ইজতেমার বাসে ৪০ হাজার ইয়াবা, গ্রেফতার ১

Img

গ্যাস সিলিন্ডারের ভেতর অভিনব কায়দায় লুকিয়ে পাচারের সময় ৪০ হাজার পিস ইয়াবাসহ এক পাচারকারী গ্রেফতার করেছে র্যাব। শনিবার ১০২ ইয়াবা কারবারির আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণের ৮ ঘণ্টার মাথায় কক্সবাজারের লিংকরোড এলাকায় হানিফ পরিবহনের একটি বাস থেকে এসব ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। বাসটি বিশ্ব ইজতেমার যাত্রীদের নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছিল। গ্রেফতার ইয়াবা পাচারকারীর নাম মো. সারোয়ার কামাল (২৮)। তিনি কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার খাঞ্চনী নয়াপাড়ার দুদু মিয়ার ছেলে।

র্যাব-৭ কক্সবাজার ক্যাম্প ইনচার্জ মেজর মেহেদী হাসান জানান, কতিপয় মাদক ব্যবসায়ী হানিফ পরিবহনের একটি বাসের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট নিয়ে কক্সবাজার থেকে ঢাকার দিকে যাচ্ছে, এমন সংবাদ পেয়ে র্যাব-১৫’র একটি আভিযানিক দল সদরের লিংক রোড এলাকার পাকা রাস্তার উপর একটি বিশেষ চেকপোস্ট স্থাপন করে। গাড়ি তল্লাশির সময় বাসটির গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে র্যাব সদস্যরা বাসটিকে থামানোর সংকেত দেন।

চালক বাসটিকে র্যাবের চেকপোস্টের সামনে থামালে র্যাব সদস্যরা যাত্রী ও গাড়ি তল্লাশি শুরু করলে বাসের ভেতর থেকে এক ব্যক্তি বের হয়ে পালিয়ে যাবার চেষ্টা করে। পালাবার সময় সারোয়ার কামালকে গ্রেফতার করে র্যাব সদস্যরা। পরে বাসের মধ্যে রাখা তার ব্যক্তিগত গ্যাস সিলিন্ডারে সুকৌশলে লুকানো অবস্থায় ৪০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়। তিনি আরও জানান, বাসটির সব যাত্রী বিশ্ব ইজতেমার জন্য কক্সবাজার হতে ঢাকার উদ্দেশে যাচ্ছিলেন।

এ ঘটনায় মাদক আইনে মামলা করে উদ্ধার ইয়াবাসহ সারোয়ার কামালকে কক্সবাজার সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। উল্লেখ্য, শনিবার আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণ করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ১০২ ইয়াবা ব্যবসায়ী। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে টেকনাফ পাইলট হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীর কাছে ইয়াবা ও অস্ত্র জমা দিয়ে তারা আত্মসমর্পণ করেন। আত্মসমর্পণকালে তারা সাড়ে ৩ লাখ ইয়াবা, ৩০টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৭০টি কার্তুজ জমা দেন।

পূর্ববর্তী সংবাদ

অবৈধ বিলবোর্ডে সয়লাব চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক

অবৈধ বিলবোর্ডে ঢেকে যাচ্ছে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক। শাহ আমানত সেতুর কর্ণফুলী মইজ্জ্যারটেক থেকে শুরু করে মহাসড়কের লোহাগাড়া পর্যন্ত শত শত বিলবোর্ড। চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের প্রবেশমুখ শাহ আমানত সেতু থেকে দক্ষিণাংশে নামতেই রয়েছে দুই পাশে কয়েকটি বড় বড় বিলবোর্ড। সেতুর টোলপ্লাজা অতিক্রম করলেই বেশ কয়েকটি বিলবোর্ড নজরে পড়ে। সবচেয়ে বড় বিলবোর্ডটি মইজ্জ্যারটেক কর্ণফুলী পেট্রোল পাম্পের সাথেই। পাশে পশুর বাজারের মধ্যেই স্থান করে নিয়েছে আরেকটি বিলবোর্ড।

কিছুদূর এগুলে ফসিল পেট্রোল পাম্পের আগে পরে কলেজবাজার হয়ে শিকলবাহা ক্রসিং পর্যন্ত আরো কয়েকটি বিলবোর্ড নতুন করে স্থাপন করা হয়েছে ভাড়া দেয়ার উদ্দেশ্যে। ‘টু– লেট’ লিখে বিজ্ঞাপনদাতাদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন বিলবোর্ডের মালিকরা।

অপরদিকে মহাসড়কটির পটিয়ার শান্তিরহাট, নয়াহাট, গৈড়লারটেক, আমজুরহাট, কাগজীপাড়া, ইন্দ্রপুল, পটিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পোস্ট অফিস, ডাক বাংলো, বাসস্টেশন, কমলমুন্সির হাট, জলুয়ার দিঘীর পাড়, খরনা রাস্তার মাথা, মোজাফফরাবাদ, চন্দনাইশের বিজিসি ট্রাস্ট, রওশন হাট, বাদামতল, খান হাট, কলেজ গেইট, বাগিচা হাট, দেওয়ান হাট মোড়, দোহাজারী, সাতকানিয়ার বিওসির মোড়, মৌলভীর দোকান, কেরানীহাট, সাতকানিয়া রাস্তার মাথা, পদুয়া বাজার, তেয়ারিহাট, লোহাগাড়ার আমিরাবাদসহ অসংখ্য স্পটে স্থাপন করা হয়েছে বড় বড় বিলবোর্ড।

মহাসড়কের দৃষ্টি আকর্ষণী মোড়েই রয়েছে বিলবোর্ড। এতে হারিয়ে গেছে সড়কের সৌন্দর্য। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক রয়েছে মহাসড়কের এমন জায়গাতেও বিলবোর্ড স্থাপন করায় চালকদের দৃষ্টি অনেকসময় সেদিকে চলে যায়।

স্থানীয়রা জানান, এ কারণে দুর্ঘটনার শিকার হয় ছোট বড় অনেক গাড়ি। এব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুল তাবরীজ বলেন, মহাসড়কের দুই পাশে যেসব বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে সেগুলোর প্রশাসন থেকে কোন অনুমোদন নেই। আমরা সড়ক ও জনপথ বিভাগের সাথে কথা বলেছি। তারাও জানিয়েছে এগুলোর কোন অনুমোদন নেই। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে অবৈধ বিলবোর্ডগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগ দোহাজারী নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদ হাসান জানান, ‘অবৈধ এসব বিলবোর্ড উচ্ছেদের জন্য আমরা ইতিমধ্যে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। অনুমতি পেলেই এসব বিলবোর্ড উচ্ছেদ অভিযান শুরু হবে। এগুলোর সাথে মহাসড়কের মইজ্জ্যারটেক থেকে লোহাগাড়া পর্যন্ত ২৯টি অবৈধ বাজারও রয়েছে মহাসড়কের উপরে। বিলবোর্ড উচ্ছেদ অভিযানের সাথে এগুলোও উচ্ছেদ প্রক্রিয়া চলবে।’

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার