ফাইনাল এলেই যেন কী হয়ে যায় বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের! পুরো টুর্নামেন্ট ভালো খেলে ফাইনালে গিয়ে হারে। যেন তীরে এসে তরী ডোবানোর মতো বিষয়।

অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের ফাইনালে শক্তিশালী ভারতকে মাত্র ১০৬ রানে গুটিয়ে দিয়েও ৫ রানে হেরেছে বাংলাদেশের যুবারা! গুটিয়ে গেছে ১০১ রানে। আরেকটি ফাইনাল শেষ হলো হতাশায়। এশিয়া কাপ জয়ের স্বপ্নভঙ্গ হলো। তবে এতে আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্তের অবদানও কম নয়।

৫০ ওভারে মাত্র ১০৭ রান করা কঠিন কোনো বিষয় নয়। সেই সহজ বিষয়টিকেই কঠিন করে তুলল বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। দলীয় ১৩ রানের মধ্যেই প্রথম তিন উইকেট হারায় বাংলাদেশ। প্রথম ওভারেই ফিরে যান ওপেনার তানজীদ হাসান (০)। পরের ওভারে আরেক ওপেনার পারভেজ হোসেনকে (৫) তুলে নেন পেসার বিদ্যাধর পাতিল। তৃতীয় ওভারে বিদায় নেন চারে নামা তৌহিদ হৃদয়। অর্থাৎ প্রথম তিন ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে শুরুতেই ছিটকে পড়ার পথে ছিল যুবারা।

এমতাবস্থায় ৩২ বলে ২৬ রানের জুটি গড়েন অধিনায়ক আকবর আলী ও পেসার মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী। ১৯.৪ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর তখন ৬ উইকেটে ৭৭। জয়ের জন্য দরকার ছিল মাত্র ৩০ রান। ৩৬ বলে ২৩ রান করে আনকোলেকারকে ফিরতি ক্যাচ দেন আকবার। এরপর ২২তম ওভারের প্রথম বলে সুশান্ত মিশ্রকে অনর্থক মারতে গিয়ে উইকেট দেন ২৬ বলে ২১ রান করা মৃত্যুঞ্জয়। ২১.১ ওভারে ৭৮ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। জয়ের জন্য তখনো দরকার ২৯ রান। হাতে ২ উইকেট রেখে জয় থেকে ৬ রান দূরে থাকতে আম্পায়ারের ভুল এলবিডব্লিউর সিদ্ধান্তের খেসারত দেয় বাংলাদেশ। আউট হয়ে যান ৩৫বলে ১২ রান করা তানজীম।

টিভি রিপ্লেতে দেখা গেছে, আনকোলেকারের বলটি তার ব্যাটে লেগেছিল। এমনকি টিভিতেই বল ব্যাটে লাগার শব্দ শোনা গেছে। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে আউট ঘোষণা করেন আম্পায়ার। মাঝে দুই বল পর শেষ উইকেট তুলে নেন আনকোলেকার। এর মাধ্যমেই প্রথমবার অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ ফাইনালে উঠেই বাংলাদেশের যুবাদের শিরোপা জয়ের স্বপ্নের অপমৃত্যু ঘটে।