অযত্ন ও অবহেলায় হারিয়ে যাচ্ছে শত বছরের পুরনো পাঁচবিবির কড়িয়া রাজবাড়ি

Img

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার লকমা জমিদার বাড়িটি রক্ষনাবেক্ষন ও সংস্কারের অভাবে আজ ইতিহাস থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে। জমিদার বাড়ীটি এলাকার মানুষের কাছে এখন শুধুই স্মৃতি।

জমিদার বাড়ীটি পাঁচবিবি থেকে প্রায় ৬/৭ কিলোমিটার পশ্চিমে বাংলাদেশ ভারত সীমান্ত পিলার ঘেঁষা মাত্র ৪ গজ দূরে পাঁচবিবি উপজেলার সীমান্তবর্তী কড়িয়া গ্রামে অবস্থিত। জনশ্রুতি আছে ধ্বংস প্রায় লকমা জমিদার বাড়িটি জয়পুর গর্ভমেন্ট স্টেটের অধীনস্থ ছিল এবং বাড়িটি কে কবে নির্মান করেছিল তার সঠিক ইতিহাস কারো জানা না থাকলেও অনেকের ধারনা প্রায় ৪/৫শ বছর আগে জমিদার হাদী মামুন চৌধুরী এটি নির্মাণ করেছিল।

তবে এর ইতিহাস যাই হোক না কেন, তবে লোকে মূখে এই জমিদার বাড়িটি নিয়ে নানা রকম কল্প কাহিনী শোনা যায়। জমিদার বাড়ীটি নির্মান (মিস্ত্রি) নকশার কাজ করেন অদূশ্য কয়েক জন ব্যক্তি, নির্মান কাজ শেষে এরকম বাড়ি আর যেন তৈরী করতে না পারে সে জন্য ঐ মিস্ত্রিদের হাতের কব্জি কেটে নেওয়া হয়। জমিদার চৌধুরী নাকি অত্যাচারীও ছিলেন। তৎসময়ে সাধারণ মানুয়ের যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা ছিল এই জমিদার বাড়ির সামনে দিয়ে। এ কারনে এলাকার নব বিবাহিতারা যখন এই পথ দিয়ে বউ নিয়ে যেতেন, তখন অত্যাচারী জমিদার চৌধুরী নব বধূকে তার কাচারী ঘরে এক রাত নিজের কাছে রাখতেন। কারো নাকি উপায় ছিল তার হাত থেকে রক্ষার।

জমিদার বাড়ি ও সীমান্ত ঘেঁষা যে ক্ষুদ্র খিরকি পুকুরটিতে রংধনুর মত পানির আকার ধারন করত। জমিদার চৌধুরীর অর্থ বিত্ত নাকি অলৌকিভাবে পাওয়া। সাধারণ অত্যাচারিত মানুষের অভিশাপে নাকি জমিদার বাড়িটির ভোর বেলায় ৩ তলা ভবনটির মধ্যে ১ তলা মাটির নিচে তলিয়ে যায়। নিচ তলায় পরিবারের সকল সদস্য ছিল। শুধু জমিদারের এক মেয়ে ২ তলায় ছিল। বাড়িটি তলিয়ে যাওয়ার সময় মেয়েটি তাদের ধন সম্পদ নেওয়ার জন্য ২ তলায় একটি রুমে ঢুকা মাত্র রুমের দরজাটি নাকি এমনিতেই বন্ধ হয়ে যায়। বন্ধ অবস্থায় রুমটি এখনও বিদ্যমান।

জমিদার বাড়িটি দেয়াল সংলগ্ন উত্তর পশ্চিম কোণে একটি ক্ষুদ্র খিরকি পুকুর আছে। পুকুরের পানি কালো। প্রায় ৩ একর জমির উপর দুইভাগে নির্মিত এ জমিদার বাড়ি। লোহার রড ছাড়াই শুধু ইট, চুন সুড়কি দিয়ে নির্মিত ৩ তলা ভবন। এ জমিদার বাড়ির এক তলা ইতি মধ্যে মাটির নিচে দেবে গেছে। বাড়িটিতে রয়েছে ২৫/৩০টি কক্ষ। যার ভিতর রয়েছে আরো ছোট্ট কুঠুরি। মূল বাড়ির পশ্চিমে রয়েছে হাতিশাল, ঘোড়াশাল আর পূর্বে রয়েছে একটি কাচারি বাড়ি সহ সবই ছিল এখানে। ক্ষনাবেক্ষনের অভাবে আজ শুধু কালের স্বাক্ষী হয়ে ধ্বংস প্রাপ্ত অবস্থায় নীরবে দাড়িয়ে আছে।

কিন্তু বর্তমানে এলাকার কিছু উদ্যোমী যুবক এটি পরিস্কার করে আবারো জমিদার বাড়িটিকে আর্কষনীয় করে তুলেছে। নিভূত পল্লীতে সীমান্ত ঘেঁষা প্রাচীন এই জমিদার বাড়িটি দেশি বিদেশি দর্শনার্থীদের কাছে আরো জনপ্রিয় করে তুলতে সরকারী বে-সরকারী সহায়তার মাধ্যমে এটি সংস্কার করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার লোকজন।

প্রতিক্রিয়া মন্তব্য শেয়ার