হয়।’

নিউজিল্যান্ডকে পেস বোলিংয়ের স্বর্গ মনে করা হলেও অস্ট্রেলিয়ায় যুবদলের পক্ষে স্পিন দিয়েই ভালো পারফর্ম করা নাসুম আশাবাদী আছেন নিউজিল্যান্ডের মাটিতেও ভালো করতে, ‘অস্ট্রেলিয়ায় আমি অনূর্ধ্ব ১৯ খেলে এসেছি ২০১২ সালে। ওদের প্রায় একই উইকেট। সেবার আমি প্রস্তুতি ম্যাচসহ মোট ১৩টা উইকেট পেয়েছিলাম।’

বাংলাদেশ দল নিউজিল্যান্ড সফরে গেলে সেখানে টাইগারদের সাথে যোগ দিতে পারেন ড্যানিয়েল ভেট্টোরি। এই স্পিন পরামর্শকের কাছে থেকে পরামর্শ নিতেও মুখিয়ে আছেন নাসুম। তিনি বলেন, ‘এখন তো মূল খেলা। এখন ভেট্টোরির কাছে কোনোকিছু নতুন করে শিখতে গেলে সমস্যা হয়ে যাবে। যেটা আছে, সেটা নিয়ে থাকলেই ভালো হবে। উনার কাছে থেকে পরিস্থিতি অনুযায়ী পরামর্শ নিবো। আমি আমার বোলিং নিয়ে সবার সাথেই কথা বলতে পছন্দ করি। আমি চাই আরেকটু ভালো হোক, এইজন্য সবার সাথে কথা বলি। কথা বলে যেই বিশেষ বার্তাটা পাই সেটা অনুশীলনে প্রয়োগ করি। তখন যদি মনে হয় ভালো হচ্ছে তখন আরও করি সেটা আর মনে না হলে আর করি না।’

নিউজিল্যান্ড সফরের জন্য বৃহস্পতিবারই করোনার টিকা নিয়েছিলেন তিনি। ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই জ্বরেও ভুগেছেন এই ক্রিকেটার। তবে এখন ভালোই আছেন।

প্যারামাউন্ট ক্রিকেট ক্লাবের কর্মকর্তা ওয়াসিম বখত স্থানীয় এক সংবাদপত্রকে বলেন, ২০১৩ সালে নাসুম আহমেদ আমাদের প্যারামাউন্ড ক্রিকেট ক্লাবের প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লীগের খেলোয়াড় ছিলেন। সে একজন প্রতিভাবান ক্রিকেটার। সুনামগঞ্জ জেলার প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে সে জাতীয় দলে জায়গা পেয়েছে। এটা আমাদের জন্য গর্বের ও আনন্দের খবর। আমরা তাঁর উত্তর উত্তর সাফল্য কামনা করি।

গত শুক্রবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) নিউজিল্যান্ড সফরে তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য ২০ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করেছে বিসিবি। 

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলতে আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে টিম বাংলাদেশের। ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচটি শুরু হবে ২০ মার্চ, ডানেডিনে। সিরিজের পরবর্তী দুটি ম্যাচ মাঠে গড়াবে যথাক্রমে ২৩ ও ২৬ মার্চ। দ্বিতীয় ওয়ানডে হবে ক্রাইস্টচার্চে, তৃতীয়টি ওয়েলিংটনে। তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজটি শুরু হবে ২৮ মার্চ। সিরিজের পরের দুই ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে যথাক্রমে ৩০ মার্চ ও ১ এপ্রিল। প্রথম টি-টোয়েন্টি অনুষ্ঠিত হবে হ্যামিল্টনে। দ্বিতীয়টি নেপিয়ারে, তৃতীয়টি অকল্যান্ডে।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার