সর্বশেষ সংবাদ

  1. ময়মিনসিংহ জাতীয়তাবাদী ফোরাম কর্তৃক জিয়াউর রহমান এর ৮২তম জন্মদিন পালন।
  2. গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য অনুকরণীয় হতে পারে মালয়েশিয়া
  3. মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে ট্রাভেল পাস ইস্যুতে কড়াকড়ি! সক্রিয় দালালরা
  4. মালয়েশিয়ায় ওয়েসিস কলেজের সমাবর্তন অনুষ্ঠিত
  5. মালয়েশিয়া পেরাক রাজ্যের কান্তানে জিয়াউর রহমানের জন্ম বার্ষিকী পালিত
  6. মা-বাবা হারা এই শিশুদের পাশে থাকবে প্রবাসীরা
  7. চট্টগ্রামে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সম্মেলন সম্পন্ন
  8. রাজশাহীর মদীনাতুল উলুম মাদরাসা ছাত্রাবাসকে তিনতলায় উন্নীতকরণ
  9. দাগনভূইয়ায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ সাংগঠনিক সম্পাদককে হত্যা
  10. মালয়েশিয়ায় এশিয়ান টিভির বর্ষপূর্তি পালন
প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের নিরাপত্তা কি এতই দুর্বল যে…

প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের নিরাপত্তা কি এতই দুর্বল যে…

প্রবাসীর দিগন্ত ডেস্ক

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আজ বুধবার রাজধানীর বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ আদালতে ৫-এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামানের আদালতে হাজিরা দেন।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হারুন-অর-রশিদ জাল দলিল তৈরি করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী। তাঁর দাবি, এই জাল নথির সপক্ষে আদালতে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন হারুন-অর-রশিদসহ পাঁচজন সাক্ষী।

বুধবার রাজধানীর বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ আদালতে ৫-এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামানের আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে এসব কথা বলেন এ জে মোহাম্মদ আলী। তিনি বলেন, মামলার নথি সম্পর্কে সাক্ষীরাও স্বীকার করেছেন যে তাঁরা মূল নথি পাননি। এতেই প্রমাণিত হয় যে এই মামলা মিথ্যা, বানোয়াট ও কল্পনা নির্ভর।

এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আদালতে হাজির হন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এরপর বেলা ১১টা ৪০ মিনিট থেকে তাঁর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বক্তব্য উপস্থাপন শুরু করেন আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী।

একে একে পাঁচজন সাক্ষীর সাক্ষ্য আদালতে তুলে ধরেন এ জে মোহাম্মদ আলী। এসব সাক্ষ্যকে ক্রুটিযুক্ত প্রমাণের পক্ষে নানা যুক্তি তুলে ধরেন তিনি। বলেন, মামলার এজাহারের তারিখ, অনুসন্ধানের তারিখ ও অভিযোগপত্র দেওয়ার সময় আইনের বিধান অনুযায়ী ৪৫ কার্য দিবসে তদন্তকাজ শেষ করার কথা। অথচ ৩৯৫ কার্যদিবস সময় নেওয়া হয়েছে, এই সময়ের মধ্যে জাল দলিল তৈরি করা হয় বলেও দাবি আইনজীবীর।

সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘আইনের বিধান অনুযায়ী যেভাবে অতিরিক্ত নথি তৈরির কথা তা সেভাবে করা হয়নি। নথির গতিবিধি–সংক্রান্ত বিধানও অনুসরণ করা হয়নি। এই মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী সাবেক মুখ্য সচিব কামালউদ্দিন সিদ্দিকীর ব্যক্তিগত সচিব সৈয়দ জগলুল পাশার এতিম তহবিল সংক্রান্ত নথি দেখার কোনো এখতিয়ারই ছিল না।’

‘মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হারুন-অর-রশিদ জাল নথি তৈরি করেছেন, আর এই জাল নথির সপক্ষে আদালতে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন হারুন অর রশিদসহ পাঁচজন সাক্ষী। রুলস অব বিজনেস মেনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিটি ডকুমেন্ট নিয়ম অনুযায়ী স্বাক্ষর ও সংরক্ষিত রয়েছে। অথচ সাক্ষীরা বলেছে, মূল কোনো নথি পাওয়া যায়নি। মূল নথি রেখে দুদক কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ নিজে ঘঁষা মাজা করে জাল নথি তৈরি করেছেন।’ যোগ করেন এই আইনজীবী।

এ জে মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের নিরাপত্তা কি এতই দুর্বল যে সেখানকার ডকুমেন্ট অন্য দপ্তরে যাবে? অথচ সেই দপ্তরের কর্মকর্তারা কিছুই বলতে পারবেন না। এখানে যে ডকুমেন্ট উপস্থাপন করা হয়েছে তা ব্যতিক্রম। এখানে ঘষামাজা আছে। একটি চেকেও কোনো স্বাক্ষর নেই। এ ছাড়া সাক্ষীরা নিজেরাই বলেছে মূল নথি আলমারিতে পাওয়া যায়নি। এটা কেমন কথা? একজন প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর কি এতই দুর্বল যে, এখানের নথিগুলো আলমারিতে সংরক্ষিত থাকবে না?’

খালেদা জিয়াকে ফাঁসাতেই দুদক নকল নথি তৈরি করেছে বলেও অভিযোগ করেন তাঁর আইনজীবী।

মামলার শুনানি শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘মিথ্যা বানোয়াট তথ্যের ওপর ঘষামাজা করে এ মামলা দায়ের করা হয়েছে। সুতরাং এ মামলায় সাজা হতে পারে না।’

মওদুদ আহমদ আরো বলেন, ‘১৯৯৩ সালের মামলা ২০০৮ সালে নতুন করে সৃজন করা হয়েছে। তারা যে কাগজগুলোতে ডকুমেন্ট লিখেছে তা রাষ্ট্রপতির দপ্তরের। অথচ ১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি ব্যবস্থা দেশে আর নাই। যে নথির উপর ভিত্তি করে খালেদা জিয়ার নামে মামলা হয়েছে। তা ভিত্তিহীন, ফ্রড। তারা বলেছে যে, মামলার মূল নথি পাওয়া যায়নি। জাল, মিথ্যা দলিল তৈরি করে তার উপর ঘষামাজা করে মামলা দেওয়া হয়েছে। নকল করে, জালিয়াতি করে যারা মিথ্যা মামলা, মিথ্যা সাক্ষী দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আমরা আদালতে দরখাস্ত করব।’

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, ‘বকশীবাজার বিশেষ আদালতে উপস্থিত বিএনপি চেয়ারপারসন হারুন সাহেবও চাকরি করেন নাই, আমিও করি নাই। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যারা চাকরি করত তারাই এসে সাক্ষী দিয়ে গেছে। ’

‘যাঁরা নথি তৈরি করেছেন, তাঁরা ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সালে খালেদা জিয়ার সঙ্গে কাজ করেছেন। আমরা স্বীকার করেছি যে নথির উপর ঘষামাজা আছে। রাষ্ট্রপতির জায়গায় প্রধানমন্ত্রী লিখেছে। কারণ তখনো প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে রাষ্ট্রপতির দপ্তরের কাগজ ব্যবহার হতো’, যোগ করেন কাজল।

৩২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করে মামলা করা হয়েছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, ‘আইনজীবীরা তো কৌশলী হন, তাই তাঁরা মামলাটাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য সৃজন কথাটা বলছে। তাঁরা বলছেন যে, মামলা সৃজিত করা হয়েছে।’

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া যুক্তিতর্ক আজ ষষ্ঠ দিনের মতো শুনানি শেষে আদালত আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত মুলতবি করেন।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় অপর একটি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মামলায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ছাড়া বাকি আসামিরা হলেন মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।