আজ ২ আগস্ট বিশ্ব বরেণ্য বিজ্ঞানী স্যার আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় (পিসি রায়) ১৫৮ তম জন্ম বার্ষিকী। এ উপল্েয খুলনা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিজ্ঞানীর আর্চায প্রফুল্লু চন্দ্র রায়ের গ্রামের বাড়ি পাইকগাছার রাড়–লীতে দিনব্যাপী বিভিন্ন  কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়েছে। কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে, বিজ্ঞানীর প্রতিকৃিততে পুষ্পমাল্য অর্পন, জীবন দর্শন, কর্মময় জীবন সম্পর্কিত তথ্যচিত্র প্রর্দশনী, আলোচনা সভা, শিার্থীদরে অংশগ্রহনে রচনা ও কুইজ প্রতিযোগীতা সহ বিভিন্ন র্কমসূচী।

উল্লেখ্য, বিজ্ঞানী আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় ১৮৬১ সালের ২ আগস্ট খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার রাড়–লী গ্রামে জন্মগ্রহণ করনে। তার পিতার নাম হরিশচন্দ্র রায় চৌধুরী ও মাতা ভুবন মোহনী দেবী। প্রফুল্ল চন্দ্র তার পিতার প্রতিষ্ঠিত স্কুলে বাল্য শিা লাভ করেন। এরপর পিতা - মাতা স্থায়ীভাবে কলকাতায় বসবাস শুরু করলে তিনি ১৮৭১ সালে হেয়ার স্কুলে ভর্তি হন, এরপর ১৮৭৪ সালে ভর্তি হন এ্যালবার্ড স্কুলে। সেখান থেকে এন্ট্রাস পাশ করেন। ১৮৯১ সালে মেট্্েরাাপলিটন ইনস্টিটিউিট থেকে এফএ পাশ করে বিএ পড়ার জন্য কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি হন। ১৮৮২ সালে গিলক্রাইস্ট বৃত্তিসহ ইংল্যান্ডের এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। এরপর ১৮৮৫ সালে বিএসসি ডিগ্রী  লাভ করনে। ১৮৮৭ সালে মৌলিক গবেষনামুলক প্রবন্ধে ডিএমসি উপাধি লাভ করেন এবং একই বছরে এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যামিক্যাল সোসাইটি সহ সভাপতি নির্বাচিত হন। সেখান থেকে সম্মানজনক ডক্টরেট ডিগ্রী নিয়ে ১৮৮৮ সালে ইউরোপ ঘুরে কোলকাতায় ফিরে আসেন। তিনি ১৮৮৯ সাল থেকে ১৯১৬ সাল পর্যন্ত ২৭ বছর কোলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ এবং ১৯৩৬ সাল পর্যন্ত ২০ বছর বিজ্ঞান কলেজে পালিত অধ্যাপক হিসবে শিকতা করেন। ১৯১২ সালে লন্ডন বার্কিংহাম বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মান জনক ডক্টরেট উপাধি প্রদান করে। এর আগে ১৮৯৫ সালে তিনি মারকিউরাস নাইট্রাইট আবিষ্কার করেন।

আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় ১৮৯২ সালে মাত্র ৮০০ টাকা মুলধন নিয়ে বেঙ্গল ক্যামিক্যাল প্রতিষ্ঠা করেন। কোম্পানিটির নাম করন করা হয় দি বেঙ্গল কেমিক্যাল এন্ড ফার্মাসিটিক্যাল। ১৯৩৭ সালে মানিকতলায় স্যার প্রফুল্ল চন্দ্র রিসোর্স সেন্টার ল্যাবরেটরি প্িরতষ্ঠা করেন। ১৯৩৪ সালে আচার্য্য দেব খুলনার সোনাডাঙ্গায় বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য  প্রফুল্ল চন্দ্র  কটন মিল .প্রতিষ্ঠা করেন। দেশভাগের পর এপিসি কটন মিলের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় খুলনা টেক্সটাইল মিল। ১৯০৮ সালে রাড়–লীতে সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাংক  প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি বাগেরহাটের পিসি কলেজে, খুলনা সিমেট্রি রোডে পিসি শিশু বিদ্যালয় সহ বিভিন্ন স্থানে অসংখ্যা শিাক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা ও অনুদান প্রদান করেন। পিসি রায়ের কর্মকান্ডে লন্ডনের ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভারতবর্ষের মহীশুর, বেনারস ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট উপাধীতে ভুষিত হন। ব্রিটিশ সরকার ১৯১২ সালে তাকে সিআইই এবং ১৯২৯ সালে নাইট উপাধীতে ভুষিত করেন। ১৯৪৪ সালের ১৬ জুন ৮২ বছর বয়েসে আচার্য্য দেব শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

বৃিটশ গোয়েন্দা দপ্তরে স্যার পিসি. রায়ের নাম লেখা ছিল “বিজ্ঞানী বেশে বিপ্লবী” হিসাবে। ১৯১৯ সালে ১৮ জানুয়ারী রাউলাট আইেেনর বিরুদ্ধে টাউন হলে চিত্তরঞ্জন দাসের সভাপতিত্বে এক সভায় স্যার পিসি.রায় বলেন, ‘আমি বৈজ্ঞানিক, গবেষনাগারেই আমার কাজ, কিন্তু এমন সময় আসে যখন বৈজ্ঞানিকদেরকেও দেশের আহ্বানে সাড়া দিতে হয়। আমি অনিষ্টকর এই আইনের তীব্র প্রতিবাদ করছি। বিভিন্ন সময় তিনি নিজের পরচিয় দিতে গিয়ে বলেন,“আমি বৈজ্ঞানিকের দলে বৈজ্ঞানিক, ব্যবসায়ী সমাজে ব্যবসায়ী, গ্রামীণ সেবকদের সাথে গ্রাম সেবক আর অর্থনীতিবিদদের মহলে অর্থনীতিজ্ঞ”। রসায়ন শাস্ত্রে অসামান্য অবদানের জন্য আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় দুনিয়া জুড়ে পরিচিত হন।