আমার স্বামী অক্ষম, তার কোন যৌন ক্ষমতা নেই: সাবেক স্ত্রী

Img

বাগেরহাটের মোংলায় শিশু ধর্ষণ মামলার যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আব্দুল মান্নানের সাবেক স্ত্রী আমেনা বেগম দাবি করেন, তার সাবেক স্বামী এমন কাজ করতে পারে না। তিনি বলেন, আমার স্বামী শারীরিকভাবে অক্ষম। সে কিভাবে ধর্ষণ করে? যে মামলায় তাকে সাজা দেয়া হয়েছে, সে এ ধরনের কাজ করতে পারে না। 

আমেনা বেগম বলেন, আমার স্বামী শারীরিকভাবে অক্ষম, তার কোন যৌন ক্ষমতা নেই। সে ষড়যন্ত্রের শিকার। আমি এ ঘটনার ন্যায় বিচার চাই।

আমেনা বলেন, শারীরিকভাবে অক্ষম হওয়ায় বছরখানেক আগে আমি আব্দুল মান্নানকে ডিভোর্স দিয়েছি। স্থানীয় ইউপি সদস্য শত্রুতার জেরে এ মামলা করেছেন।

মামলার চার্জ গঠনের মাত্র সাত দিনের মাথায় সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপরে আব্দুল মান্নান সরদারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।

এ রায় ঘোষণা করেন বাগেরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ আদালতের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মো. নূরে আলম। এর আগে, এতো দ্রুত কোনো ধর্ষণ মামলার রায় হয়নি।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ৩ অক্টোবর বিকেলে মোংলার মাকোড়ডোন গ্রামের আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় এক শিশুকে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে প্রতিবেশী আব্দুল মান্নান সরদার। ওই রাতে মেয়েটির মামা মোংলা থানায় আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোংলা থানার এসআই বিশ্বজিত মুখার্জি ধর্ষণের সত্যতা পেয়ে আট দিনের মাথায় আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এপিপি রনজিৎ কুমার মণ্ডল বলেন, মামলাটি পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করেছে। এই সংক্ষিপ্ত সময়ে বাগেরহাটের আদালতে রায় ঘোষণার মধ্যে দিয়ে একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হলো।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার