মালয়েশিয়ায় অবৈধ প্রবেশসহ অবস্থানরত অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে চিরুনি অভিযানে বিভিন্ন বাহিনী। মালয়েশিয়া জুড়ে অভিযানে প্রতিদিনই গ্ৰেফতার হচ্ছে বাংলাদেশি সহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসীরা। পাঁচটি মাস্টার প্লান অনুযায়ী দেশটির আনাচে-কানাচে অবস্থানরত বিদেশী নাগরিকদের কাগজপত্র চেক করা হবে।

বিগত দিনে পুলিশ ও ইমিগ্রেশন  দায়িত্বে থাকলেও নতুন করে যোগ করা হয়েছে সিটি কর্পোরেশন,অবসরপ্রাপ্ত সেনা, পুলিশ সহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সহ ইমিগ্রেশন এবং পুলিশের সহযোগিতায় চলবে এই অভিযান। যেখানেই বিদেশি শ্রমিকদের দেখা যাবে, সেখানেই অভিবাসন বিভাগের সদস্য ও স্থানীয় নাগরিকদের  উপস্থিতিতে যাবতীয় কাগজ পাতি চেক করা হবে। বৈধ কাগজ পাতি দেখাতে ব্যর্থ হলে সঙ্গে সঙ্গে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হবে ।

গত ৯ জুন মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তান শ্রী  মহিউদ্দিন ইয়াসিন অবৈধ প্রবেশ রোধ এবং দীর্ঘ দিন কাগজপত্র বিহীন অভিবাসিদের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি এই প্লানটি প্রকাশ করে। তিনি বলেন অবৈধ অভিবাসীরা আমাদের জন্য অনেক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবছরই অবৈধ অভিবাসীদের সংখ্যা বাড়ছে। দীর্ঘদিন বৈধ হওয়ার সুযোগ দিলেও সে সুযোগ কাজে না লাগিয়ে অবৈধভাবে অবস্থান করছে। আবার প্রতিনিয়ত বাড়ছে প্রবেশ। দিন বাড়ার সাথে সাথে অবৈধভাবে প্রবেশও রোধ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। 

স্থানীয় একটি দৈনিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বরাত দিয়ে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, যে কোন মূল্যে অবৈধ প্রবেশ এবং কাগজপত্র বিহীন অভিবাসিদের আমরা আইনের মুখোমুখি করতে বদ্ধপরিকর। 

মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চলছে গত প্রায় কয়েক বছর ধরেই। এ বছরেও এ পর্যন্ত আটক হয়েছে অন্তত পাঁচ হাজার বাংলাদেশীসহ ২৮ হাজার বিভিন্ন দেশের অভিবাসীরা।

২০১৭ সালে অবৈধ শ্রমিকদের বৈধ হওয়ার সুযোগ দিলে বহু বাংলাদেশি রেজিস্ট্রেশন করে প্রতারনার শিকার হয়। অনেকেই ফিরে গেছে এবং এখনো ভিসার আসায় আছেন। পেনাং শহরের একটি এজেন্টের মাধ্যমে বৈধ হওয়ার জন্য ফিঙ্গারপ্রিন্ট সহ ২ লক্ষ টাকা দিয়ে আজও ভিসা পায়নি কালাম সহ বহু বাংলাদেশি।

সম্প্রতি দেশটিতে সরকার পরিবর্তনের পর অবৈধ অভিবাসী-বিরোধী অভিযান আরও জোরদার হয়েছে।এমন পরিস্থিতিতে শুক্রবার দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে অবৈধ শ্রমিক বা অভিবাসীদের তাড়িয়ে দেয়ার কথা ঘোষণা করে একটি বিবৃতি দিয়েছেন।

উল্লেখ্য অবৈধ অভিবাসীদের বৈধ হওয়ার জন্য মালয়েশিয়া সরকার ২০১৭ সালে সুযোগ দেয়। শেষ হয় ২০১৮ সালের ৩০ শে আগস্ট। ঐ বৈধ হওয়ার সুযোগ পেয়ে বহু বাংলাদেশি রেজিস্ট্রেশন করে প্রতারনার শিকার হয়।

এদিকে মালয়েশিয়া প্রবাসীরা চান, নতুন শ্রম বাজার খোলার থেকে অবৈধ এবং আটক বাংলাদেশীদের জন্য বৈধতার সুযোগ সহ জেল জরিমানা ছাড়াই দেশে যাওয়ার জন্য বেবস্থা করা।চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৩ জুন পর্যন্ত ৫ হাজারের বেশি বাংলাদেশিসহ আটক করা হয় ২৮হাজার ২৮৬ জন।

মালয়েশিয়া অভিবাসন বিভাগের প্রধান দাতুক খায়রুল দাজামি স্থানীয় সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। গত ২৭ মে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই একটি অভিযানে অংশ নিয়ে অবৈধ অভিবাসীদের গ্রেফতারের প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করেন।

আটক হওয়া বিভিন্ন অভিবাসিদের মধ্যে ৫ হাজার ২৭২ জন বাংলাদেশিদের মধ্যে কতজন বাংলাদেশী এখনো জেলে আটক আছেন তার সঠিক সংবাদ জানা যায়নি। সেই সাথে আটক করা হয় ইন্দোনেশিয়ার ৮ হাজার ৬, মায়ানমারের ২হাজার ৩২৭, ফিলিপাইন ২ হাজার ২২, থাইল্যান্ডের ১ হাজার ২৭২, ইন্ডিয়ার ১ হাজার ২২৯, ভিয়েতনামের ৭৯৪, পাকিস্তানের ৭৭৫ জন। বাকিরা বিভিন্ন দেশের নাগরিক।

মালয়েশিয়া সরকারের বৈধ হওয়ার সুযোগ দিলেও প্রতারণার শিকার হয়ে অনেকেই বৈধতা না পেয়ে অবৈধ রয়ে যায়। এছাড়াও প্রফেশনাল ভিসায় এসে অবৈধ হয়ে যায় বহু বাংলাদেশি।