Loading

করোনাভাইরাস পরিস্থিতির সংবাদ

করোনাভাইরাস বা নোবেল করোনাভাইরাস কি?

করোনাভাইরাস একটি সংক্রামক ভাইরাস যার আরেক নাম ২০১৯-এনসিওভি এটি নিদুভাইরাস শ্রেণীর করোনাভাইরদা পরিবারভুক্ত করোনাভাইরিনা উপগোত্রের একটি সংক্রমণ ভাইরাস প্রজাতি। করোনাভাইরাস একই ধরনের অনেকগুলি ভাইরাসের একটি বৃহৎ পরিবার যা প্রাণী ও মানুষে সংক্রমিত হতে পারে। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে চীনের উহান নগরীতে এই নতুন ধরনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। ভাইরাসটি প্রথমে প্রাণী থেকে মানুষে সংক্রমিত হলেও বর্তমানে এটি বিবর্তিত হয়ে মানুষ থেকে মানুষে ছড়াতে সক্ষম।

ধারণা করা হচ্ছে উহান নগরীর হুয়ানান সামুদ্রিক খাদ্যের পাইকারি বাজারের দোকানদারদের মধ্যে প্রথম ভাইরাসটির সংক্রমণ ঘটে। এর আগে ২০০২ সালেও চীনদেশেই একই ধরনের জীবন্ত প্রাণী বিক্রির বাজার থেকে গুরুতর তীব্র শ্বাসকষ্টজনিত উপসর্গসমষ্টি সৃষ্টিকারী সার্স করোনাভাইরাসের সংক্রমণ, প্রাদুর্ভাব ও বিশ্বব্যাপী বিস্তার ঘটেছিল, এতে ৮৪৩৭ জন ব্যক্তি আক্রান্ত হয় এবং ৮১৩ জনের মৃত্যু হয়। করোনাভাইরাস ও একই গোত্রের ভাইরাস, তবে এটি সার্স ভাইরাসের মতো ভয়াবহ কিনা তা বিশেষজ্ঞরা গবেষণা করে দেখছেন।

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার উপসর্গ বা লক্ষণ

করোনাভাইরাস দেহে সংক্রমণের ২ থেকে ১০ দিনের মধ্যে উপসর্গগুলি প্রকাশ পেতে থাকে, যার মধ্যে অন্যতম জ্বর, অবসাদ, শুষ্ক কাশি, শ্বাস কষ্ট, গলা ব্যাথা (কিছু রোগীর ক্ষেত্রে এইসব সকল উপসর্গ দেখা গেলেও জ্বর থাকেনা)। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, কোনো ব্যক্তি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন কি না, তা বুঝতে ন্যূনতম ১০ দিন সময় লাগতে পারে। কারণ, লক্ষণ প্রকাশের আগে ভাইরাসটি ব্যক্তির গায়ে ২ থেকে ১০ দিন পর্যন্ত সুপ্তভাবে থাকতে পারে। ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার পর সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করালে পরবর্তীতে তীব্র সংক্রমিত হওয়ার পর শ্বাসকষ্ট ও অন্যান্য জটিলতা দেখা দে। রোগীদের রক্ত পরীক্ষা করে দেখা গেছে এই ভাইরাসের কারণে তাদের শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যা হ্রাস পায়। এছাড়া যকৃৎ ও বৃক্কের (কিডনি) ক্ষতি হয়।

এ পর্যন্ত রোগটির জন্য কোনও ঔষধ বা টিকা উদ্ভাবিত হয়নি। হাসপাতালে নিবিড় চিকিৎসা ছাড়া রোগ থেকে সেরে ওঠার উপায় নেই। যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আগে থেকেই কম, তাদের নিউমোনিয়া হয়ে মারা যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। সাধারণত বৃদ্ধদের মধ্যে ভাইরাসটির ক্ষতিকর প্রভাব বেশি দেখা গেছে। তবে এ পর্যন্ত ইনফ্লুয়েঞ্জার চেয়ে বেশি মারাত্মক হবার কোনও সম্ভাবনা দেখা যায়নি।

করোনাভাইরাস কিভাবে ছড়ায়?

প্রথমে প্রাণী থেকে মানুষে সংক্রমিত হলেও বর্তমানে এ ভাইরাসটি মানুষ থেকে মানুষে ছড়াচ্ছে। এটিও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সংস্পর্শের মাধ্যমে এক ব্যক্তি থেকে আরেক ব্যক্তিতে ছড়াতে পারে। মুখের হাঁচি, কাশি, লালা বা থুতু থেকে সরাসরি ভাইরাসটি এক ব্যক্তি থেকে আরেক ব্যক্তিতে সংক্রামিত হতে পারে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তি হাঁচি-কাশি দিলে বা ভাইরাসযুক্ত হাত দিয়ে ধরলে কাছাকাছি পৃষ্ঠতলে যেমন দরজার হাতলে, খাটের খুঁটিতে বা মুঠোফোনে ভাইরাস লেগে থাকতে পারে এবং সেখান থেকে পরোক্ষভাবে আরেকজন ব্যক্তির কাছে সেটি ছড়াতে পারে। এছাড়া, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর ক্লোমনালীবীক্ষণ বা শ্বাসনালীর থেকে নিঃসৃত ভাইরাসবাহী বাতাসে ভাসমান কণাগুলি অন্যদের সংক্রামিত করতে পারে।

আক্রান্ত হলে কীভাবে বুঝবেন?

করোনা ভাইরাস মূলত ফুসফুসে আক্রমণ করে। সাধারণত জ্বরের সঙ্গে শুকনা কাশি দিয়ে শুরু হয়। জ্বর ও কাশির এক সপ্তাহের মাথায় শ্বাসকষ্ট অনুভূত হয়। এসব লক্ষণ দেখা দিলে রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন হয়ে পড়ে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, এই ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির লক্ষণ প্রকাশ পেতে ১৪ দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এটাকে ইনকিউবেশন পিরিয়ড বলা হয়ে থাকে। অর্থাৎ রোগীর লক্ষণ প্রকাশের আগে এই ভাইরাস ব্যক্তির শরীরে এ সময় পর্যন্ত সুপ্ত অবস্থায় থাকতে পারে। জ্বর, কাশি, শ্বাস প্রশ্বাসের সমস্যাই মূলত করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের প্রধান লক্ষ্মণ।

করোনাভাইরাস এর চিকিৎসা কি?

এ পর্যন্ত রোগটির জন্য কোনও ঔষধ বা টিকা উদ্ভাবিত হয়নি। তবে টিকা আবিষ্কারে গবেষকেরা চেষ্টা করে যাচ্ছেন। কারণ এ ধরনের ভাইরাস এর আগে দেখা যায়নি। ফলে চিকিৎসকেরা এর আগপর্যন্ত এ ধরনের ভাইরাস সম্পর্কে অজ্ঞাত ছিলেন।

করোনাভাইরাস থেকে নিরাপদ থাকতে কী করবেন?

আইইডিসিআরের পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন, ''বিদেশ থেকে বাংলাদেশে এলে অন্তত ১৪দিন বাড়িতেই থাকুন। এ সময় কারো সঙ্গে মেলামেশা করবেন না।''

আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশীদের প্রতি আহবান জানিয়ে তিনি বলেছেন, ''বিদেশ থেকে আসা প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজনের ক্ষেত্রে আপনারা নিশ্চিত করুন যেন তারা অন্তত ১৪দিন বাড়িতেই থাকেন। তারা বাইরে বেরিয়ে এলে আপনারা বাড়িতে থাকার কথা মনে করিয়ে দিন।''

করোনাভাইরাসের আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণগুলো দেখা দিতে ১৪ দিন পর্যন্ত সময় লাগে। ফলে এই সময়টাতে সবাইকে স্বেচ্ছা কোয়ারেন্টিনে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। অর্থাৎ বাড়িতে একা থাকতে হবে, কারো সঙ্গে মেলামেশা করা যাবে না।

এই সময়ের মধ্যে ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার উপসর্গ দেখা দিলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হটলাইনে যোগাযোগ করতে হবে। সেখান থেকে নমুনা সংগ্রহ, চিকিৎসার ব্যাপারে পরামর্শ দেয়া হবে।

করোনাভাইরাস থেকে নিরাপদ থাকার উপায়

  • বাহিরে হ্যান্ড গ্লাভস এবং মাস্ক ব্যবহার করা।
  • বাস, ট্রেন বা এজাতীয় গণপরিবহনগুলো এড়িয়ে চলা।
  • কোনো কিছু খাওয়া কিংবা রান্না করার আগে ভালো করে ধুয়ে নেওয়া।
  • মাছ মাংস রান্নার সময় ভালোভাবে সেদ্ধ করা।
  • ঘরবাড়ি পরিষ্কার রাখা।
  • এই ভাইরাসে আক্রান্তদের সংস্পর্শে না যাওয়া।
  • বার বার হাত ধোয়া, হাত দিয়ে নাক-মুখ স্পর্শ না করা।
শেয়ার করুন: