আমার ছেলের করোনার কোন উপসর্গ ছিল না, তাহলে কেন ডাক্তাররা দেখল না?

Img

আমার ছেলের জন্ডিস হয়েছিল, রাতে দু-তিনবার বমি করে, এইছাড়া করোনার কোন উপসর্গ ছিল না, সর্দি-কাশি তো মোটেও হয়নি, তাহলে কেন ডাক্তার আমার ছেলেকে দেখল না, কেন হাসপাতালের বেডে ঠাই হলোনা। ৮/৯ ঘণ্টা হাসপাতালের মেঝেতে পড়ে থাকলেও কোন ডাক্তার আমার ছেলেকে দেখতে আসেনি। হাসপাতারের নার্সরা অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ করে বলে তোমার ছেলেকে এখান থেকে বের করো বলে তাড়িয়ে দিয়েছে। এমনকি মারতে উদ্যত হয়।

এদিকে ছেলের মৃত্যুর পর লোকজনকে জানাযা করতে আমাদের বাড়িতে আসতে বাধা দিয়েছে একটি মহল। গত ৪ দিন বাড়ী থেকে বের হতে পারছি না। দোকান-পাটে গেলে কেউ আমাদের কাছে কিছু বেচতেও চাচ্ছেনা  লোকজন আমাদের তাড়িয়ে দিচ্ছে। কি অপরাধ আমাদের। গত ৪ দিন না খেয়ে গ্যাছে, এখন রিপোর্ট এ আমার ছেলের তো করোনা ধরা পড়েনি, আজ ফাগ তুলে নিয়ে গেলো। এ কদিন কেউ আসেনি, তোমাদের সাথেই  তো ছালাম থাকতো, আমি কি ওকে জন্ম দিয়ে পাপ করেছিলাম ? 

৩ মে বিকালে তালার কর্মরত কয়েকজন সাংবাদিক প্রয়াত তরুণ সাংবাদিক আব্দুস সালাম(২৬)এর বাড়ীতে গেলে ছালামের ’মা নবীজান বেগম (৫০) অঝোরে কাঁদছিলেন আর কথা গুলো বলছিলেন। 

ছালামের পিতা সিরাজুল মোড়ল (৫৫) বলেন,  খুব কষ্ট করে শ্রমখেটে আজ ছেলেটাকে বি এ পাশ করিয়েছিলাম। আশা ছিল চাকুরী-বাকুরী করবে, সংসারের হাল ধরবে, আমাদের কষ্ট ঘুচবে।  কিন্তু আজ ছেলেও গেল বিনা চিকিৎসায়, আর সমাজে আমরা এক ঘরে হয়ে গেলাম। যারা করোনা হয়েছে বলছিল, তাদের এখন তোমরা কি করবা ?  

এসময় সাংবাদিকরা তাদের শান্তনা দেন এবং কিছু খাদ্য সামগ্রী ছালোমের পিতার হাতে তুলে দেন।  

উল্লেখ্য, গত ২৯ এপ্রিল বিকাল সাড়ে ৫ টায়  লিভার সিরোসিস (জন্ডিস) রোগে আক্রান্ত হয়ে এক প্রকার বিনা চিকিৎসায়  মারা যান, তালা উপজেলার বারুইহাটি গ্রামের সিরাজ মোড়লের পুত্র আব্দুস সালাম(২৬) তালা হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার রাজীব সরদার জানান, করোনা সন্দেহে তালা হাসপাতালের ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি টিম তার নমুনা সংগ্রহ করে এবং ঢাকায় প্রেরণ করা হয়। আমরা তার রিপোর্ট হাতে পেয়েছি, রিপোর্ট নেগেটিভ, ছালামের করোনা ছিলনা।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার