ঘুরে বেড়াতে যারা পছন্দ করে তাদের জন্য অল্প খরচ ও সময়ে ঘুরে আসার উত্তম স্থান ঘুলিয়খালী সী-বিচ। চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলায় অবস্থিত গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত। যদিও স্থানীয় মানুষের কাছে এই সৈকত মুরাদপুর বীচ নামে পরিচিত। “গুলিয়াখালী” নামটা শুনে অনেকে নাক সিটকাতে পারেন, কিন্তু আপনার ধারণা সম্পূর্ণ পাল্টে যাবে যদি আপনি অন্তত একবার অনিন্দ্য সুন্দর এই সমুদ্র সৈকতটি ঘুরে আসেন। 

গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত যেনো অপার্থিব শান্তিময় এক নৈস্বর্গিক সৈকত যা আপনাকে মুগ্ধতার আবেশে আটকে রাখবে অনেক দিন। সীতাকুণ্ড বাজার থেকে গুলিয়াখালি সি বীচের দূরত্ব মাত্র ৫ কিলোমিটার। অনিন্দ্য সুন্দর গুলিয়াখালি সী বিচ কে সাজাতে প্রকৃতি কোন কার্পণ্য করেনি। একদিকে দিগন্তজোড়া সাগর জলরাশি আর অন্য দিকে কেওড়া বন এই সাগর সৈকতকে করেছে অনন্য। কেওড়া বনের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া খালের চারিদিকে কেওড়া গাছের শ্বাসমূল লক্ষ করা যায়, এই বন সমুদ্রের অনেকটা ভেতর পর্যন্ত চলে গেছে। 

কিভাবে যাবেন গুলিয়াখালি:
ঢাকা থেকে এক্স এসি, ননএসি বাস ছাড়ে সায়দাবাদ বাস ষ্টেশন থেকে। আরামদায়ক এবং নির্ভর যোগ্য সার্ভিস গুলো হল এস.আলম, সৌদিয়া, গ্রীনলাইন, সিল্ক লাইন, সোহাগ, বাগদাদ এক্সপ্রেস, ইউনিক প্রভূতি। সবগুলো বাসই সীতাকুণ্ডে থামে। চট্টগ্রাম থেকে বাসগুলো মাদারবাড়ী, কদমতলী বাসষ্টেশন থেকে ছাড়ে। তা ছাড়াও অলঙ্কার থেকে কিছু ছোট গাড়ী ছাড়ে ( স্থানী ভাবে মেক্সী নামে পরিচিত) সেগুলো করেও আসা যাবে।

এছাড়া ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা দ্রুতগামী ট্রেন “ঢাকা মেইল” সীতাকুণ্ডে থামে। এটি ঢাকা থেকে রাত ১১টয় ছাড়ে এবং সীতাকুণ্ডে পৌঁছে পরদিন সকাল ৬.৩০ থেকে ৭টায়। অন্যান্য আন্তঃ নগর ট্রেনগুলো সরাসরি চট্টগ্রামে চলে যায়। শুধুমাত্র শিবর্তুদশী মেলার সময় সীতাকুণ্ডে থামে।

সীতাকুণ্ডের বাস স্ট্যান্ড ব্রীজের নিচ থেকে সরাসরি সিএনজি/অটো নিয়ে গুলিয়াখালি বীচের বাঁধ পর্যন্ত চলে যেতে পারবেন। রিজার্ভ ভাড়া নিবে ১৫০-২০০ টাকা। দরদাম করে নিবেন। সীতাকুণ্ড ফিরে আসার জন্যে আগে থেকেই সিএনজি চালকের নাম্বার নিয়ে রাখতে পারেন। অথবা যাওয়া আসাসহ রিজার্ভ করে নিতে পারেন। সন্ধ্যা হয়ে গেলে অনেক সময় ফিরে আসার সময় সিএনজি/অটো পাওয়া যায় না।

যদি সকালবেলা বের হন তাহলে সিএনজি স্ট্যান্ড থেকে হেটেই যেতে পারবেন বীচের ধারে; যদিও যাওয়ার রাস্তা কিছুটা পিছলা থাকবে। তাই জুতা খুলে হাতে নিয়ে হেটে যাবেন। যদি মনে করেন হেটে যাবেন না, তাহলে সেখানে স্থানীয় বোট পাওয়া যায়,  জন পতি ৩০ টাকা নিয়ে সাগর পাড়ে আপনাকে নামিয়ে দিয়ে আসবে। আপনি যেভাবে কম্ফট ফিল করেন সেভাবেই যাবেন। 

যদি হেটে যান তাহলে একটু খেয়াল করে দেখবেন লাল কাকরা দেখা যাচ্ছে। তবে তাদের কাছে আসা মাত্রই গর্তে লুকিয়ে যাবে তাই খুব সর্তকর্তার সাথে এগিয়ে যাবেন। সেখানে খুব বেশি সময় অবস্থান করা যায় না। কারণ দুপুরে পানিতে জোয়ার আসে, যার কারণে সর্ম্পূণ জায়গা পানিতে ভরে যায়। পানি আসা শুরু করলে ২০ মিনিটের মধ্যে স্থান ত্যাগ করার চেষ্টা করবেন।