বিধাতার কাছে দুটি অস্তর চক্ষু চেয়ে ছিলাম। 
গভীর সাধনায় লিপ্ত ছিলাম।
বিদঘুটে অন্ধকারে  কত ভয়ংকর পথ পেরিয়ে ছিলাম। 
ঢাকা থেকে কলিকাতা, 
আলিপুর অন্ধকার কারাগারে চিৎকারে করে কেদে ছিলাম। তারপর 
ইতিহাসের ছিন্ন পাতায় হামাগুড়ি। 
সালতানাত অফ দিল্লি 
সালতানাত অফ বেংগল 
মুসলিম সালতানাত অফ মহিশুর 
মুসলিম সালতানাত অফ কাশ্মীর
সালতানাত অফ নিজাম। 

ভারববর্ষের মুসলিম সালতানাতের ভগ্নাবশেষ দেখে কেদেছি।
বম্বে, আজমির, দিল্লি, নেপাল,  তারপর মাদ্রাজ কন্যাকুমারী  কলম্বো ঘুরে  মালদ্বীপ। 
আরব সাগরের সফেদ ফেনায় ভিজে ভিজে বাহরাইন। 
অত:পর দামাম থেকে সাহারা মরুভূমি হয়ে  তায়েফের পথে প্রান্তরে। অত:পর পবিত্র মক্কায়। 
মরু প্রান্তর আর উপ্ত্যকা পেরিয়ে একদিন মদিনায় গিয়েছিনু।
জায়নামাজে  কতো কেদেছিলাম।
শিকওয়া নয়, ইলতিজা করেছিলাম।
কিন্তু,  কেবল চরম চক্ষু দিলে প্রভু! 
শামুক শাবকের মতো 
শেওলায় ভেসে ভেসে জীবন নামের সমুদ্র তলদেশ থেকে বলছি।
দুটি অন্তরচক্ষু দাও!

শুধু একবার তোমায় দেখি।
দুনিয়ার পথে প্রান্তরে ছুটে ছুটে 
তোমার নিপুণ শিল্পকলা দেখেছি। 
চতুর শিল্পী হামেশা আড়ালে লুকিয়ে থাকবে?
কতো অচেনা পথে পথ হারিয়ে ছটফট করেছি। 
তুমি  দয়া কর প্রভু!
দুই স্কন্দের দুই নিরবাক মালাইকা।
তারা আমায় দেখে- সব কিছু লেখে।
আমি তাদের  দেখিনা।

কেবল কল্পনায় বিধাতার আলপনা একে চলি।
বিধাতার কাছে দুটি অস্তর চক্ষু চেয়েছিনু।
গভীর আঁধারে  যমদুতের প্রহর গুনছি আজও। 
যদি মায়াবী পরদা একবার দুলে উঠে। 
যদি হঠাত অন্তরচক্ষু খুলে যায়?