আইয়ুব বাচ্চুর ৫৮তম জন্মদিন আজ

Img

আইয়ুব বাচ্চু। বাংলা ব্যান্ড সংগীতের এক কিংবদন্তি পুরুষ। যাদের হাত ধরে দেশীয় ব্যান্ড সংগীত দাঁড়িয়েছে, তাদের একজন ছিলেন তিনি। আশির দশক থেকে গানে, সুরে ও কথায় তিনি মন জয় করে চলেছেন বাঙালি হৃদয়। বেঁচে থাকলে আজ ১৬ আগস্ট ৫৮ বছর পূর্ণ হতো কিংবদন্তি এই শিল্পীর।

২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর সকালে সবাইকে কাঁদিয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন তিনি। এখন আইয়ুব বাচ্চুকে ছাড়াই পালিত হবে তার জন্মদিন। ১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট চট্টগ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নন্দিত ব্যান্ড তারকা ও গিটার লিজেন্ড আইয়ুব বাচ্চুর। মৃত্যুর পর সেই চট্টগ্রামেই তাকে চিরশায়িত করা হয়েছে।

১৯৭৫ সালে স্কুলে পড়াকালীন আইয়ুব বাচ্চু গিটার বাজানো শিখিয়েছিলেন জেকব ডায়াজ নামে এক বার্মিজ, যিনি তৎকালীন সময়ে চট্টগ্রামে থাকতেন। এরপর ১৯৭৮ সালে কলেজ জীবনে সহপাঠীদের নিয়ে ‘গোল্ডেন বয়েজ’ নামে একটি ব্যান্ডদল গড়ে তোলেন। পরে সেটির নাম বদলে হয় ‘আগলি বয়েজ’। সেই দলের গায়ক ছিলেন কুমার বিশ্বজিৎ আর গিটার বাজাতেন আইয়ুব বাচ্চু। সে সময় তারা মূলত পটিয়ায় বিভিন্ন বিয়ের অনুষ্ঠানে ও শহরের ক্লাবগুলোতে গান করতেন।

১৯৮০ সালে আইয়ুব বাচ্চু ও কুমার বিশ্বজিৎ একসঙ্গে দেশের জনপ্রিয় এবং পুরনো ব্যান্ডদল ‘সোলস’-এ যোগ দেন। তার প্রথম গাওয়া গান ‘হারানো বিকেলের গল্প’। ১৯৯০ সাল পর্যন্ত বাচ্চু সোলস ব্যান্ডের সঙ্গে থাকতে পেরেছিলেন। কারণ ওই বছরই দলটি ভেঙে যায়। পরের বছর তিনি ‘লাভ রানস ব্লাইন্ড’ অর্থাৎ এলআরবি ব্যান্ডদল গঠন করেন। মৃত্যু পর্যন্ত তিনি এই দলটির মেইন ভোকাল ছিলেন।

সোলস-এ থাকাকালীন প্রকাশ হয় বাচ্চুর প্রথম একক অ্যালবাম ‘রক্তগোলাপ’। তবে তার সফলতার শুরু দ্বিতীয় অ্যালবাম ‘ময়না’র মাধ্যমে। ৪০ বছরের গায়কী জীবনে ১২টি ব্যান্ড, ১৬টি একক ও বহু মিশ্র অ্যালবাম প্রকাশ হয়েছে আইয়ুব বাচ্চুর। এসবের পাশাপাশি গান গেয়েছেন বেশ কিছু চলচ্চিত্রেও। তার অসংখ্য দর্শকপ্রিয় গানের তালিকায় সেই তুমি কেন অচেনা হলে, রূপালি গিটার, রাত জাগা পাখি হয়ে, কষ্ট পেতে ভালবাসি, মাধবী, ফেরারি মন, এখন অনেক রাত, ঘুমন্ত শহরে, বার মাস, হাসতে দেখ, এক আকাশের তারা, উড়াল দেব আকাশে-সহ আছে বহু নাম।

কিন্তু এই কিংবদন্তি শিল্পী আজ আমাদের মাঝে নেই। ২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর লাখো ভক্ত, পরিবার পরিজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান গিটারের জাদুকর আইয়ুব বাচ্চু। এদিন সকালে নিজ বাসায় তাকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মৃত্যুর মধ্যদিয়ে বাংলা ব্যান্ড সংগীতের জগত থেকে ঝরে পড়ে উজ্জ্বলতম এক নক্ষত্র। 
 

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার