আজ ‘ধর্মতীর্থ গণহত্যা দিবস’

Img

আজ ১৮ অক্টোবর রোববার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কালীকচ্ছ ইউনিয়নের ‘ধর্মতীর্থ গণগত্যা দিবস’। ১৯৭১ সালের এই দিনে (১৮ অক্টোবর) ধর্মতীর্থ এলাকায় বর্বর পাকিস্তানি সেনা, রাজাকারসহ তাদের এ দেশীয় সহযোগীরা উপজেলার চুন্টা ও কালীকচ্ছ ইউনিয়নের শতাধিক নারী-পুরুষকে একত্র করে (যার অধিকাংশ সংখ্যালঘু) নির্যাতন করে গণহত্যা করে। এটি ধর্মতীর্থ গণগত্যা নামে পরিচিত।  

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭১ সালের ৬ অক্টোবর মহান স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় এক দল মুক্তিযোদ্ধা মাইন বিস্ফোরণ ঘটিয়ে উপজেলার কালীকচ্ছ ধর্মতীর্থ এলাকায় স্থানীয় রাজাকার প্রধান, সরাইল থানা শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান মুসলীম লীগ নেতা আবদুল মন্নাফ ঠাকুর ও তাঁর দোসর বর্বর পাকিস্থানি সেনা কর্মকর্তা (ক্যাপ্টেন) এ রহমান খানসহ কয়েকজন পাকসেনাকে হত্যা করে। 

যুদ্ধকালীন সরাইল থানা মুক্তিযোদ্ধা গ্রুপ কমান্ডার আবদুল্লাহ ভূইয়া বলেন, ‘আবদুল মন্নাফ ঠাকুর নিহত হওয়ার পর শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন তার জামাতা (ঘরজামাই) ফয়েজুর রহমান ওপফে সেলুর বাপ। তখন সেলুর বাপ এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েক করে। ৬ অক্টোবরের ঘটনার প্রতিশোধ নিতে সেলুর বাপের নেতৃত্বে ১৮ অক্টোবর ধর্মতীর্থ এলাকায় গণহত্যা চালায় পাক সেনারা। ওই দিন শতাধিক নরনারীকে (যার অধিকাংশ সংখ্যালঘু) হত্যা করা হয়।’ এটি ধর্মতীর্থ গণগত্যা নামে পরিচিত। গত বছর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দিবসটি পালিত হয়েছে।
 
প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ৩ সেপ্টেম্বর প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সরাইল উপজেলার সেই বধ্যভূমিটি সংরক্ষেণের জন্য সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। এটি সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে সরাইল উপজেলার কালীকচ্ছ ইউনিয়নের ধর্মতীর্থ নৌঘাটে অবস্থিত। এখানে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ হওয়া ৪৬ জনের তালিকাযুক্ত একটি নামফলক ছিল। গত বছরের ১০ জুলাই সন্ধ্যায় ওই বধ্যভূমি থেকে দুর্বত্তরা সেই নামফলক উধাও করে দেয়। এ নিয়ে গত বছর জুলাই মাসে ‘বধ্যভূমি থেকে উধাও শহীদদের নামফলক’ শিরোনামে বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। 

এর পর নড়ে চড়ে বসে প্রশাসন। ওই বছরের ৩ সেপ্টেম্বর প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ এস এম মোসা বধ্যভূমির ঠিক মাঝখানে একটি সাইনবোর্ড স্থাপন করেন। যাতে লেখা রয়েছে ‘১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকহানাদার বাহিনী কর্তৃক পরিচালিত গণহত্যার স্মৃতি বিজড়িত স্থান। এই স্থানের পবিত্রতা রক্ষা করার জন্য অনুরোধ করা হইল।’

পূর্ববর্তী সংবাদ

জন্মদিনের আগের দিন সুসংবাদ দিলেন তাহসান

আগামীকাল রবিবার ১৮ অক্টোবর তাহসানের ৪১তম জন্মদিন। 

জীবনের বিশেষ দিনটির আগের সন্ধ্যায় তিনি নিজেই করোনা থেকে মুক্ত হওয়ার সুখবর জানালেন। 

তিনি আজ শনিবার ফেসবুকে এক পোস্টে লিখেছেন, 'একটু প্রশান্তির হাসি আর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ। কোভিড টেস্ট নেগেটিভ এসেছে, এজন্যে প্রশান্তির হাসি।'

এর আগে ৯ই অক্টোবর জনপ্রিয় গায়ক ও অভিনেতা তাহসান রহমান খান সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বার্তা পাঠিয়ে জানিয়েছিলেন তিনি করোনায় আক্রান্ত।

গায়ক হিসেবেই শোবিজে যাত্রা তাহসান খানের। বেশ কিছু গান দিয়ে লাখো শ্রোতার হৃদয় জয় করেছেন তিনি। 

এরপর তাঁকে দেখা যায় মডেল হিসেবে। তবে গেল কয়েক বছর ধরেই তিনি নাটক-টেলিছবির ব্যস্ত অভিনেতা। প্রশংসা পেয়েছেন চলচ্চিত্রে অভিনয় করেও।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার