আবারও কঠোর পদক্ষেপ মালয়েশিয়ার

Img

কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ রোধে আবারও কঠোর পদক্ষেপ নিলো মালয়েশিয়া। কেএল, পুত্রাজায়া, সেলঙ্গর, সাবাহ, জোহর, মালাকা, পুলাউ পেনাং ও লাবুয়ান অঞ্চলে আবারো জারী করল ১৪ দিনের মুভমেন্ট কন্ট্রোল অর্ডার বা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন (এমসিও) ।

আজ বিকেল ০৬ টায় টেলিভিশনে জাতির উদ্যেশে দেওয়া এক বিশেষ ভাষণে দেশটির প্রধানমন্ত্রী তান সেরী মুহিউদ্দিন ইয়াসিন।

গত মার্চ মাসে সরকার প্রথমে সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৮৮ এবং পাশাপাশি পুলিশ অ্যাক্ট ১৯৬৭ এর অধীনে এমসিও আরোপ করে যা বিভিন্ন ক্রিয়াকলাপকে আচ্ছাদন করে। এই আদেশের পরে ধর্মীয়, খেলাধুলা, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক ক্রিয়াকলাপের জন্য সমস্ত গণ সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। সুপারমার্কেট, পাবলিক মার্কেট এবং বিভিন্ন জিনিসপত্র এবং সুবিধামত দোকানগুলি যা প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় জিনিসগুলি বিক্রি করে, ব্যতীত সমস্ত উপাসনা ও ব্যবসায়ের জায়গা বন্ধ ছিল।

তবে, বক্ররেখাটি সমতল হওয়ার সাথে সাথে সরকার ধীরে ধীরে শিথিল করে এবং বেশিরভাগ শিল্প খোলার চেষ্টা করে এবং বেশিরভাগ সামাজিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অনুমতি দেয়। শর্তসাপেক্ষ এমসিও, লক্ষ্যযুক্ত এমসিও এবং পুনরুদ্ধার এমসিওসহ বিভিন্ন ধরণের এমসিওর অধীনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছিল কিন্তু তৃতীয় দফায় করোনা সংক্রমণে প্রতিদিনই আক্রান্ত'র আক্রান্ত'র সংখ্যা দুই হাজুরের অধিক মানুষ।

সম্প্রতি এ সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়ানোর পর আবারও মুভমেন্ট কন্ট্রোল অর্ডার চালুর বিশয়ে সিদ্ধান্ত নিলো দেশটির সরকার। এমসিও চলাকালে গেলো বছরের মার্চের মতোই নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনে করতে হবে জনগণকে।

উল্লেখ্য তৃতীয় দফা করোনা সংক্রমণে বেশিরভাগই বিভিন্ন ফ্যাক্টরিতে ও নির্মাণ সাইটে কর্মরত অভিবাসী । মূলত অভিবাসীদের এই করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

তবে নতুন এ পদক্ষেপ দেশটির অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন মালয়েশিয়ার শিল্প কারখানার মালিকদের একাধিক সংগঠন।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী গত ২৪ ঘন্টায় মালয়েশিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে ২২৩২জন, মারা গেছে ০৪ জন ও সুস্থ্য হয়েছে ১০০৬ জন।

 এ নিয়ে সারাদেশে মোট আক্রান্ত'র সংখ্যা ১ লক্ষ ৩৮ হাজার ২ শত চব্বিশ, মারা গেছে ৫শ ৫৫ এবং এ পর্যন্ত মোট সুস্থ্য হয়েছে ১ লক্ষ ৯ হাজার ১শত ১৫ জন লোক।

স্বাস্থ্য মহাপরিচালক তান সেরী ডা. নূর হিশাম আবদুল্লাহ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে আরভি-নট (আর -0) হিসাবে পরিচিত - সংক্রামকতার হার ১.২ এ থাকলে মার্চ মাসে দৈনিক কোভিড -১৯ মামলার সংখ্যা আট হাজারে পৌঁছে যেতে পারে।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার